আজ মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৭

সদ্য প্রাপ্তঃ

*** ময়মনসিংহে সুটকেসের ভেতর যুবকের লাশ * ঢাবি অধিভুক্ত ৭ কলেজের মাস্টার্স পরীক্ষা স্থগিত * দিনাজপুরে বজ্রপাতে নিহত ৬ * দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়ছে 'সুপার ম্যালেরিয়া' * রিয়ালের পথের ইতি টানতে চান বেনজেমা * মধ্যবাড্ডায় অগ্নিকাণ্ডে মায়ের মৃত্যু, ২ সন্তান দগ্ধ * পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই: বাড়ছে ক্ষোভ, ঝিমিয়ে পড়া

Bangladesh Manobadhikar Foundation

Khan Air Travels

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | তারিখঃ ১৯.০৯.২০১৭

ভ্যাট বাবদ সরকারের রাজস্বের প্রায় ৪০ শতাংশ জোগান দিচ্ছে বিভিন্ন খাতের ছয়-সাতটি প্রতিষ্ঠান।

ভ্যাট প্রদানে সেরা করদাতার পুরস্কারও পাচ্ছে তারা। শীর্ষ করদাতা এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেই আবার আছে বড় অংকের রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ। পেট্রোবাংলা, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ (বিএটিবি), গ্রামীণফোন, রবি, বাংলালিংক ও তিতাস গ্যাসের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত ২১ হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগে এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো কোনোটির বিরুদ্ধে মামলা করেছে এনবিআর। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে আবার পাওনা চেয়ে দাবিনামা পাঠানো হয়েছে।

এনবিআরের নজরদারির কারণেই বড় বড় প্রতিষ্ঠানের রাজস্ব ফাঁকির এ চিত্র উঠে আসছে বলে জানান এনবিআর চেয়ারম্যান ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগর জ্যেষ্ঠ সচিব মো. নজিবুর রহমান। তিনি বলেন, সঠিকভাবে রাজস্ব প্রদানকারী ব্যবসায়ীদের সর্বোচ্চ প্রণোদনা ও করখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। মামলায় আটকে থাকা রাজস্ব আদায়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে বেশ কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে। ভবিষ্যতে ফাঁকি রোধেও মাঠপর্যায়ে জোরালো পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এনবিআর থেকে সব পর্যায়েই নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

এনবিআরের তথ্যমতে, ভ্যাট খাতে এখন পর্যন্ত মোট ৩৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ রয়েছে। একক প্রতিষ্ঠান হিসেবে রাষ্ট্রায়ত্ত পেট্রোবাংলার কাছে বকেয়ার পরিমাণ সাড়ে ১৫ হাজার কোটি টাকা। ২০০৯-১০ থেকে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানি (আইওসি) উত্পাদিত গ্যাস বিতরণের বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটি এ রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে বলে অভিযোগ এনবিআরের। যদিও ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ভ্যাট খাতে মোট রাজস্বের ৬ দশমিক ৭২ শতাংশ বা ৪ হাজার ৫০৪ কোটি টাকার জোগান দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

পেট্রোবাংলার কোম্পানি সচিব সৈয়দ আশফাকুজ্জামান এ প্রসঙ্গে বলেন, পেট্রোবাংলার ভ্যাট বকেয়ার বিষয়টি এনবিআরের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি ও তথ্য গ্যাপের কারণে হয়েছে। ২০০৯-১৪ সাল পর্যন্ত গ্যাস বিতরণের বিপরীতে ভ্যাট কর্তন করতে হবে, পেট্রোবাংলার তা জানা ছিল না। পরবর্তীতে এনবিআরের পক্ষ থেকে ওই সময়ের ভ্যাট দাবি করা হলেও ভর্তুকি দিয়ে গ্যাস বিতরণ করায় এনবিআরকে তা পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ভর্তুকি বরাদ্দে বিষয়টি সমাধানের পথে রয়েছে। তবে বেশি দামে গ্যাস কিনে কম দামে বিক্রি করার কারণে বিদ্যমান ভ্যাট পরিশোধেও সরকারের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে পেট্রোবাংলাকে।

তামাক খাতের প্রতিষ্ঠান বিএটিবির কাছে এনবিআর পাওনা দাবি করেছে ২ হাজার ৪১৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২০০৯-১০ থেকে ২০১২-১৩ অর্থবছর পর্যন্ত মিথ্যা মূল্য ঘোষণায় ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক বাবদ ১ হাজার ৯২৪ কোটি টাকা ফাঁকি দেয়ার অভিযোগ তুলে মামলা করে এনবিআর। এ দাবিকে অযৌক্তিক উল্লেখ করে উচ্চ আদালতে কোম্পানির পক্ষে রিট করা হলেও সরকারের পক্ষে রায় আসে। তবে উচ্চ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আবার আপিল বিভাগে আবেদন করেছে কোম্পানিটি। আগামী ৫ অক্টোবর এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ উঠলেও একক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ভ্যাট বাবদ সরকারের কোষাগারে রাজস্ব জমায় শীর্ষে রয়েছে বিএটিবি। সর্বশেষ অর্থবছরে এনবিআরকে ১৩ হাজার ৯৫৫ কোটি টাকা পরিশোধ করে প্রতিষ্ঠানটি, যা এ খাতে আহরিত রাজস্বের ২০ শতাংশের বেশি। 

ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক বাবদ সরকারের কোষাগারে রাজস্ব প্রদানকারী শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম গ্রামীণফোন লিমিটেড। ২০১৬-১৭ অর্থবছরও দেশের শীর্ষ সেলফোন অপারেটরটি এ বাবদ ২ হাজার ২৯৬ কোটি টাকা সরকারের কাষাগারে জমা দিয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও রয়েছে ২ হাজার ২ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ।

২০১৬-১৭ অর্থবছর ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক বাবদ ৯৮৩ কোটি টাকা সরকারের কোষাগারে জমা দিয়েছে আরেক সেলফোন অপারেটর রবি আজিয়াটা। কোম্পানিটির বিরুদ্ধেও ১ হাজার ২১৮ কোটি টাকা ফাঁকির অভিযোগ করেছে এনবিআর। গত অর্থবছর ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক বাবদ ৮৫৪ কোটি টাকা পরিশোধকারী বাংলালিংকের বিরুদ্ধে রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ রয়েছে ১ হাজার ৯১ কোটি টাকা। সিম রিপ্লেসমেন্ট ও কল রেটের তথ্য গোপন এবং স্থান ও স্থাপনার ভাড়া বাবদ অপারেটরগুলো এ রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে বলে অভিযোগ এনবিআরের।

এ ব্যাপারে জানতে একাধিক সেলফোন অপারেটরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন ও পুরো খাতের হওয়ায় অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশের (অ্যামটব) সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেয় তারা। অ্যামটবের মহাসচিব টি আই নুরুল কবিরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মোবাইল কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে রাজস্ব ফাঁকির যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা এনবিআরের ভুল বোঝার কারণে। আইন অনুযায়ী রিপ্লেসমেন্টকৃত সিমের কোনো ট্যাক্স না থাকলেও এটিকে বিক্রি হিসেবে উল্লেখ করে ভ্যাট দাবি করছে এনবিআর। এনবিআরের সঙ্গে অনিষ্পন্ন বিষয়টি সমাধানে আদালত ও আদালতের বাইরে একাধিকবার চেষ্টা করা হয়েছে। বিষয়টি দ্রুত সমাধান করে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করতে আগ্রহী মোবাইল কোম্পানিগুলো।

রাজস্ব প্রদানে শীর্ষ তালিকায় থাকার পাশাপাশি ফাঁকির অভিযোগেও শীর্ষে থাকা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অন্যতম রাষ্ট্রায়ত্ত গ্যাস বিরতণ কোম্পানি তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড। ১ হাজার ৮৮০ কোটি টাকার রাজস্ব পরিশোধ করে ভ্যাট খাতে মোট রাজস্ব প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের তালিকায় ৫ নম্বরে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে গ্যাস বিতরণে পেট্রোবাংলার বকেয়ার বাইরে প্রতিষ্ঠানটি আরো হাজার কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে বলে অভিযোগ এনবিআরের।

এলটিইউর কমিশনার মো. মতিউর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, বড় করদাতারাই বিগত সময়ে সবচেয়ে বেশি রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে। শক্তিশালী মনিটরিংয়ের মাধ্যমে বর্তমানে ফাঁকি কমিয়ে আনা হয়েছে। তবে বিভিন্ন সময়ে ফাঁকি দেয়া এসব অর্থ আদায়ের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠানের কাছে দাবিনামা জারি করা হয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের বকেয়া আদায়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করা হচ্ছে।