Print

রিজার্ভ চুরিতে কাজ করে তিনটি দল

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | তারিখঃ ২০.০৪.২০১৬

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরির মূল হোতাদের মুখোশ উন্মোচনে তদন্তকাজের মাত্র ৩০ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফিলিপাইনের

তদন্তকারী দলের সদস্য সেন সেরজিও ওসমেনা। তিনি দাবি করেন, অর্থ চুরিতে তিনটি দল কাজ করে। এর মধ্যে প্রকৃত অর্থ পাচারকারী আছে তৃতীয় পর্যায়ে ফিলিপাইনের দলে।

ফিলিপাইনের পত্রিকা ইনকোয়্যারের অনলাইনে স্থানীয় সময় বুধবারের এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনা নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার ফিলিপাইনের সিনেটের ব্লু রিবন কমিটির ষষ্ঠ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিকালে তদন্তকারী দলের সদস্য সেন সেরজিও ওসমেনা তাঁদের তদন্তের অগ্রগতির সম্পর্কে সিনেটকে অবহিত করেন।

বাংলাদেশের পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক শাহ আলম গতকাল মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে অর্থ পাচারে জড়িত ২০ বিদেশিকে শনাক্ত করার কথা জানান।

সিআইডির কর্মকর্তা তদন্তের বিস্তারিত জানাননি। তবে যারা অর্থ লেনদেন করেছে, তাদের সন্দেহ করা হলেও হ্যাকারদের কথা উল্লেখ করা হয়নি।   

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনায় ২০ বিদেশিকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে বাংলাদেশের তদন্তকারী কর্মকর্তা জানিয়েছেন। এর মধ্যে ১২ জন ফিলিপাইনের ও আটজন শ্রীলঙ্কার নাগরিক বলে জানানো হয়েছে। 

ফিলিপাইনের সিনেটকে ওসমেনা বলেন, ‘(মূল হোতাদের মুখোশ উন্মোচনে) হয়তো (আমরা) ৩০ শতাংশ কাছে পৌঁছাতে পেরেছি। কেন? কারণ এখানে তিনটি দল জড়িত।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, হ্যাকাররা গত ৪ ও ৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরাপত্তাব্যবস্থা ভেঙে ব্যাংকটির যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে সঞ্চিত রিজার্ভের ১০০ কোটি ডলার চুরির চেষ্টা করে।

গত ৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়। এর মধ্যে ফিলিপাইনে প্রবেশ করে আট কোটি ১০ লাখ ডলার। বাকি প্রায় দুই কোটি ডলার যায় শ্রীলঙ্কা।

ওসমেনা বলেন, ‘তিনটি দলের মধ্যে প্রথম দলটি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে কোড ও তথ্য চুরি করে। এই দল অন্য দলের কাছে তথ্য বিক্রি করে। এর পর অন্য দল হ্যাংকিং করে।’

দ্বিতীয় দলটি নিউইয়র্কের ব্যাংকের কম্পিউটার হ্যাক করার দায়িত্ব পালন করে। এর পর তারা ফিলিপাইনে তৃতীয় পক্ষের কাছে অর্থ পাঠানোর ব্যবস্থা করে বলে ওসমেনা সিনেটকে জানান।

এ সময় সিনেটর বলেন, ‘প্রকৃত অর্থ পাচারকারী তৃতীয় পক্ষ, ফিলিপাইনের দল।’

এই পর্যায়ে ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাংকো সেন্ট্রাল এনজি ফিলিপিনাসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নেস্তোর ইসপেনিলাকে ওসমেনা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্ক অর্থ চুরির বিষয়ে ফিলিপাইন কর্তৃপক্ষের কাছে কেন জানতে চাইল না, সে বিষয়ে একটি অনানুষ্ঠানিক তদন্ত করুন।

এক সিনেটর বলেন, ‘আমরা ভুল খোঁজার চেষ্টা করছি না, আমরা প্রক্রিয়া চিহ্নিত করতে চাইছি।’

ইসপেনিলা জানান, তিনি ঠিক জানেন না যে কী কারণে ফেডারেল রিজার্ভ থেকে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলো না। তবে তিনি খবরে পড়েছেন, ফেডারেল রিজার্ভ এ বিষয়ে শুধু বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে কাজ করছে। 

এ সময় ওসমেনা বলেন, ‘আমি বিস্মিত যে একটি হিসাব থেকে প্রায় ১০০ কোটি ডলার চুরি হতে যাচ্ছিল, কিন্তু ফেডারেল রিজার্ভের তেমন কোনো উদ্যোগ নেই।’