আজ মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৭

সদ্য প্রাপ্তঃ

*** ময়মনসিংহে সুটকেসের ভেতর যুবকের লাশ * ঢাবি অধিভুক্ত ৭ কলেজের মাস্টার্স পরীক্ষা স্থগিত * দিনাজপুরে বজ্রপাতে নিহত ৬ * দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়ছে 'সুপার ম্যালেরিয়া' * রিয়ালের পথের ইতি টানতে চান বেনজেমা * মধ্যবাড্ডায় অগ্নিকাণ্ডে মায়ের মৃত্যু, ২ সন্তান দগ্ধ * পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই: বাড়ছে ক্ষোভ, ঝিমিয়ে পড়া

Bangladesh Manobadhikar Foundation

Khan Air Travels

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | তারিখঃ ১৭.০৯.২০১৭

মুক্তবাজার সূচকে গড়ের নিচে অবস্থান করছে বাংলাদেশ।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) প্রকাশিত ‘ওপেন মার্কেট ইনডেক্স-২০১৭’ (ওএমআই-২০১৭) প্রতিবেদনে দেখা গেছে, মুক্তবাজার সূচকে ৭৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৭০তম।

জানা গেছে, ২০১১ সাল থেকে ওপেন মার্কেট ইনডেক্স প্রকাশ করছে আইসিসি। সম্প্রতি এর চতুর্থ সংস্করণ প্রকাশ হয়। ৭৫টি দেশের অর্থনীতিকে ট্রেড ওপেননেস বা বাণিজ্য উন্মুক্ততা, ট্রেড পলিসি রেজিম বা বাণিজ্য নীতি ব্যবস্থা, এফডিআই ওপেননেস বা বিদেশী সরাসরি বিনিয়োগ-বিষয়ক উদারনীতি ও ট্রেড অ্যানাবলিং ইনফ্রাস্ট্রাকচার বা বাণিজ্য সহায়ক অবকাঠামো— এ চারটি মানদণ্ডে বিশ্লেষণের মাধ্যমে নির্মাণ করা হয়েছে সূচকটি। এসব মানদণ্ডের ভিত্তিতে ১-৬ নম্বরের মধ্যে স্কোরিং করা হয় দেশগুলোকে। প্রতিবেদনে দেশগুলোর সার্বিক গড় স্কোর এসেছে ৩ দশমিক ৬। এ স্কোরিংয়ের ভিত্তিতে দেশগুলোকে আবার মোট পাঁচটি শ্রেণী বা ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়।

এর মধ্যে ৫-৬ স্কোর পাওয়া দেশগুলোকে সবচেয়ে বেশি উন্মুক্ত বাজার বা প্রথম শ্রেণীর দেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।  গড়ের উপরে স্কোর পাওয়া দেশগুলোকে রাখা হয়েছে দ্বিতীয় শ্রেণীতে। এসব দেশের স্কোর ৪ থেকে ৪ দশমিক ৯৯-এর মধ্যে। তৃতীয় শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর স্কোর ৩ থেকে ৩ দশমিক ৯৯। চতুর্থ শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর স্কোর ২ থেকে ২ দশমিক ৯৯-এর মধ্যে। অন্যদিকে সবচেয়ে দুর্বল বা পঞ্চম শ্রেণীর দেশগুলোর স্কোর ১ থেকে ১ দশমিক ৯৯-এর মধ্যে।

ওএমআই-২০১৭ সূচকে বাংলাদেশের স্কোর এসেছে ২ দশমিক ৩। অর্থাত্ মুক্তবাজার বিবেচনায় সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ শ্রেণীতে। ৭৫টি অর্থনীতির মধ্যে বাংলাদেশের র্যাংক ৭০তম। চতুর্থ শ্রেণীতে বাংলাদেশসহ মোট ১২টি দেশ রয়েছে। এসব দেশের মধ্যে সূচকে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে থাকা দেশগুলো হলো— ভারত, উগান্ডা, কেনিয়া, আলজেরিয়া, আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল। দেশগুলোর র্যাংক পর্যায়ক্রমে ৬৪-৬৯তম। এবং স্কোর ২ দশমিক ৯ থেকে ২ দশমিক ৪-এর মধ্যে। এছাড়া সূচকে বাংলাদেশের তুলনায় পিছিয়ে থাকা দেশগুলো হলো— নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, ইথিওপিয়া, সুদান ও ভেনিজুয়েলা। দেশগুলোর র্যাংক যথাক্রমে ৭১-৭৫। এদের স্কোর ২ থেকে ২ দশমিক ৩-এর মধ্যে।

মানদণ্ডভিত্তিক স্কোরিংয়ে দেখা যায়, বাণিজ্য উন্মুক্ততায় বাংলাদেশের স্কোর ২ দশমিক ৫, বাণিজ্য নীতি ব্যবস্থায় ২ দশমিক ২, বিদেশী সরাসরি বিনিয়োগ-বিষয়ক উদারতায় ২ দশমিক ৬ এবং বাণিজ্য সহায়ক অবকাঠামোয় ১ দশমিক ৬। চারটি মানদণ্ড মিলিয়ে বাংলাদেশের সামগ্রিক স্কোর দাঁড়ায় ২ দশমিক ৩-এ।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মুক্তবাজার সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান খুব একটা অসামাঞ্জস্যপূর্ণ নয়; কারণ আমদানি-রফতানি বাণিজ্য উন্মুক্ততা বিবেচনায় দেশের পরিস্থিতি বর্তমানে নাজুক। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) এক গবেষণায় দেখা যায়, জিডিপিতে আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের অংশ ২০১০-১১ অর্থবছরে ছিল ৪৪ শতাংশ। ২০১৫-১৬ অর্থবছর এ অংশ কমে দাঁড়ায় ৩৪ দশমিক ৯ শতাংশে। সর্বশেষ ২০১৬-১৭ অর্থবছরে জিডিপিতে আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের অংশ নেমে এসেছে ৩২ দশমিক ৮ শতাংশে।

সিপিডির গবেষণায় বিশ্বের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর দিক থেকেও বাংলাদেশের নাজুক চিত্র উঠে আসে। সংস্থাটির মতে, ২০১০-১১ অর্থবছরে বাংলাদেশের এক্সটেন্ট অব গ্লোবাল ইন্টিগ্রেশনের হার ছিল ৫৫ শতাংশ। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে তা নেমে আসে ৪৩ দশমিক ৭ শতাংশ। আর গত অর্থবছরে বাংলাদেশের গ্লোবাল ইন্টিগ্রেশনের হার ৩৯ দশমিক ৭ শতাংশে নেমে এসেছে।

এ বিষয়ে সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বাংলাদেশে রফতানিনির্ভর আমদানি আগের চেয়ে কমেছে। এখন রফতানি শ্লথ হওয়ার কারণেই এটা হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে ট্রেড ওপেননেসের ধারাবাহিকতায়। মূলত বিশ্ববাণিজ্যের ধীরগতিরও প্রভাব পড়েছে ট্রেড ওপেননেসে। কারণ বাংলাদেশের রফতানি পণ্যের মূল্য কমে এসেছে। বাণিজ্য নীতি ব্যবস্থার ক্ষেত্রে বলা যায়, বর্তমানে অভ্যন্তরীণ শিল্পকে অগ্রাধিকার দেয়ার প্রবণতা আছে। ধারাবাহিকতা না থাকায় স্থানীয় উদ্যোক্তারা সরকারি এ নীতি থেকে সুবিধা নিতে না পারলেও বাজার উন্মুক্ততায় এ ধরনের নীতিগত দৃষ্টিভঙ্গি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম আরো বলেন, এফডিআইয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নীতি বা পদ্ধতি কাগজে-কলমে অনেকটা উদার হলেও প্রয়োগের ক্ষেত্রে ততটা উদার না। এ কারণে অনেক নিবন্ধন হলেও বিনিয়োগ হয় কম। বিদেশী বিনিয়োগকারীরা সুবিধা পেলেও তা বিনিয়োগের পরে দেয়ার নিশ্চয়তা দেয়া হয়। এ সুবিধাগুলো বিনিয়োগকারীরা প্রকল্প বাস্তবায়নের আগেই নিশ্চিত করতে চান। বাণিজ্য অবকাঠামোর দিক থেকেও বাংলাদেশের দুর্বল অবস্থা বাস্তব। উদাহরণ দিয়ে বলা যায়, অর্থনৈতিক অঞ্চল হলেও সেখানে জ্বালানি নিশ্চয়তা দেয়া সম্ভব হয়নি। সার্বিকভাবে বলা যায়, মুক্তবাজার ধারণায় যত দ্রুতগতিতে এগোনো দরকার, ততটা আমরা পারছি না।