Friday 20th of January 2017

সদ্য প্রাপ্তঃ

***আগামী রোববার সন্ধ্যা ৬টায় জাতীয় সংসদে বক্তৃতা করবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ***

Bangladesh Manobadhikar Foundation

Khan Air Travels

শীতে সাগরে মাছ তেমন ধরা পড়ছে না

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | তারিখঃ ১২.০১.২০১৭

শীত বাড়ার সাথে সাথে বঙ্গোপসাগরে কক্সবাজার অংশে মাছের বিচরণও কমে গেছে।

এই অবস্থা আরো মাসাধিককাল চলবে বলে ধারণা মৎস্যজীবীদের। এ কারণে অধিকাংশ ট্রলারই এখন ঘাটে অবস্থান করছে। হাতে কোন কাজ না থাকায় অভাব-অনটনে দিন কাটছে জেলেদের।

কক্সবাজার জেলা ফিশিং বোট মালিক সমিতি সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার জেলায় প্রায় পাঁচ হাজার এবং সারাদেশে প্রায় ২৫ হাজার মাছ ধরার ট্রলার রয়েছে। যার মধ্যে বিহিন্দি জালের বোট সমুদ্র উপকূলের কাছাকাছি এবং ইলিশ জালের বোট গভীর সাগরে মাছ ধরে। বিহিন্দি জালের বোটে ৫/৭ জন এবং ইলিশ জালের বোটে ১৬ থেকে ২২ জন করে জেলে থাকেন।

কক্সবাজারের উপকূলবর্তী সমুদ্রে মাছ ধরে বিহিন্দি জাল বা ‘খুঁড়ি জালের’ ট্রলারগুলো। এসব ট্রলার দিনে গিয়ে দিনেই মাছ ধরে ফিরে আসে। মূলত এসব ট্রলার সাগর থেকে এক প্রকার চিংড়ি ধরে আনে। যাকে স্থানীয় ভাষায় ‘করত্যা ইছা’ বলা হয়। সে সাথে এসব ট্রলারের জালে আরো ধরা পড়ে রূপচান্দা, ছুরি, ফাইস্যা, মাইট্টা, গরুমাছ ও লইট্টাসহ বিভিন্ন প্রজাতির ছোট-বড় মাছ। তবে এসব ট্রলারেও ছোট ছোট ইলিশ ধরা পড়ে।

 

আবার এক সপ্তাহ বা পক্ষকালের রসদ নিয়ে গভীর সাগরে যাওয়া ট্রলারগুলো ইলিশসহ অন্যান্য বড় প্রজাতির মাছগুলো ধরে, যা বাজারে চড়া দামে বিক্রি হয়। কিন্তু গত মাসাধিককাল ধরে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার হার একেবারেই কমে গেছে। শীতের কারণে বঙ্গোপসাগরে মাছের প্রাচুর্য কমে গেছে বলে মনে করেন মৎস্যজীবীরা।

জেলা ফিশিং বোট মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মাস্টার মোস্তাক আহমদ বলেন, শীত মৌসুমে দুই মাস সাগরে খুব কম মাছ ধরা পড়ে। এসময়ে সাগর থেকে ধরা পড়া মাছ বিক্রি করে আহরণ খরচও তোলা যায় না। ফলে শীতকালে মাছ ধরতে জেলে-বহদ্দারদের মাঝে অনীহা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে কক্সবাজারে নব্বই শতাংশের বেশি মাছ ধরার ট্রলার ঘাটে রয়েছে বলে জানান তিনি।

দরিয়ানগর ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি নজির আলম জানান, গত এক মাস ধরে সাগরে মাছ ধরা না পড়ায় ট্রলারগুলো ঘাটেই অবস্থান করছে। হাতে কাজ না থাকায় জেলেরা অলস সময় কাটাচ্ছে। জেলে সমাজ পড়েছে চরম অভাব-অনটনে। কেউ কেউ ভিন্ন পেশায় জীবিকা নির্বাহের চেষ্টা করছে।

দরিয়ানগরের জেলে বাচ্চু ও ইউনুছ বলেন, গত এক মাস চরম অভাবে রয়েছি। সাগরে কোন মাছ ধরা পড়ছে না। ফলে দিন মজুরি করে বা রিক্সা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহের চেষ্টা চালাচ্ছি। কিন্তু তাও অনেক সময় সম্ভব হচ্ছে না। ফলে জেলে পরিবারগুলো এখন অভাবের তাড়নায় হাহাকার করছে।

সাগরে মাছ ধরা না পড়ায় কক্সবাজার শহরের ফিশারিঘাটের মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রেও প্রাণচাঞ্চল্য নেই। মাছের অভাবে ফিশারিঘাটের অধিকাংশ মৎস্য ব্যবসায়ী এখন ‘মাছি মারছে’ বলে মন্তব্য করেন মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির পরিচালক জুলফিকার আলী। তিনি বলেন, মাছ ধরার মৌসুমে যেখানে ফিশারিঘাটে প্রতিদিন ২শ’ টনের বেশি মাছ আসে। সেখানে গত মাসাধিককাল ধরে গড়ে ২০ টন মাছও আসেনি।

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে সাগরে ইলিশসহ অন্যান্য প্রজাতির মাছের দেখা মিলছে না বললেই চলে। তবে খুব কম পরিমাণে কয়েক প্রজাতির সুরমা বা মাইট্টা মাছ ধরা পড়ছে। সোমবার এই ধরনের মাত্র ১২ টন মাছ ফিশারিঘাট থেকে ঢাকায় পাঠানো সম্ভব হয়েছে বলে জানান জুলফিকার।

জানা যায়, সাগরে মাছ কম ধরা পড়ায় বাজারে এখন সামুদ্রিক মাছের চড়া দাম। এতে চাহিদা মত মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। বাজারে সামুদ্রিক মাছের সংকট দেখা দেয়ায় মৎস্য ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরাও হতাশ। ব্যবসায়ীরা বলেন, কক্সবাজারে বেড়াতে আসা পর্যটকদের কাছে তাজা সামুদ্রিক মাছ অন্যতম আকর্ষণের। বিশেষ করে রূপচান্দা ও ইলিশ। কিন্তু পর্যটকরা আগের মতো তৃপ্তি করে তাজা ইলিশ মাছের স্বাদ নিতে পারছেন না।