Nabodhara Real Estate Ltd.

Khan Air Travels

Star Cure

বিডিনিউজডেস্ক.কম| তারিখঃ ২০.১০.২০১৯

রফতানি বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে রাশিয়া, ব্রাজিলসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার।

গতকাল বৈশ্বিক মুক্ত বাণিজ্যের প্রসারসংক্রান্ত এক সেমিনারে এ তথ্য জানান বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

ঢাকার গুলশানে একটি হোটেলে ‘ফোস্টারিং গ্লোবাল ফ্রি ট্রেড রিলেশনস’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করে কমনওয়েলথ অব ইনডিপেনডেন্ট স্টেট-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিআইএস-বিসিসিআই)। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাণিজ্যমন্ত্রী। সিআইএস-বিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট মো. হাবিব উল্লাহ ডনের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিষয়ের ওপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এ সংগঠনের উপদেষ্টা মঞ্জুর আহমেদ।

সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি মো. নজিবুর রহমান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন ও অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) শরিফা খান, রাশিয়ান ফেডারেশনের ঢাকা অফিসের ফার্স্ট সেক্রেটারি আন্দ্রেই ই. বেনকায়েভ, এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আবদুল মজিদ, সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো প্রফেসর মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মজিবুর রহমান।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে গেলে বিশ্ব বাণিজ্য প্রসারের জন্য বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট (এফটিএ) করার বিকল্প নেই। ২০২৪ সালে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হবে, এর তিন বছর পর এলডিসিভুক্ত দেশের বাণিজ্য সুবিধাগুলো আর থাকবে না। প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ব বাণিজ্যে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে বাণিজ্য সুবিধা বৃদ্ধি করতে হবে। বাংলাদেশ রফতানি বাণিজ্য বৃদ্ধির জন্য নতুন বাজার খুঁজছে। রাশিয়াসহ সিআইএসভুক্ত দেশগুলো এবং ব্রাজিলসহ মারকসভুক্ত দেশগুলোতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। এসব বাজারে তৈরি পোশাক পাঠানো সম্ভব হলে বাংলাদেশের রফতানি আয় কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে। উচ্চ শুল্কহারের কারণে বাংলাদেশ এসব দেশে পণ্য রফতানি করতে পারছে না।

এফটিএ স্বাক্ষর করা সম্ভব হলে সেখানে বাণিজ্য বৃদ্ধি করা সম্ভব এমন মত জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সে লক্ষ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশ এফটিএর মতো বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। এসব দেশে রফতানি বাণিজ্য শুরু করার জন্য সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। এর চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করে তা মোকাবেলা করার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এসব দেশের পাশাপাশি শ্রীলংকা, থাইল্যান্ড, ভুটানসহ বেশকিছু দেশের সঙ্গে এফটিএ স্বাক্ষর করার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। ব্রাজিল বাংলাদেশের তৈরি পোশাক নিতে চায়, তবে তারা স্থানীয় গরুর মাংস বাংলাদেশে পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগ নেই, আগে দেশের স্বার্থ রক্ষা করতে হবে। আমাদের সরকারের বিশেষ উদ্যোগ নেয়ার কারণেই বাংলাদেশে গরুর মাংস আমদানির প্রয়োজন হচ্ছে না। একটি দেশের সঙ্গে এফটিএ করার আগে দেশের শিল্প ও স্বার্থ রক্ষা করতে হবে। সবদিক বিবেচনা করে বিশ্ব বাণিজ্য প্রসারের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় দেশের সঙ্গে এফটিএ স্বাক্ষরের জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা হয়েছে।