মুদ্রণ

পালিত হচ্ছে শুভ জন্মাষ্টমী

জাতীয় ডেস্ক | তারিখঃ  ০৫.০৯.২০১৫

আজ শনিবার দেশব্যাপী পালিত হচ্ছে শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথি- শুভ জন্মাষ্টমী।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, পৃথিবী থেকে দুরাচার দুষ্টদের দমন আর সজ্জনদের রক্ষার জন্যই মহাবতার ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এই দিনে স্বর্গ থেকে পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়েছিলেন। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা দিনটি ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মাধ্যমে পালন করছেন। জন্মাষ্টমী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া পৃথক বাণী দিয়েছেন। দিবসটি পালনে অন্যবারের মতো এবারও সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে নানা আয়োজন করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে বলেন, 'মানবপ্রেমের প্রতীক শ্রীকৃষ্ণের ভাবধারা ও আদর্শ ছিল সমাজ থেকে হানাহানি দূর করে মানুষে মানুষে অকৃত্রিম ভালোবাসা ও সম্প্রীতির বন্ধন গড়ে তোলা। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এখানে প্রতিটি ধর্মীয় উৎসব সর্বজনীনভাবে পালিত হয়। আবহমানকাল থেকে এ দেশের সব ধর্মের অনুসারীরা পারস্পরিক সম্প্রীতি ও বন্ধুত্ব বজায় রেখে নিজ নিজ ধর্ম পালন করে আসছে। সমাজে বিদ্যমান ভ্রাতৃত্ব ও বন্ধুত্বের বন্ধনকে আরো দৃঢ় করে তা জাতীয় অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি অর্জনে কাজে লাগানোর জন্য আমি দেশের সব ধর্মাবলম্বীর প্রতি আহ্বান জানাই।'
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে বলেন, 'শ্রীকৃষ্ণ আজীবন শান্তি, মানবপ্রেম ও ন্যায়ের পতাকা সমুন্নত রেখেছেন। মানুষে মানুষে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন এবং সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠাই ছিল তাঁর একমাত্র লক্ষ্য। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ হিসেবে বাংলাদেশে সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষ যুগ যুগ ধরে মিলেমিশে বসবাস করে আসছে। আমাদের সরকার দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করতে বদ্ধপরিকর।'
খালেদা জিয়া তাঁর বাণীতে বলেন, সব ধর্মের মর্মবাণী শান্তি ও মানব কল্যাণ। বাংলাদেশ ধর্মীয় সম্প্রীতির দেশ। হিংসা-বিদ্বেষ, হানাহানি, অন্যায়-অবিচার দূর করে সমাজকে শান্তিময় করে তুলতে যার যার অবস্থান থেকে আমাদের সবাইকে অবদান রাখতে হবে।
বিশেষ সেল গঠনের দাবি : সারা দেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের জমিজমা-সংক্রান্ত সমস্যা দূরীকরণ এবং পূজামণ্ডপে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি আলাদা সংখ্যালঘু সেল গঠনের দাবি জানিয়েছেন হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁরা ইতিমধ্যে এই দাবি জানিয়েছেন। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে একই দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন তাঁরা।
মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি ও বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ যৌথভাবে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে অন্যদের মধ্যে প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ ও কেন্দ্রীয় পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি কাজল দেবনাথ উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আজ থেকে সপ্তাহব্যাপী পূজা উদ্‌যাপনের কার্যক্রম শুরু হবে। রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে বিশাল শোভাযাত্রা হবে।
প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে এ বছর ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকবে। তার পরও নিজ নিজ এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়কে তাদের পূজা উদ্‌যাপনে সতর্ক থাকতে হবে।