Saturday 3rd of December 2016

সদ্য প্রাপ্তঃ

***বাংলাদেশ ভারত সীমান্তে স্মার্ট বেড়া,উঠিয়ে নেওয়া হচ্ছে বিএসএফ টহল***

Bangladesh Manobadhikar Foundation

Khan Air Travels

UCB Debit Credit Card

রমজানে টিসিবির ২৫ দিনের পণ্য বিক্রয় কর্মসূচি

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | তারিখঃ ০৫.০৫.২০১৬

আসন্ন রমজানে নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ২৫ দিনের পণ্য বিক্রয় কর্মসূচি হাতে নিয়েছে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। প্রায় মাসব্যাপী এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে নিয়মিত ভর্তুকির বাইরে এ জন্য সরকারকে ৬৫ লাখ টাকা অতিরিক্ত ভর্তুকি দিতে হবে।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখতে কম মূল্যে পণ্য বিক্রি করায় গত পাঁচ বছর টিসিবিকে প্রায় ৬৮ কোটি ৩১ লাখ ৮০ হাজার টাকা ভর্তুকি দেয়া হয়েছে।এ হিসাবে মাসিক গড় ভর্তুকির পরিমাণ প্রায় দুই কোটি ২৮ লাখ টাকা। তবে এবার রমজানে মাসিক গড় ভর্তুকির সঙ্গে বাড়তি ব্যয় হিসেবে এই ৬৫ লাখ টাকা যোগ হবে। এতে করে সরকারের মোট প্রদেয় ভর্তুকি রমজানে গিয়ে দাঁড়াবে ২ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।সূত্রমতে, এ বাড়তি ভর্তুকি সরাসরি ভোক্তার পকেটে যাবে না। এটি যাবে টিসিবির ভ্রাম্যমাণ ট্রাকসেল ডিলারদের হাতে। বিনিময়ে এই ডিলাররা রাজধানীসহ সারা দেশে ১৭৪টি স্থানে ৫০ থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরত্বে দৈনিক ১ হাজার ৫০০ কেজি বা লিটার সমপরিমাণ টিসিবির পণ্য বিক্রি করবে। আর এভাবেই পরোক্ষ সুবিধা পাবেন ভোক্তারা।এদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে অনুমতি মেলার পর রমজাননির্ভর কয়েকটি পণ্যের মজুদ বাড়ানোর উদ্যোগ প্রায় শেষ করে এনেছে টিসিবি। এ জন্য স্থানীয় বাজার থেকে পাঁচ লিটার বোতলের ১ হাজার টন সয়াবিন তেল কেনার জন্য বিভিন্ন উৎপাদক ও ট্রেডার্স প্রতিষ্ঠানের কাছে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।শিগগিরই দেশীয় প্রতিষ্ঠানের সরবরাহ দেয়া এই ভোজ্যতেল টিসিবির গুদামে উঠবে। এর বাইরে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশন থেকে মিলগেট দামে বর্তমান মজুদের বাইরে আরও ১ হাজার টন চিনি কেনার চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এখন যে কোনো দিনের নোটিশে এই চিনিও টিসিবির গুমামে ঠাঁই পাবে।
সূত্রমতে, টিসিবির ২৫ দিনের এ বিক্রয় কর্মসূচিতে ভোজ্যতেল, চিনি ছাড়াও আসন্ন রমজানে এই ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে খেজুর, ছোলা ও মসুর ডাল বিক্রি করা হবে। এর পাশাপাশি নিয়মিত ডিলাররাও পৃথকভাবে বিভিন্ন স্থানে একই রকম পণ্য বিক্রি করবেন।এ প্রসঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন বলেন, রমজাননির্ভর সব নিত্যপণ্যের বাড়তি মজুদ রয়েছে। এরপরও সরকার নিত্যপণ্যের সরবরাহ পরিস্থিতির দিকে সার্বক্ষণিক সতর্ক দৃষ্টি রাখছে। তিনি বলেন, ‘শুধু সতর্ক দৃষ্টিতেই আমাদের কার্যক্রম থেমে থাকছে না, একই সঙ্গে সরকারের জনকল্যাণমুখী কার্যক্রমও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ জন্য টিসিবির পণ্য মজুদ বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাজারে রমজাননির্ভর পণ্যের সরবরাহ পরিস্থিতি ঠিক রাখতে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকসেলেরমাধ্যমে সারা দেশে একযোগে বিক্রয় কার্যক্রমও শুরু করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।জানা গেছে, সম্প্রতি টিসিবি এক চিঠিতে ২৫ দিনের পণ্য বিক্রয় কর্মসূচি গ্রহণের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি চায়। এতে টিসিবির ১১১৯তম পর্ষদ সভার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে বলা হয়- পর্ষদ পর্যালোচনা করে দেখেছে, এই বিক্রয় কর্মসূচি পরিচালনা করতে সরকারের প্রদেয় নিয়মিত ভর্তুকির বাইরে আরও ৬৫ লাখ টাকা অতিরিক্ত ভর্তুকির প্রয়োজন হবে।সূত্রমতে, সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ১৩তম বৈঠকের কার্যবিবরণী পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ভর্তুকিবাবদ গত ৫ বছরে সরকার টিসিবির অনুকূলে ৩৪১ কোটি ৫৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।২০১০-১১ অর্থবছর থেকে ২০১৪-১৫ অর্থবছর পর্যন্ত সময়ে এ পরিমাণ ভর্তুকি ছাড় করা হয়েছে। তবে ছাড়কৃত এসব ভর্তুকির ৪০ শতাংশ অর্থাৎ ১৩৬ কোটি টাকাই ব্যয় হয়েছে টিসিবির মজুদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে পণ্য কেনাবাবদ প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান আনার ক্ষেত্রে। যেখানে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি বরাদ্দ সত্ত্বেও ভোক্তারা এর পুরো সুফল ভোগ করতে পারছে না।এ প্রসঙ্গে টিসিবি চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবু সালেহ মোহাম্মদ গোলাম আম্বিয়া বলেন, কার্যক্রমের আওতায় টিসিবির পণ্যাদি বিক্রয়ে নিয়মিত বরাদ্দ তো থাকবেই। এর পাশাপাশি সরকারি ছুটির দিন বাদে সপ্তাহের বাকি দিনগুলোয়ও নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ভ্রাম্যমাণ ট্র্যাকের মাধ্যমে রমজাননির্ভর টিসিবি পণ্য বিক্রি করা হবে। তিনি জানান, প্রতি ট্রাকে ১ হাজার ৫০০ কেজি করে পণ্য রাজধানীর ২৫টি স্পটে বিক্রি হবে।সারা দেশে ১৭৪টি ভাম্যমাণ ট্রাকে টিসিবি পণ্য বিক্রি হবে। রাজধানী ছাড়া চট্টগ্রাম মহানগরীতে ১০টি এবং বাকি পাঁচটি বিভাগীয় শহরের প্রতিটিতে ৫টি স্পট ও বাকি ৫৭ জেলার প্রতিটিতে দুটি করে স্পটে এ পণ্য বিক্রি হবে।জানা গেছে, এবার রমজানে টিসিবির ভ্রাম্যমাণ ট্রাকসেল ডিলারদের পরিচালন ব্যয় বাবদ ৫০ কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে প্রতি কেজি বা লিটারে ৪ টাকা ৫০ পয়সা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে। এর বেশি দূরত্বে (৫১-১০০ কিলোমিটারের মধ্যে) বিক্রয় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সমপরিমাণ পণ্যে ৫ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়।এ ছাড়া ১০০ কিলোমিটার দূরত্বের বাইরে প্রতি লিটারে বা কেজিতে ৬ টাকা ৫০ পয়সা পরিচালন ব্যয় ধার্য করা হয়েছে।