আজ রবিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৭

সদ্য প্রাপ্তঃ

*** ময়মনসিংহে সুটকেসের ভেতর যুবকের লাশ * ঢাবি অধিভুক্ত ৭ কলেজের মাস্টার্স পরীক্ষা স্থগিত * দিনাজপুরে বজ্রপাতে নিহত ৬ * দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়ছে 'সুপার ম্যালেরিয়া' * রিয়ালের পথের ইতি টানতে চান বেনজেমা * মধ্যবাড্ডায় অগ্নিকাণ্ডে মায়ের মৃত্যু, ২ সন্তান দগ্ধ * পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই: বাড়ছে ক্ষোভ, ঝিমিয়ে পড়া

Bangladesh Manobadhikar Foundation

Khan Air Travels

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | তারিখঃ ০৭.০৯.২০১৭

বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রসারে চট্টগ্রাম বন্দরকেন্দ্রিক কনটেইনার পরিবহনের পরিসরও বাড়ছে প্রতিনিয়ত।

বন্দর কর্তৃপক্ষের হিসাবে ২০১৯ সাল নাগাদ কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের সংখ্যা দাঁড়াতে পারে ৩০ লাখ ইউনিট। গত পাঁচ বছরে (২০১২-১৬) চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার ওঠানো-নামানোর সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ ইউনিট বেড়ে ২৩ লাখ ইউনিটে উন্নীত হয়েছে। চলতি বছর শেষে এ সংখ্যা ২৫ লাখ ইউনিট ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে শিল্প-কারখানার কাঁচামাল এবং মেগা প্রকল্পের যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম আমদানির কারণে কনটেইনার পরিবহনের হার দ্রুত বাড়ছে। কিন্তু সংখ্যাগত প্রবৃদ্ধি থাকলেও বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়ন সবসময়ই থেকেছে উপেক্ষিত।

২০১৬ সালে সারা বিশ্বের বন্দরগুলোয় কনটেইনার ওঠানো-নামানোর সংখ্যা হিসাব করে সম্প্রতি শীর্ষ ১০০টি বন্দরের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে লন্ডনভিত্তিক জার্নাল লয়েড’স লিস্ট। শিপিং বিষয়ক বিশ্বের সবচেয়ে পুরনো গণমাধ্যমটির এ তালিকায় চট্টগ্রাম বন্দরের নাম উঠে এসেছে ৭১তম অবস্থানে। লয়েড’স লিস্টের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৬ সালে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ২৩ লাখ ৪৬ হাজার ৯০৯ ইউনিট কনটেইনার পরিবহন করা হয়, যা আগের বছরের চেয়ে ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। কনটেইনার পরিবহনে সংখ্যার হিসাবে গত বছরের চেয়ে পাঁচ ধাপ এগিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৫ সালে কনটেইনার ওঠানো-নামানো হয় ২০ লাখ ২৪ হাজার ২০৭ ইউনিট (প্রতিটি ২০ ফুট দীর্ঘ কনটেইনার হিসাবে)। ২০১৪ সালের চেয়ে এ সময়ে কনটেইনার পরিবহন বেড়েছিল প্রায় ১৭ শতাংশ। ২০১৪ সালে ১৭ লাখ ৩১ হাজার ২১৯ ইউনিট কনটেইনার ওঠানো-নামানো হয়। ২০১৩ ও ২০১২ সালে এ সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ১৫ লাখ ৪১ হাজার ৫১৭ ও ১৪ লাখ ৬ হাজার ৪৫৬ ইউনিট। নিয়মিত চলাচলকারী প্রায় ৪০টি ফিডার জাহাজে (ছোট আকারের জাহাজ) করে এসব কনটেইনার বন্দরে আনা-নেয়া করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, সমুদ্রপথে কনটেইনার পরিবহনের ৯৭ শতাংশই আনা-নেয়া করা হয় চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে। বাকি মাত্র ৩ শতাংশ কনটেইনার পরিবহন হয় মংলা বন্দর ব্যবহারের মাধ্যমে। রফতানি পণ্যের প্রায় পুরোটাই পরিবহন হয় কনটেইনারে করে। আবার আমদানি পণ্যের মধ্যে সিংহভাগ শিল্পের কাঁচামালই আসে কনটেইনারে করে। চট্টগ্রাম বন্দরের মূল স্থাপনায় বর্তমানে ১৯টি জেটি রয়েছে। এর মধ্যে বন্দরে জাহাজ থেকে কনটেইনার ওঠানো ও নামানোর জন্য মাত্র ১৩টি জেটি রয়েছে। আর বাকি ছয়টি জেটি কনটেইনারবিহীন (খোলা পণ্যবাহী) জাহাজের জন্য বরাদ্দ রয়েছে। সর্বশেষ জেটি নির্মাণ করা হয় ২০০৭ সালে। এরপর আর কোনো জেটি নির্মিত হয়নি।

লয়েড’স লিস্টের তালিকায় ২০১৫ সালে কনটেইনার পরিবহনের দিক থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান ছিল ৭৬তম। বিশ্ববাণিজ্যে ধীরগতির কারণে ওই বছর অনেক বন্দরই কনটেইনার পরিবহনে ঋণাত্মক অবস্থায় ছিল। তবে সেরার তালিকায় স্থান পাওয়া ১০০টি বন্দরের মধ্যে ৩৬টি বন্দরে কনটেইনার পরিবহন কমলেও ব্যতিক্রম ছিল চট্টগ্রাম বন্দর। ২০১৪ সালে লয়েড’স লিস্টের তালিকায় চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান ছিল ৮৭তম।

চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম খালেদ ইকবাল বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ঊর্ধ্বগামিতার কারণে বন্দর দিয়ে কনটেইনার পরিবহন বাড়ছে। বাংলাদেশ এখন যেভাবে এগোচ্ছে ও যে বিশাল পরিসরে অবকাঠামোগত উন্নয়ন হচ্ছে, তাতে চট্টগ্রাম বন্দরের বর্তমান অবকাঠামো দিয়ে আমদানি-রফতানি সামাল দেয়া যাবে না। এজন্য ব্যাপক আকারে বন্দরের অবকাঠামো সম্প্রসারণের প্রয়োজন রয়েছে। সম্প্রতি এ কাজে হাত দেয়া হয়েছে। দক্ষতার সঙ্গে সুন্দর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ও পরিকল্পিতভাবে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে ২০২১ সাল নাগাদ চট্টগ্রাম বন্দর বিশ্বের প্রথম সারির ‘স্মার্ট পোর্ট’ হিসেবে রূপান্তর হবে।

লয়েড’স লিস্টের তালিকা অনুযায়ী, ২০১৬ সালে বিশ্বের সেরা ১০০টি বন্দর দিয়ে মোট ৫৫ কোটি ৪৯ লাখ কনটেইনার পরিবহন হয়েছে। বছরে এক কোটির বেশি কনটেইনার পরিবহন করা হয়, বিশ্বে এমন বন্দরের সংখ্যা ১৪। কনটেইনার পরিবহনে সেরা ১০০ বন্দরের তালিকায় শীর্ষস্থানে রয়েছে চীনের সাংহাই বন্দর। গত বছর এ বন্দর দিয়ে ৩ কোটি ৭১ লাখ কনটেইনার পরিবহন করা হয়। এ তালিকায় কেবল চীনেরই ২০টি বন্দর রয়েছে। এসব বন্দর দিয়ে পরিবহন করা হয়েছে ২০ কোটি ২৮ লাখ বা ৩৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ কনটেইনার।

তৈরি পোশাক শিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর বন্দর ও জাহাজীকরণ-বিষয়ক স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরকে ব্যবহার করে কনটেইনার পরিবহন প্রতি বছরই বাড়তে থাকবে। এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের অবকাঠামো সম্প্রসারণে মনোযোগী হতে হবে। এ ব্যাপারে অতীতের মতো আর গড়িমসি করা যাবে না। নয়তো এর মূল্য দিতে হবে দেশকেই।