Print

‘গার্মেন্টস খাতে সম্ভাবনার অভিমুখে যাত্রা করছে বাংলাদেশ’

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | তারিখঃ ২০.০৪.২০১৬

বাংলাদেশ একটি নতুন ভবিষ্যতের অভিমুখে যাত্রা করছে।

বাংলাদেশের গুণগতমানসম্পন্ন পোশাক শিল্প, নতুন নতুন শিল্প গড়ে ওঠা, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ এই শিল্পে বাংলাদেশের সম্ভাবনা ও অগ্রযাত্রার প্রতীক।
২৪-২৫ এপ্রিল ঢাকায় অলাভজনক সংস্থা বাংলাদেশ ডেনিম এক্সপোর্ট লিমিটেড- বিডিইএল (২০১৪) একটি ডেনিম ইভেন্টের আয়োজন করে যেখানে এশিয়ার উৎপাদশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরা হয়। এর প্রতিষ্ঠাতা মুস্তাফিজউদ্দীন বলেন, বাংলাদেশ একটি নতুন ভবিষ্যতের অভিমুখে যাত্রা করেছে।
তবে তার এ মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম স্পোর্টসওয়্যার ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশে রানা প্লাজা দুর্ঘটনা ও বাংলাদেশের টেক্সটাইল শিল্পে বিদ্যমান সমস্যা, বাংলাদেশ পণ্যের মান এবং উৎপাদন ব্যবস্থার জন্য প্রতিনিয়ত বহিবিশ্বের সমালোচনা তুলে ধরলে মুস্তাফিজউদ্দীন জানান, আমি মনে করি গঠনমূলক সমালোচনা শিল্পের ভুল সংশোধনের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। যদিও বাংলাদেশের পোশাক খাত অনেক প্রশংসনীয় এবং তা অবশ্যই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর তুলে ধরা প্রয়োজন। এটি আমাদের মানসম্পন্ন কাজ করতে উৎসাহিত করবে।
এছাড়াও বহুল আলোচিত ‘রানা প্লাজা’ দুর্ঘটনার কালো মেঘ রুপালী আস্তরণে ঢাকা। কারণ রানা প্লাজার বিপর্যয়ের পর এরকম ক্ষতি কাটিয়ে উঠে কারখানাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ব্যবসায়ী এবং নির্মাতারা অনেক চেষ্টা করছেন। কারখানাগুলোর পরিদর্শন প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে এ্যাকর্ড দ্বারা সম্পন্ন হয়েছে। অ্যালায়েন্স এন্ড ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান ৩ হাজার ৬৬৪টি ফ্যাক্টরি সংস্কার এবং ৩৭ টি ঝুঁকিপূর্ণ কারখানা বন্ধ করে দিয়েছে। তিনটি উদ্যোগে কারখানাগুলোর পরিদর্শন প্রক্রিয়া ‘বাংলাদেশের কারখানা পরিদর্শক ও স্থাপনা বিভাগ’ এর ওয়েবসাইটে সারা বিশ্বের জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা আছে। এখানে ২ হাজার ৫০০টি কারখানার পরিদর্শন প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
পরিদর্শনের পর কারখানাগুলো অনেক সংস্কার করে এখন পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে। ১ হাজার ২১৬ টি কারখানাকে ডিটেইল ইঞ্জিনিয়ারিং এসেসমেন্ট ( ডিইএ) এর পরামর্শ গ্রহণ করতে বলা হয়েছে । যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল সত্ত্বেও কারখানাগুলো এটি করেছে। তবে আমাদের অর্থায়নে কিছু সমস্যা আছে বিশেষ করে এসএমই কারখানাগুলোতে। আমি বায়ারদের অনুরোধ করব আর্থিকভাবে তাদের সাহায্য করার জন্য।
বাংলাদেশে ডেনিম এবং জিন্সের শো আয়োজন করা সম্পর্কে বিডিইএল এর স্বত্বাধিকারী মুস্তাফিজউদ্দীন বলেন, আমি চেষ্টা করেছি বাংলাদেশ ডেনিম এক্সপোর্ট লিমিটেড এবং এর অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ার লক্ষ্য সম্পর্কে তুলে ধরতে। আমি দেখেছি সারা বিশ্বে খুব কমই ডেনিম শো এর আয়োজন করা হয়। সব উদ্যোক্তারই নিজস্ব চিন্তাধারা, লক্ষ্য আছে। আমার উদ্দেশ্য বাংলাদেশের ডেনিম শিল্পকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা এবং আমি আমার সবচাইতে সেরাটি প্রদর্শনের চেষ্টা করেছি।
এ সময় সাংবাদিকের ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে ডেনিম শিল্পের অবস্থান কতটা টেকসই?’এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ডেনিম শিল্পের অগ্রগতি দেখানোই এই শো এর মূল উদ্দেশ্য। আমি এটি তুলে ধরতে চেয়েছি যে বাংলাদেশে বহুসংখ্যাক গার্মেন্টস শিল্প গড়ে ওঠেছে এবং সেগুলো সব সম্ভাবনাময় ইতোমধ্যে ২৬ টি ফ্যাক্টরি ইউনাইটেড স্টেট গ্রীন বিল্ডিং কাউন্সিল-ইউএসজিবিসি এর দ্বারা স্বীকৃত। অন্য ১০০ টি প্রতিষ্ঠান ইউএসজিবিসি-এর অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। বাংলাদেশের ডেনিম ফ্যাক্টরি ইকো বান্ধব শিল্প গড়ে তুলেছে এবং পূর্বের তুলনায় অনেক টেকসই। আমরা ডেনিম প্রতিষ্ঠানে ইউএসজিবিসি এর ১১০ রেটিং পয়েন্টের মধ্যে ৯২ পয়েন্ট অর্জন করেছি।

তবে একজন ডেনিম উৎপাদক হিসেবে অলাভজনক সংস্থা ডেনিম এক্সপোর্ট প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার উদ্দেশ্য টাকা আয় করা নয় আমি একটি উৎপাদনশীল খাতের অংশীদার হিসেবে আমার দেশের সম্মান এবং উন্নতি চাই। আমার পেশাদার জীবন কখোনোই গতানুগতিক ধারায় সীমাবদ্ধ ছিল না। আমি ছোটবেলা থেকেই আমার দেশ এবং মানুষের জন্য বিনিয়োগ করেছি। একসময় আমি টেক্সটাইল ব্যবসার উৎস খূঁজে বের করি এবং ডেনিম এক্সপার্ট লিমিটেড গড়ে তুলি। যা আজকে বাংলাদেশে একটি স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান। ডেনিম এক্সপো একটি অলাভজনক সংস্থা কারণ এর লক্ষ্য, বাংলাদেশের ডেনিম শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে উন্নত এবং কারখানায় কর্মীদের যোগ্য সম্মানের জন্য কাজ করা। এই প্রতিষ্ঠান ইকো এর মান রক্ষা করে এবং আমরা প্রমাণ করতে পারব যে বাংলাদেশ টেকসই উৎপাদনে কতটা সক্ষম, এটি আমার সুন্দর দেশকে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে।