Print

তেলের দাম বাড়লে ভাড়া বাড়ে, আর কমলে?

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | তারিখঃ ২৬.০৪.২০১৬

তেল বা গ্যাসের দাম বাড়লেই হু-হু করে বাড়তে থাকে গণপরিবহনের ভাড়া,

কিন্তু ভাড়া কমানোর ক্ষেত্রে যতো গড়িমসি।নানান অজুহাতের জন্ম দেন পরিবহণ মালিকেরা। অনেক আগেই বিশ্ববাজারে এবং সম্প্রতি বাংলাদেশে তেলের দাম কমলেও গণপরিবহনের ভাড়া কমাতে চাচ্ছেনা না মালিকরা। সাধারণ মানুষের সঙ্গে এ ধরণের প্রতারণার জন্য তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সমাজের বিভিন্ন স্থরের জণগন। জানা গেছে, সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে গত রবিবার সন্ধ্যায় গ্যাজেট প্রকাশ করে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি বিভাগ। গ্যাজেট অনুযায়ী, অকটেন ও পেট্রোলে লিটারপ্রতি কমেছে ১০ টাকা, সেই হিসাবে এই দুই জ্বালানি তেলের দাম হবে যথাক্রমে ৮৯ ও ৮৬ টাকা। আর ডিজেল ও কেরোসিনের দাম কমেছে লিটার প্রতি ৩ টাকা, সেই হিসাবে বাজারদর হবে প্রতি লিটার ৬৫ টাকা। মূলত ডিজেলের দামের ওপর নির্ভর করেই বাসের ভাড়া বাড়ানো হয়। অথচ এবার ডিজেলের দাম বাস ভাড়া কমাতে অনীহা মালিকদের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরিবহণ মালিক বলেন, শুধুমাত্র তেলের দামের ওপর বাস ভাড়া বাড়ানোর বিষয়টি নির্ভর করে না। অন্যান্য যন্ত্রাংশের দামের বিষয়টিও রয়েছে। তাই তেলের দাম কমলেই বাস ভাড়া কমানো সম্ভব নয়। এছাড়া গত কয়েক বছরে হরতাল অবরোধের ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার জন্যে পরিবহণ মালিকরা ভাড়া কমাতে চাচ্ছেন না বলেও জানা যায়। তবে ক্ষতি পূরণ হয়ে গেলে দাম কমবে কিনা এমন প্রশ্নের কোন সঠিক উত্তর পাওয়া যায়নি। অপরদিকে গত ৭ এপ্রিল সড়ক পরিবহণ সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ঘোষণা দিয়েছেন ‘তেলের দাম এক টাকা কমলে ভাড়া ১ পয়সা কমবে’। আনুপাতিক হারে তেলের দাম যত কমবে বাস ভাড়া তত কমবে। এদিকে, তেলের দাম কমানো, বাস ভাড়া অপরিবর্তিত থাকা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও চরম হতাশা বিরাজ করছে। তেলের দাম কমলেও এর প্রকৃত সুফল তারা পাবেন কী না তা নিয়ে রয়েছে আশঙ্কা? কারণ কখনোই এ সুফল পায়নি সাধারণ মানুষ। গত দুই দশকে বাস ভাড়া বেড়েছে ৪৬০ শতাংশ, সেই অনুপাতে ভাড়া কমেনি।

জাতীয় প্রেসক্লাব এর সামনে এটিসিএল পরিবহণের যাত্রী হায়দার খন্দকার বলেন, ‘এই বিষয়ে আমার কিছুই বলার নাই, বললেই বা কি হবে? সব কিছুরই শেষ চাপটা আমাদের সাধারণ মানুষের ওপরই পড়ে! আমাদের শুধু চাপটা নিতে হয়, সুফলটা ভোগ করে অন্যরা। এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ‘বিডি টোয়েন্টিফোর লাইভের’ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম আসাদ বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যতম ও প্রধান মাধ্যম সড়ক পরিবহণ ব্যবস্থা। আর এ পরিবহণ খাতে ভাড়া নিয়ে চলে মালিকদের চরম নৈরাজ্য। বিভিন্ন অযুহাতে ভাড়া যেমন বাড়ানো হয়, তেমনি তেলের দাম কমলেও ভাড়া না কমাতে দাঁড় করানো হয় নতুন নতুন যুক্তি। তিনি বলেন, বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে কর্তৃপক্ষকে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। পরিবহন মালিকরা কথা না শুনলে প্রয়োজনে আইনের প্রয়োগ ঘটাতে হবে। অর্থাৎ যে কোন উপায়ে গণপরিবহনে সাধারণ মানুষের অধিকার সুনিশ্চিত করতে হবে।