Sunday 26th of February 2017

সদ্য প্রাপ্তঃ

***পাইপে পড়ে শিশু জিহাদ নিহত হওয়ার মামলায় চারজনের ১০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ***

Bangladesh Manobadhikar Foundation

Khan Air Travels

চিনি হয়ে যাচ্ছে গুড়

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | তারিখঃ ১০.০১.২০১৭

অগ্রহায়নের শুরু থেকেই রাজশাহীর চারঘাট, বাঘা, পুঠিয়া ও দুর্গাপুরসহ বিভিন্ন অঞ্চলে চলছে খেজুরের গুড় তৈরির কাজ।

নবান্নের অন্যতম অনুষঙ্গ হওয়ায় গ্রামীণ ঐতিহ্যে গুড়ের কদর সার্বজনীন। তাই মৌসুম জুড়েই রমরমা থাকে খেজুরের গুড়ের কারবার। ক্রেতা আকর্ষণ বাড়াতে এখন সুস্বাদু এ গুড়ে মেশানো হচ্ছে ক্ষতিকর রং, ফিটকারি, হাইডোজ, ডাল্ডাসহ বিভিন্ন কেমিক্যাল। আর গুড়ের ওজন বাড়াতে মেশানো হচ্ছে কম দামের চিনি।

৬৫ টাকা কেজি দরের চিনি খেজুর গুড়ে রূপান্তরিত হয়ে বিক্রি হচ্ছে ৭৫ থেকে ৮০ টাকা দরে। চিনি ও কেমিক্যাল মিশিয়ে ভেজাল গুড় তৈরির মহোৎসব চললেও তা তৈরি ও বিক্রি ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছেনা বলে অভিযোগ ক্রেতা সাধারণের। তাই দিনে দিনে সক্রিয় হয়ে উঠেছে ওই অসাধু চক্রটি। এদিকে সামান্য কিছু লাভের আশায় এসব অসাধু ব্যবসায়ীর কবলে পড়ে চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে রয়েছেন সাধারণ মানুষ।বাজারে চিনির চেয়ে গুড়ের দাম বেশি থাকায় এবং বেশি লাভের আশায় অসাধু ব্যবসায়ীরা ভেজাল গুড় তৈরিতে ব্যাস্ত হয়ে পড়েছেন। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়েই রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলার হাট-বাজারসহ বিভিন্ন গ্রামে বাড়িতে বাড়িতে গড়ে উঠেছে ভেজাল গুড় তৈরির কারখানা। পরে এসব ভেজাল গুড় ছড়িয়ে পড়ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। খেজুরের রস সংগ্রহ শুরুর আগ পর্যন্ত এ প্রক্রিয়ায় ভেজাল গুড় তৈরি অব্যাহত থাকবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। এরপরেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় ক্ষুদ্ধ ক্রেতা সাধারণ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দুর্গাপুর উপজেলার সিংগা বাজার, আমগাছী বাজার, কানপাড়া বাজার, পুঠিয়া উপজেলার বাণেশ্বর বাজার ও ঝলমলিয়া বাজার, পাশ্ববর্তী চারঘাট ও বাঘার বিভিন্ন বাজারে দেদারসে বিক্রি হচ্ছে চিনি মেশানো এসব ভেজাল গুড়। এমনকি বাজার থেকে পুরাতন গুড় কিনে বাড়িতে এনে ভালো করে জাল দিয়ে তার সাথে চিনি, হাইডোজ এবং রং মিশিয়ে পুণরায় গুড় তৈরি করে বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। গুড়ের রং চকচকে করতে মেশানো হচ্ছে হাইডোজ ও ফিটকারী সহ ক্ষতিকর রং। আর সেই গুড় বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৭৫ থেকে ৮০ টাকা দরে। এভাবে অসাধু ব্যবসায়ীরা লাভবান হলেও ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন ভোক্তা হিসেবে পরিচিত সাধারণ মানুষ। এই গুড় খেয়ে পেটের পীড়া জনিত রোগে ভূগছেন অনেকে।এ বিষয়ে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দেওয়ান নাজমূল আলম বলেন, ভেজাল গুড় তৈরির অন্যান্য সব উপাদানই মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। এতে বিভিন্ন বিষাক্ত কেমিক্যাল মেশানো থাকায় তা আর খাওয়ার উপযোগী থাকে না। এ ধরনের ভেজাল গুড় খেলে কলেরা, ডায়রিয়া, হজম শক্তি হ্রাসসহ পেটের পীড়া দেখা দিতে পারে। তাছাড়া খেজুর গুড়ে চিনি মেশানো হলে তাতে অ্যালকোহল থাকায় ঝিঁমুনি ভাব দেখা দিবে। এছাড়া কিডনী ও লিভারে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

তিনি আরো জানান, অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে বাজারে ভেজার গুড় বিক্রি করতে না পারে সে জন্য স্যানিটারী পরিদর্শককে দিয়ে বাজারে মনিটরিং করানো হবে। প্রয়োজনে ওইসব অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে শাস্তির মুখোমুখি করা যেতে পারে। তাতে করে ভেজাল গুড় বিক্রি অনেকটা কমে যাবে বলেও তিনি মনে করেন।এ প্রসঙ্গে কথা বলা হলে দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার সাদাত জানান, বাজারে ভেজাল গুড় বিক্রি হচ্ছে এ ধরনের সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ থাকলে তাৎক্ষনিক ভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে।