Print

মিষ্টি উৎসবে ভ্যাট ফাঁকির মহোৎসব

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | তারিখঃ ১২.০৫.২০১৬

এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ উপলক্ষে গতকাল বুধবার রাজধানীর ১২টি অভিজাত মিষ্টির দোকানে প্রায় ১৪ লাখ টাকার বেচাকেনা হয়েছে।

যেখানে গতবছর একই উপলক্ষে এসব দোকানে বিক্রি হয়েছিল ৮ লাখ টাকার মিষ্টি।  একদিনেই এতো টাকা ব্যবসা করলেও সরকারকে ভ্যাট দেয় না অধিকাংশ দোকান।
 
বৃহস্পতিবার ভ্যাট গোয়েন্দার সহকারী পরিচালক সম্প্রীতি প্রামানিক এসব জানান। গতকাল বুধবার পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর ভ্যাট গোয়েন্দার চারটি টিম রাজধানী অভিজাত ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকার মিষ্টির দোকানগুলোতে নজরদারি চালান। রাত ১০টা পর্যন্ত করা তাদের নজরদারিতে এই বিপুল পরিমান বিক্রি ও ভ্যাট ফাঁকির বিষয়টি উঠে আসে।
 
ভ্যাট গোয়েন্দা সূত্র জানায়, গতকাল সারা দেশে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষে মিষ্টির দোকানে বিক্রি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। কিন্তু লক্ষ্য করা গেছে, এসব ক্ষেত্রে যথাযথভাবে ভ্যাট নেয়া হয় না, ইসিআর মেশিন ব্যবহার করা হয় না, ভ্যাট সংক্রান্ত দলিলাদি সংরক্ষণ করা হয় না। এই ভ্যাট ফাঁকি প্রতিরোধ করতে ভ্যাট গোয়েন্দা টিম ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকার মিষ্টির দোকানে তদারকি করে। এসব তদারকিতে গত বছর এসএসসি ফলাফলের দিন কত টাকা বিক্রি হয়েছে এবং এ বছর কত টাকা বিক্রি করেছে তুলনামূলক তথ্য পাওয়া যায়।

ঢাকার এসব অভিজাত ১২টি দোকান হলো- শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম স্বরণীর মুসলিম সুইটস, সবুজবাগ ও শান্তিনগরের সালাম ডেইরী ফার্ম এন্ড ফুড প্রোডাক্টস দুই শাখা, বনশ্রীর পুষ্টি ডেইরী ফার্ম সুইটস এন্ড বেকারী, মেসার্স বিসমিল্লাহ মিষ্টি মুখ এন্ড বেকারী লি:, কলাবাগানের বিক্রমপুর মিষ্টান্ন ভান্ডার, ধানমন্ডির সর ফুড এন্ড বেকারী লি: ও জয়পুর সুইটস, উত্তরার দি আলীবাবা সুইটস ও একুশে সুইটস, পান্থপথের প্রিমিয়াম সুইটস এবং গ্রীনরোডের মুধবন।

এসব দোকানে গতকাল বুধবার মোট বিক্রি হয়েছে ১৩ লাখ ৮৩ হাজার ৫৮০ টাকা, যেখানে গত বছর একই উপলক্ষকে কেন্দ্র করে বিক্রি হয়েছিল ৮ লাখ ৬২৮ টাকা।
 
সূত্রটি আরো জানায়, মূল্য সংযোজন কর আইন-১৯৯১ অনুযায়ী মিষ্টির ওপর ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট প্রযোজ্য হলেও অধিকাংশ মিষ্টির দোকান ভ্যাট দেয় না। ফলে সরকার এ খাতের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অথচ মূসক (ভ্যাট) আইন অনুযায়ী মূসক সংক্রান্ত দলিলাদি সংরক্ষণ, ইসিআর ব্যবহার, সঠিক হারে ভ্যাট কর্তন এবং সরকারি কোষাগারে জমা দেয়ার জন্য মিষ্টান্ন ব্যবসায়ীদের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এছাড়া মিষ্টি কেনার ক্ষেত্রে ইসিআর/পস বুঝে নেয়া সবার দায়িত্ব নাগরিক দায়িত্ব। 

তবে কারো বিরুদ্ধে জরিমানা করার বিষয়টি এখনো জানা যায়নি।