Monday 1st of May 2017

সদ্য প্রাপ্তঃ

*** রোজা সামনে রেখে টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু ১৫ মে; ২৮১১ জন পরিবেশক ও ১৮৫ ট্রাকের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে চিনি * হাওরে বাঁধ নির্মাণে গাফিলতি থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সুনামগঞ্জে প্রধানমন্ত্রী * ফরিদপুরে ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়িতে প্রতিপক্ষের হামলা, সংঘর্ষে নিহত ১ * অর্থ মন্ত্রণালয়ের ‘ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান’ বিভাগের নাম এখন শুধু ‘আর্থিক প্রতিষ্ঠান’* সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় এক ইউপি চেয়ারম্যানের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার * নিউ ইয়র্কে মুক্তিযোদ্ধা ও আবৃত্তিশিল্পী কাজী আরিফের জানাজা, মরদেহ দেশে আসবে মঙ্গলবার

Bangladesh Manobadhikar Foundation

Khan Air Travels

পাওনা নিয়ে বিপিসি-বিমানের মনকষাকষি

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | তারিখঃ ০৯.০১.২০১৭

পাওনা নিয়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) মতবিরোধ নতুন কিছু নয়।

আবার পাওনার পরিমাণ নিয়েও দুই প্রতিষ্ঠানের দাবি দুই রকম। তবে সাদামাটাভাবে বলা যায়, পদ্মা অয়েল কোম্পানির পাওনা প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা বকেয়া পরিশোধ করছে না বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। আবার চলতি জানুয়ারি থেকে বাকিতে তেল দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে নগদ অর্থে জেট ফুয়েল কিনতে বিমানকে অনুরোধ করেছে বিপিসি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বিপিসির পরিচালক (বিপণন) মীর আলী রেজা জানান, বিমান এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা পদ্মা অয়েল কোম্পানির পাওনা রয়েছে। দ্রুত বকেয়া পরিশোধের জন্য জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের মাধ্যমে বিমানকে তাগাদা দেয়া হয়েছে।

তবে বিপিসি আর বিমানের বকেয়ার পরিমাণে গরমিল থাকার তথ্য জানিয়েছেন বিমানের মহাব্যবস্থাক (জনসংযোগ) শাকিল মেরাজ। তিনি জানান, গতবছর ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বিমানের কাছে পদ্মা অয়েলের পাওনার পরিমাণ ১ হাজার ৬৮ কোটি ৮৭ লাখ ২৫ হাজার ৫২৫ টাকা। কিন্তু বিপিসি বলছে, এসময় পর্যন্ত বিপিসির পাওনার পরিমাণ এক হাজার ৫৩৯ কোটি ১৬ লাখ টাকা। গত বছর ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বকেয়ার পরিমাণ এক হাজার ৮৪ কোটি ৮৭ লাখ ৯২২ টাকা।

বিপিসির দাবি, গতবছর ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ৩৬ কোটি টাকা বেশি পরিশোধ দেখিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। তবে বিষয়টি পরিষ্কার করতে বিমান এয়ারলাইন্সকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় চিঠি দিতে পারে বলে জানিয়েছে বিপিসি।

জানা গেছে, বিমানের কাছে জ্বালানি বাবদ ২০১৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত বকেয়ার পরিমাণ এক হাজার ৫৩৯ কোটি ১৬ লাখ টাকা। চলতি মাসের মধ্যে বকেয়া পরিশোধ করতে বিমান কর্তৃপক্ষকে তাগাদা দিয়ে একটি চিঠি দেয় বিপিসি। দ্রুত ওই বকেয়া পরিশোধ করে চলতি মাস থেকে নগদ টাকায় জেট ফুয়েল নিতে বিমানকে অনুরোধ করেছে বিপিসি। এদিকে পদ্মা অয়েল কোম্পানির হিসাবমতে অক্টোবর মাসে বিমান পরিশোধ করেছে মোট ছয় হাজার ৭৫২ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। অথচ অক্টোবরে পরিশোধিত অর্থের পরিমাণ ১০ হাজার ২৮৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা উল্লেখ করেছে বিমান কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, পদ্মা অয়েল থেকে চড়া দামে বাকিতে জেট ফুয়েল কিনে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। বিমানের জনসংযোগ কর্মকর্তা জানান, বিশ্বের কোনো দেশে রাষ্ট্রীয় এয়ারলাইন্স বিমানের মতো চড়া দামে জেট ফুয়েল কিনে না। পদ্মা থেকে আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়ে চড়া দামে জেট ফুয়েল কিনতে হয় বিমানকে। তাছাড়া জেট ফুয়েলের ওপর রয়েছে ১৫ শতাংশ ভ্যাট। এ কারণে বিমানের প্রায় ৫০ শতাংশ অর্থই ব্যয় হচ্ছে জেট ফুয়েল কিনতে।

বিপিসি জানায়, পদ্মা অয়েল কোম্পানি থেকে নগদে জেট ফুয়েল কেনে বলে তারা আন্তর্জাতিক দরে হ্রাসকৃত মূল্যে তেল সরবরাহ পায় বিমান ছাড়া অন্য সব দেশি-বিদেশি এয়ারলাইন্স। কিন্তু বাকিতে জেট ফুয়েল সরবরাহে পদ্মা অয়েলের সাথে বিমানের চুক্তি রয়েছে। তাই তাদের আন্তর্জাতিক বাজার দরের চেয়ে বেশি দামে জেট ফুয়েল কিনতে হয়। আর এ ক্রয়মূল্যের ওপর ভ্যাটসহ অন্যান্য করও আরোপ হয় বেশি মাত্রায়। সব মিলিয়ে বিমানের খরচ বাড়ে।

সূত্রটি জানায়, বিপিসি এখন বিমান বাদে দেশি-বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর কাছে প্রতি লিটার জেট ফুয়েল শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দশমিক ৮২ ইউএস ডলার এবং ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দশমিক ৮৫ ইউএস ডলারে বিক্রি করছে। আর বিমানকে পদ্মা অয়েল জেট ফুয়েল দিচ্ছে যথাক্রমে প্রতি লিটার ৮৩ ও ৮৪ টাকায়। এছাড়া ভ্যাট তো আছেই।

বিপিসির এক কর্মকর্তা জানান, বিমানের কাছ থেকে বকেয়া টাকা আদায়ে অনেক দেন-দরবার ও চিঠি আদান-প্রদান হয়েছে। কিন্তু ফল হচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে উভয় সংস্থার মধ্যে চলছে টানাপোড়েন। জানা গেছে, বিমানের রয়েছে ১৯টি আন্তর্জাতিক রুট। জ্বালানি তেল ছাড়াও উড়োজাহাজের ইজারা ও ভাড়া বাবদ প্রতিমাসে তাদের পরিশোধ করতে হয় বিপুল পরিমাণ অর্থ। সব মিলিয়ে প্রতিবছর লোকসান গুনে সংস্থাটি।