Nabodhara Real Estate Ltd.

Khan Air Travels

Star Cure

বিডিনিউজডেস্ক.কম| তারিখঃ ০৮.১০.২০১৯

ইউরো অঞ্চলের আন্ত ব্যাংক সুদহার (ইউরো ইন্টার ব্যাংক অফার রেট বা ইউরিবর) কমতে কমতে ঋণাত্মক ধারায় নেমে গেছে।

এতে ইউরো মুদ্রায় রক্ষিত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে লোকসান গুনছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই লোকসান কাটাতে ইউরো মুদ্রার রিজার্ভ থেকে বায়ার্স ক্রেডিট খাতে ব্যাংকের বিনিয়োগ তহবিল পুনরর্থায়নের জন্য ঋণ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। যেকোনো মুদ্রায় বিনিয়োগে ইউরো মুদ্রার এই ঋণ ব্যবহার করা যাবে। অর্থাৎ বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ইউরো মুদ্রায় ঋণ নিয়ে তা ব্যাংকগুলো নিজেদের অফশোর ইউনিট (ওবিইউ) কিংবা আন্ত ব্যাংকে যেকোনো মুদ্রায় বিনিময় (সোয়াপ অ্যারেঞ্জমেন্ট) করে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের বায়ার্স ক্রেডিট খাতের অর্থায়নে ব্যবহার করতে পারবে। মাত্র ১ শতাংশ সুদে এই ঋণ পাবে ব্যাংকগুলো। তবে গ্রাহকপর্যায়ে এই সুদের হার হবে আপাতত আড়াই শতাংশ।

মূলধনী যন্ত্রপাতি, শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামাল, সমুদ্রগামী নৌযান, কৃষি উপকরণ, লৌহ এবং অপ্রক্রিয়াজাত তেল, চিনি ও গম আমদানিতে সংশ্লিষ্ট খাতের উদ্যোক্তারা এক বছরের জন্য এই ঋণ নিতে পারবেন। রিজার্ভ থেকে ইউরো মুদ্রায় ঋণ দেওয়ার এসংক্রান্ত একটি খসড়া নীতিমালা চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরইমধ্যে এটি অনুমোদন করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর। চলতি সপ্তাহেই এ বিষয়ে সার্কুলার জারি করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, গত জুন পর্যন্ত ইউরো মুদ্রায় বাংলাদেশ ব্যাংকে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ১১ কোটি ৮০ লাখ ডলার। একই সময়ে দেশের অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটগুলো ইউরো জোনের বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ১৬ কোটি ৩৯ লাখ ডলারের ঋণ নিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, গড়ে ২ শতাংশ সুদে এসব ঋণ আনা হয়েছে, যা গ্রাহকপর্যায়ে ৩ থেকে সাড়ে ৩ শতাংশে অর্থায়ন করেছে ব্যাংকগুলো। এতে একদিকে ইউরো মুদ্রায় রক্ষিত রিজার্ভে লোকসান গুনছে বাংলাদেশ ব্যাংক, অন্যদিকে গ্রাহকপর্যায়ে ঋণের সুদ গিয়ে পড়ছে প্রায় সাড়ে ৩ শতাংশ। এ রকম পরিস্থিতিতে রিজার্ভের লোকসান কাটানো ও স্থানীয় উদ্যোক্তাদের কম সুদে ঋণ সুবিধা দিতে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

জানা যায়, গত ১ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় রিজার্ভ থেকে ইউরো মুদ্রায় ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে বলা হয়, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে সংঘটিত ইউপাস বা ডেফার্ড এলসির বিপরীতে স্থানীয় উদ্যোক্তারা ইউরো মুদ্রায় উচ্চ সুদে ঋণ নেওয়ার ফলে দেশের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রার বহিঃপ্রবাহ বাড়ছে। এই বহিঃপ্রবাহ রোধ করতে ইউরোতে বিনিয়োগ প্রস্তাব অনুমোদন করা হয় এবং বিভাগীয় পর্যায়ে একটি নীতিমালা করার সিদ্ধান্ত হয়।

এসংক্রান্ত খসড়ায় বলা হয়েছে, তফসিলি ব্যাংকগুলোর অফশোর ইউনিট থেকে বায়ার্স ক্রেডিট খাতে যেকোনো মুদ্রায় বিনিয়োগ তহবিল পুনরর্থায়নের জন্য এ তহবিল ব্যবহার করতে পারবে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক শুধু ইউরোতে এ তহবিলের অর্থ আকলন ও বিকলন করবে। বাংলাদেশ ব্যাংকে রক্ষিত ব্যাংকগুলোর এফসি ক্লিয়ারিং হিসাবে এসংক্রান্ত ছাড় করা অর্থ আকলন করা হবে। নির্দিষ্ট মেয়াদান্তে এই ছাড়ের অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে প্রাথমিকভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের এফসি ক্লিয়ারিং হিসাব বিকলনের মাধ্যমে আদায় করা যাবে। এফসি ক্লিয়ারিং হিসাবে পর্যাপ্ত স্থিতি না থাকলে সমপরিমাণ স্থানীয় মুদ্রা ব্যাংকের চলতি হিসাব থেকে বিকলন করা হবে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিয়ে বায়ার্স ক্রেডিটের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হলে বর্ধিত মেয়াদ পর্যন্ত ছাড় করা অর্থ সমন্বয়ে বিলম্বিত করা যাবে। এ সুবিধা নেওয়ার আবেদনের সঙ্গে প্রদত্ত ডিমান্ড প্রমিশরি নোট এ ক্ষেত্রে সহায়ক জামানত হিসেবে বিবেচিত হবে। ব্যাংকের আবেদন প্রাপ্তি সাপেক্ষে ছাড় করা অর্থের ওপর আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মার্ক-আপ ধার্য করা হবে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে নেতিবাচক ইউরিবর বিদ্যমান থাকলে এই মার্ক-আপ ১ শতাংশের বেশি হবে না।

ইসলামী ব্যাংকগুলো সীমিত মুদারাবা ভিত্তিতে এ তহবিল থেকে তারল্য সহায়তা নিতে পারবে। ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে প্রান্তিক গ্রাহকের জন্য প্রযোজ্য অল-ইন কস্ট (সব খরচ) নির্ধারিত হবে। এই তহবিল বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় লেনদেন নীতিমালার সংশ্লিষ্ট ধারা, অ্যাসেট লায়াবিলিটি ম্যানেজমেন্ট নীতিমালার ২০১৬ সালের ২ নম্বর সার্কুলার এবং লিক্যুইডিটি কাভারেজ রেশিও (এলসিআর) ও নেট স্টাবল ফান্ডিং রেশিও (এনএসএফআর) সংক্রান্ত ২০১৫ সালের ১ নম্বর সার্কুলার পরিপালন সাপেক্ষে ব্যবহৃত হবে।