Wednesday 7th of December 2016

সদ্য প্রাপ্তঃ

***রোহিঙ্গা ইস্যুতে সংসদে প্রধানমন্ত্রী,সাহায্য দেয়া যায়, কিন্তু সীমান্ত খুলে দিতে পারি না***

Bangladesh Manobadhikar Foundation

Khan Air Travels

UCB Debit Credit Card

অলস পড়ে আছে ৩৩ কোটি টাকার ড্রেজার

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | তারিখঃ ০৪.০৫.২০১৬

প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে ৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে কেনা মংলা বন্দরের ড্রেজার।

এ নিয়ে ক্ষুব্ধ বন্দর ব্যবহারকারীরা।অডিটের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে নিম্নমানের হওয়ায় এই ড্রেজার মেশিন দিয়ে ড্রেজিং করা সম্ভব হয়নি। তবে বন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, দক্ষ লোকবলের অভাবে চালানো যায়নি ড্রেজারটি।মংলা বন্দরের জন্য একটি স্থায়ী ড্রেজারের দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। এর ভিত্তিতে প্রায় ৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার। যা দিয়ে ৩৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকায় নেদারল্যান্ডস থেকে কেনা করা হয় একটি ড্রেজার।সম্প্রতি এক অডিট প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, সিডি ইমাম বোখারী নামের ঐ ড্রেজারটি দিয়ে কখনই কাজ করা হয়নি। হাইড্রোলিক ইঞ্জিনের প্রেসার কম থাকায় তা ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। এছাড়া মেশিনটি কেনার মাত্র ২ বছরের মধ্যে শিপইয়ার্ডে নিয়ে ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে মেরামত করা হয়।প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ড্রেজারটির মেশিন ও যন্ত্রাংশ ছিল নিম্নমানের। কোটি টাকার এ ড্রেজার এতদিন পড়ে থাকায় ক্ষুব্ধ বন্দর ব্যবহারকারীরা।মংলা বন্দর ব্যবহারকারী সমন্বয় কমিটির মহাসচিব মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, আমাদেও যে টিমগুলি সব সময় ড্রেজিং করার জন্যই আসলে এই ড্রেজারগুলো করা হয়েছে। এগুলো চলবে না তাতো হতে পারে না। একদিকে সরকারের অর্থ ব্যয় হচ্ছে আর একদিকে আমাদের কাজটি হচ্ছে না এটা কিন্তু আমরা কেউই চাই না।
শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান ক্যাপ্টেন এম রফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের যে জেটির এরিয়া আছে। আমরা যে জেটি পাইপ দিয়ে ইমারজেন্সি রিকোয়ার্ট যে জায়গাগুলো আছে সেগুলো তারা ড্রেজিং করে নব্যতা ফিরিয়ে আনতে পারবে।
তবে, বন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, নিম্নমানের নয় ড্রেজারটি। দক্ষ জনবলের অভাবেই ব্যবহার করা যাচ্ছেনা এটি।মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, এই যে এটার সুষ্ঠু ব্যবহার করতে পারছি না তার কারণ হচ্ছে আমাদের কিন্তু পর্যাপ্ত লোকবল নেই। রিকুটে অনুমোদনের বিষয়টা নতুন সেটআপ তৈরি করে অনুমোদন পাওয়াটা এইটা পদ্ধতিগত ভাবেই একটু লম্বা সময় লাগে। অঅমরা এখনও সেই সরকারি অনুমোদনটা পাইনি। যার জন্য ঐ ড্রেজারের জন্য লোক নিয়োগ করতে পারি নাই।
এদিকে প্রায় ১৪ কোটি টাকায় গেলো মাসে কেনা হয়েছে আরেকটি ড্রেজার। যা শিগগিরই ভাড়া দেয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ আরো বলেন, এই দুইটা ড্রেজার আমরা টেন্ডারের মাধ্যমে একটা ড্রেজিং কোম্পানীর কাছে লিজ দিয়ে দিচ্ছি দু’বছরের জন্য। তারা এই দু’বছর এটাকে চালাবে। আমাদেও ম্যান্টানেন্স ডিজিটের কাজটাও তারা করে দিয়ে যাবে এবং তারপর তাদের অন্যান্য কাজ তারা করবে আর আমাদের টাকা দেবে।ড্রেজার কেনায় অনিয়ম হওয়ায় তদন্ত কমিটি গঠন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণসহ অর্থ আদায় করার সুপারিশ করা হয়েছে অডিট রিপোর্টে।