মুদ্রণ

বিডিনিউজডেস্ক.কম| তারিখঃ ৩১.০৩.২০১৯

 

ডিজেল ছেড়ে চার বছর পর তুলনামূলক সাশ্রয়ী গ্যাসে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করেছে সামিট মেঘনাঘাট বিদ্যুৎকেন্দ্র।

৩০৫ মেগাওয়াট উৎপাদনসক্ষম বিদ্যুৎকেন্দ্রটি গত ১১ মার্চ থেকে জ্বালানি হিসেবে গ্যাস ব্যবহার করছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটির এ রূপান্তরকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে বিপিডিবি। কারণ গ্যাস ব্যবহারের কারণে এখন কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ কিনতে আগের তুলনায় ৮৭ শতাংশ সাশ্রয় হবে বিদ্যুতের পাইকারি ক্রেতা বিপিডিবির।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ব্যক্তিখাতের কম্বাইন্ড সাইকেল (দ্বৈত জ্বালানি) বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো গ্যাসে পরিচালিত হবে এমনটাই চায় বিপিডিবি। এতে চুক্তিকালীন নির্ধারিত ক্যাপাসিটি চার্জ দিয়ে কম দামে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়।

সূত্র জানায়, দ্বৈত জ্বালানি ব্যবহারের ব্যবস্থা রাখতে বিদ্যুৎকেন্দ্রে বাড়তি অর্থ নিয়োগ করতে হয় বিনিয়োগকারীকে। ফলে ক্রয় চুক্তির সময় ওই ব্যয় তুলে নিতে ক্যাপাসিটি চার্জসহ প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের চার্জ বাড়িয়ে ধরা হয়, যা সিম্পল সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্রের তুলনায় বেশি।

বিপিডিবির সঙ্গে ২২ বছর মেয়াদি বিদ্যুৎ বিক্রয় চুক্তির ভিত্তিতে ২০১৪ সালে সামিট মেঘনাঘাট পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের (এসএমপিসিএল) বিদ্যুৎকেন্দ্রের সিঙ্গেল সাইকেল চালু হয়। ২০১৫ সালের জুনে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির কম্বাইন্ড সাইকেল কমিশনিং হয়। তবে দ্বৈত জ্বালানির ব্যবস্থা হলেও গত চার বছর ধরে ডিজেল ব্যবহার করেই সেখানে বিদ্যুৎ উৎপাদন হতো।

বিপিডিবির তথ্য মতে, গত অর্থবছরে (২০১৭-১৮) এসএমপিসিএলের প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ কিনতে সরকারের ব্যয় হয়েছে ১৯ টাকা ৮৭ পয়সা। যদিও একই সময়ে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ কিনতে বিপিডিবির খরচ হয়েছে গড়ে ২ টাকা ৪৭ পয়সা।

এ বিষয়ে সামিট মেঘনাঘাট পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক এএনএম তারিকুর রশিদের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে অসম্মতি জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সামিটের একটি সূত্র জানায়, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা থাকলেও প্রাপ্যতা না থাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস ব্যবহার করতে পারেনি সামিট। কেন্দ্রটির পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য দৈনিক প্রয়োজন ৫৫ এমএমসিএফ গ্যাস, যা গ্যাস বিতরণ কোম্পানির কাছ থেকে পাওয়া যায়নি।

সূত্র মতে, গত বছরের আগস্টে এলএনজি সরবরাহ শুরু হওয়ার পর নভেম্বরে বিদ্যুৎকেন্দ্রটিকে গ্যাসের বিষয়ে নিশ্চয়তা দেয় বিতরণ কোম্পানি তিতাস। একটি জ্বালানি থেকে অন্য জ্বালানিতে যেতে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে তিন মাস আগে প্রক্রিয়া শুরু করতে হয়। ওই প্রক্রিয়া শেষে সামিট মেঘনাঘাট বিদ্যুৎকেন্দ্র গত ১১ মার্চ থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস ব্যবহার শুরু করে। ২৬ মার্চ বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে ৪৩ দশমিক ৯ এমএমসিএফ গ্যাস জোগান দিয়েছে তিতাস।

জানতে চাইলে বিপিডিবির সদস্য (উৎপাদন) সাঈদ আহমেদ বলেন, ‘ফুয়েল পাস থ্রু’ নীতিতে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি থেকে বিদ্যুৎ কেনা হতো। তেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন করলে তেলের দাম দিতে হতো। আর এখন গ্যাসে উৎপাদন হলে গ্যাসের দাম দিতে হবে। তবে যেহেতু ডিজেল অয়েলের চেয়ে গ্যাস অনেক সাশ্রয়ী, ফলে ক্রেতা হিসেবে আমাদের জন্য (বিপিডিবি) ভালো হবে।