Sunday 30th of April 2017

সদ্য প্রাপ্তঃ

*** শিবগঞ্জে ‘জঙ্গি আস্তানায়’ নিহত চারজনের লাশ বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন * রাজশাহীতে অফিসার্স মেসে সহকারী পুলিশ কমিশনারের গলায় ফাঁস দেওয়া লাশ * যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাধীন আবৃত্তিশিল্পী মুক্তিযোদ্ধা কাজী আরিফ ক্লিনিক্যালি ডেড, বলেছেন তার মেয়ে * গাজীপুরের শ্রীপুরে ট্রেনের ধাক্কায় বাবা-মেয়ে নিহত * দিনাজপুরে চাল কলে বয়লার বিস্ফোরণে আহত আরও একজনের মৃত্যু, মোট নিহত ১৬ * পটুয়াখালীতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে জলদস্যু আলিফ ও কবিরাজ বাহিনীর আত্মসমর্পণ * ঝড়ে সিলেট স্টেডিয়ামের ব্যাপক ক্ষতি, ভেঙে পড়েছে অবকাঠামোর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কাচ * প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা

Bangladesh Manobadhikar Foundation

Khan Air Travels

মধ্যপ্রাচ্যের রেমিট্যান্সে ধস

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | তারিখঃ ২৯.০৪.২০১৬

বাংলাদেশের প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) ৪৫ শতাংশ আসে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে।

এবার ওই আয়েই নেমেছে ধস। সরকারি হিসাবে চলতি অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আট মাসে মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরব, কুয়েত ও আরব আমিরাত থেকে রেমিট্যান্স কমেছে আগের বছর তুলনায় ৫ দশমিক ২৪ শতাংশ। ফলে সামগ্রিক প্রবাসী আয়েও পড়েছে নেতিবাচক প্রভাব। পরিস্থিতি সামলাতে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অর্থ বিভাগ। কেন মধ্যপ্রাচ্য থেকে রেমিট্যান্স আয় কমছে সে বিষয়টিই জানতে চাওয়া হবে চিঠিতে।সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত সম্পদ কমিটির বৈঠকে বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনীতির সূচকগুলো নিয়ে যে আলোচনা হয়, সেখানে প্রবাসী আয়ের নেতিবাচক চিত্র তুলে ধরে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কাছে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদ সম্প্রতি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘সামষ্টিক অর্থনীতির সব সূচকেই ভালো অবস্থানে রয়েছি আমরা। তবে প্রবাসী আয় কিছুটা কমেছে।’ সাম্প্রতিক মাসগুলোতে জনশক্তি রপ্তানি বেড়েছে। ফলে রেমিট্যান্সেও নেতিবাচক প্রভাব কেটে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।এ ছাড়া রেমিট্যান্স আয় বাড়াতে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ জনশক্তি তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে সরকারের এই সিনিয়র সচিব বলেন, ‘বিদেশে প্রশিক্ষিত জনশক্তি পাঠানোর মাধ্যমে আমাদের প্রবাসী আয় বাড়ানো সম্ভব।’বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের জানুয়ারিতে রেমিট্যান্স আয় ছিল ১ হাজার ১৫০ মিলিয়ন ডলার, যা ফেব্রুয়ারিতে কমে ১ হাজার ১৩৬ মিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। গত অর্থবছরের জানুয়ারিতে রেমিট্যান্স আয় ছিল ১ হাজার ২৪৩ মিলিয়ন ডলার এবং ফেব্রুয়ারিতে ১ হাজার ১৮৯ মিলিয়ন ডলার। দেখা যাচ্ছে, গত অর্থবছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারির তুলনায় চলতি অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরব থেকে দেশে মোট ৩ হাজার ৩৪৫ মলিয়ন মার্কিন ডলার, অর্থাৎ প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ২৭৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় আসে। মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে গত অর্থবছর মোট ২ হাজার ৮২৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, অর্থাৎ মাসে গড়ে প্রায় ২৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় আসে দেশে। সেখানে চলতি অর্থবছরের ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) সৌদি আরব থেকে ২ হাজার ২৩৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, অর্থাৎ মাসে গড়ে ২৪৮ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে আরব আমিরাত থেকে এসেছে ১ হাজার ৯৯০ মিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ মাসে গড়ে ২২১ মিলিয়ন ডলার। দেখা যাচ্ছে, গত অর্থবছরের তুলনায় মধ্যপ্রাচ্যের এই দুটি বৃহত্তম রেমিট্যান্স আয়ের দেশ থেকেই আয় কমেছে।অর্থ মন্ত্রণালয় আয়োজিত সম্পদ কমিটির বৈঠকে অর্থনীতির বহিঃখাত অর্থাৎ প্রবাস আয়, আমদানি ও রপ্তানির গতিধারা সম্পর্কে জানানো হয়, চলতি অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রপ্তানি বেড়েছে ৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ। জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়কালে আমদানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ। তবে একই সময়ে প্রবাসী আয় কমেছে ১ দশমিক ৫২ শতাংশ। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের তিন দেশ থেকেই ৫ শতাংশের ওপরে রেমিট্যান্স আয় কমেছে বলে বৈঠকে জানায় অর্থ বিভাগ।বৈঠকে বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় হার ও বৈদেশিক মুদ্রার স্থিতি (রিজার্ভ) সম্পর্কে জানানো হয়, ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার অনেকটা স্থিতিশীল রয়েছে। অন্যদিকে ২০১৪ সালের মার্চ থেকে এপ্রিল ২০১৫ পর্যন্ত ইউরোর বিপরীতে টাকা ক্রমশ শক্তিশালী হলেও সম্প্রতি ইউরোর বিপরীতে টাকার বিনিময় হারে অবচিতি লক্ষ করা যাচ্ছে। সম্প্রতি নমিনাল বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকলেও বাণিজ্যে অংশীদার দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি বেশি থাকায় প্রকৃত কার্যকর বিনিময় হার ক্রমশ অতিমূল্যায়িত হচ্ছে। প্রবাসী আয়ে ঋণাত্মক প্রভাব সত্ত্বেও সামগ্রিক লেনদেনের ভারসাম্য অনুকূলে থাকার কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ চলতি বছরের ৩০ মার্চ পর্যন্ত ২৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা দিয়ে সাড়ে ছয় মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।