Saturday 3rd of December 2016

সদ্য প্রাপ্তঃ

***প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার পর উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় ট্যাংক-লরি-ট্রাক-কাভার্ডভ্যান মালিকদের ডাকা ধর্মঘট স্থগিত***

Bangladesh Manobadhikar Foundation

Khan Air Travels

UCB Debit Credit Card

বাস ভাড়া কমালে লোকসান গুণতে হবে মালিকদের
বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | তারিখঃ ২৭.০৪.২০১৬

রাজধানীর বনশ্রী থেকে কালশী যাওয়ার জন্য রবরব পরিবহনের একটি বাসে উঠেন আব্দুল হালিম নামে এক যাত্রী।

কিছুদূর যাওয়ার পর সুপারভাইজার যাত্রীর কাছে ভাড়া নিতে আসেন। হালিম তাকে ৩৫ টাকা ভাড়া দেন। সুপারভাইজার জানায় ভাড়া ৪০ টাকা। হালিম বলে তেলের দাম কমেছে সুতরাং ৪০ টাকার স্থলে ৩৫ টাকা নিতে হবে।
এবার হালিমের সঙ্গে যোগ দেন অন্য যাত্রীরাও। শুরু হয় তর্ক-বিতর্ক। পরে সুপারভাইজার যাত্রীদের জানায় এখনো ভাড়া কমানোর কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সিদ্ধান্ত হলে ভাড়া কম রাখা হবে। পরবর্তীতে যাত্রীরা আগের ভাড়া অর্থাৎ ৪০ টাকা দিয়ে যান।
শুধু এই রুটে নয়, এ অবস্থা এখন ঢাকার প্রতিটি রুটেই। ডিজেল, তেলের দাম লিটার প্রতি ৩ টাকা কমায় গণপরিবহনে ভাড়া কমানোর দাবি করছেন যাত্রীরা। আর এ নিয়ে বাসের সুপারভাইজার আর যাত্রীদের মধ্যে প্রতিনিয়ত বাক বিত-া হচ্ছে।
ফার্নেস অয়েলের দাম কমার পর গত ২৪ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে নতুন নির্ধারত মূল্যে বিক্রি শুরু হয় জ্বালানি তেল। নতুন দর অনুযায়ী অকটেন ৮৯ টাকা, পেট্রোল ৮৬ এবং ডিজেল ও কেরোসিন ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে মূল্য সমন্বয় করে সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছিল। তখন প্রতি লিটার অকটেন ৯৯ টাকা, পেট্রোল ৯৬ টাকা এবং কেরোসিন ও ডিজেল ৬৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়। তবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমার প্রেক্ষিতে এখন সরকার তেলের দাম কমানোর এই সিদ্ধান্ত নেয়।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গুলিস্তান থেকে মিরপুর, আব্দুল্লাহপুর, গাবতলীসহ বিভিন্ন রুটে গণপরিবহনে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে আগের মতই। তেলের মূল্য কমানোর পর থেকে গত তিন দিন বাসের ভাড়া কমানোর জন্য যাত্রীরা বাসের সুপারভাইজারদের সঙ্গে বাক বিত-ায় লিপ্ত হচ্ছেন।
গুলিস্তান থেকে গুলশান নতুনবাজারগামী যাত্রী মুকুল বলেন, তেলের দাম বাড়লে পরিবহনে ভাড়া বাড়ে। আর তেলের দাম কমলে ভাড়া কমবে না, এটি হতে পারে না। অবশ্যই ভাড়া কমাতে হবে।
তিনি বলেন, লিটারে কত টাকা কমলো সেটা কি আমরা বুঝব। যখন লিটারে এক টাকা বাড়ে তখন তো ভাড়া বাড়ে। একই কথা বলেন, অপর যাত্রী আবুল কাশেম। তবে তেলের মূল্য আরো কিছুটা কমানো উচিৎ ছিল বলে মনে করেন এই যাত্রী।
তবে তেলের মূল্য কমলেও আপাতত বাসের ভাড়া কমাতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন ঢাকা পরিবহন মালিক সমিতির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুল ওয়াদুদ মাসুম।
তিনি বলেন, লিটারে মাত্র ৩ টাকা কমানো হয়েছে। এতে করে কীভাবে আমরা ভাড়া কমাতে পারি। লিটারে যদি ১০ টাকার অধিক কমানো হতো তবে আমরা ভাড়া কমাতে পারতাম।
আবদুল ওয়াদুদ বলেন, আমার তেতুঁলিয়া পরিবহনের গাড়ি শিয়া মসজিদ থেকে আব্দুল্লাহপুর চারটি ট্রিপ দেই। চার ট্রিপে তেলের প্রয়োজন হয় ৬৪ লিটার। আগে ৬৮ টাকা লিটারে দিনে তেল লাগতো ৪ হাজার ৩৫২ টাকার। বর্তমানে ৩ টাকা কমে তেল লাগছে ৪ হাজার ১৬০ টাকার। তাহলে আমি সুবিধা পাচ্ছি ১৯২ টাকার। আমার ৩৭ সিটের গাড়ি। ভাড়া কমিয়ে কীভাবে আমি সমন্বয় করব। এছাড়াও বাসের টায়ারসহ প্রতিটি পার্সের দাম আগের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে।
তিনি বলেন, আগের চেয়ে মাত্র ১৯২ টাকা সুবিধা নিয়ে ভাড়া কমালে আমার অতিরিক্ত আরো ২০০ টাকা লোকসান গুণতে হবে। আমাদের দেশে পরিবহনের কোনো পার্টস পাওয়া যায় না। ভারত থেকে আমদানি করতে হয়। সেখানে দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপর আমরা সেগুলো আমদানি করলে আবার ট্যাক্স দিতে হয়।
বাস মালিক সমিতির এই নেতা বলেন, একে তো পরিবহন ব্যবসা দিনে দিনে লোকসানের দিকে যাচ্ছে। তেলের দাম কমায় ভাড়া কমালে পরিবহন মালিকরা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়বে।
ওয়াদুদ মাসুম বলেন, বর্তমান সরকার বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে নানামুখী পদক্ষেপ নিচ্ছেন। আমাদের পরিবহন ব্যবসায়ীদের দিকে তাকিয়ে তেল অথবা পার্টস, যে কোনো একটিতে ছাড় দিলে আমরা আমাদের অনেক সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারি। পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতে আমাদের ভূমিকা আরো দৃঢ় হবে।
তিনি বলেন, এরপরও আমরা বাসের ভাড়ার বিষয়ে কিছু করতে পারি কি-না সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব। তবে আমাদের ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্যাহ এখন দেশের বাইরে রয়েছেন। তিনি দেশে আসলে আমাদের নিয়ে বসবেন। তারপর আমরা এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।