মুদ্রণ

বিডিনিউজডেস্ক.কম| তারিখঃ ০১.০৪.২০১৯

প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও তথ্যের অভাবে পোশাক খাত বাংলাদেশের শ্রমজীবী নারীদের উৎপাদনশীল শ্রম থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতে পোশাক শিল্পের নিট খাতে কর্মরত ১ লাখ ৮০ হাজার নারী শ্রমিকের মধ্যে আয়রন ও ফলিক অ্যাসিড ট্যাবলেট সরবরাহ করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ‘নিউট্রিশন অব ওয়ার্কিং উইমেনস (এনওডব্লিউডব্লিউ)’ শীর্ষক এ-সংক্রান্ত যৌথ প্রকল্পটি গতকাল উদ্বোধন করা হয়েছে। এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে নিট খাতের সংগঠন বিকেএমইএ ও নিউট্রিশন ইন্টারন্যাশনাল (এনআই)।

গতকাল রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে যৌথ প্রকল্পটি উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ এবং সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আবু সায়ীদ আল মাহমুদ স্বপন।

প্রকল্পটির আওতায় নিট খাতে কর্মরত নারী শ্রমিকদের পুষ্টি চাহিদা পূরণ, স্বাস্থ্য-সচেতনতা বৃদ্ধি ও রক্তশূন্যতা দূর করতে কাজ করা হবে।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন কানাডার রাষ্ট্রদূত বেনোয়া প্রিফেন্তে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাবিবুর রহমান খান, বাংলাদেশ ন্যাশনাল নিউট্রিশন কাউন্সিলের ডিরেক্টর জেনারেল ড. শাহ নাওয়াজ, এনআইয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্রায়ান হ্যারিগেন, আইএলওর কান্ট্রি ডিরেক্টর তুওমো পুতেনিন, এনআইয়ের কান্ট্রি ডিরেক্টর জাকি হাসান, বিকেএমইএর দ্বিতীয় সহসভাপতি ফজলে শামীম এহসান, সহসভাপতি (অর্থ) হুমায়ুন কবীর খাঁন শিল্পীসহ অন্য নেতারা।

প্রকল্পটি যৌথভাবে অর্থায়ন কররে বিকেএমইএ এবং গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা ‘এনওডব্লিউডব্লিউ’। প্রকল্পের আওতায় নিট খাতে কর্মরত ১ লাখ ৮০ হাজার নারী শ্রমিকের মধ্যে আয়রন ও ফলিক অ্যাসিড ট্যাবলেট সরবরাহ করা হবে। এর সঙ্গে আরো ৬০ হাজার পুরুষ শ্রমিকসহ মোট ২ লাখ ৪০ হাজার শ্রমিককে পুষ্টি চাহিদা পূরণ, পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্য সম্পর্কিত প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। ১৭ মাসে ৩০০টির বেশি নিট কারখানায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

প্রকল্প পরিকল্পনা অনুযায়ী বিকেএমইএ ২০ জন মাস্টার ট্রেইনার তৈরি করবে, যারা কারখানা পর্যায়ে প্রশিক্ষক তৈরি করবে। এ প্রশিক্ষকরা সাপ্তাহিক ভিত্তিতে কারখানার শ্রমিকদের আয়রন ও ফলিক অ্যাসিড সরবরাহ করবে। এছাড়া খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কিত পরামর্শ, পরিচ্ছন্নতা-বিষয়ক প্রশিক্ষণও প্রদান করা হবে এ প্রকল্পেগুর মাধ্যমে।

প্রধান অতিথি জাতীয় সংসদের হুইপ এবং সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আবু সায়ীদ আল মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ অতিক্রম করার পেছনে পোশাক শিল্প বড় অবদান রেখেছে। যেখানে ৭০ শতাংশই নারী।

প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও তথ্যের ঘাটতির কারণে দেশের পোশাক খাত উৎপাদনশীল শ্রম থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ প্রকল্প পোশাক শিল্পেগুর শ্রমিকদের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও পরিচ্ছন্নতা-বিষয়ক প্রশিক্ষণ এবং আয়রন ও ফলিক অ্যাসিড সরবরাহের মাধ্যমে উৎপাদনশীল শ্রমশক্তি গড়ে তুলবে।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে জানানো হয়, মধ্যম আয়ের দেশ থেকে উন্নত দেশে রূপান্তরে সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে নিট খাতের মতো শ্রমঘন শিল্পের শ্রমিকদের পুষ্টি চাহিদা পূরণ, স্বাস্থ্য-সচেতনতা বৃদ্ধি, পরিচ্ছন্নতা ও এ-সংক্রান্ত তথ্য অপরিহার্য। বিকেএমইএ ও এনআইয়ের এ যৌথ প্রকল্পের মাধ্যমে তা পূরণ হবে। বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে এনআই ২০ বছর ধরে কাজ করছে। নিট শ্রমিকদের পুষ্টি চাহিদা পূরণে বিকেএমইএর সঙ্গেও এনআই কাজ করে যাবে।