Print

বাংলাদেশ ব্যাংকের নেটওয়ার্কে এখনও হুমকিতে

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | তারিখঃ ১৪.০৫.২০১৬

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে অর্থ চুরির তিন মাস পরও তিনটি হ্যাকার গ্রুপ বাংলাদেশ ব্যাংকের নেটওয়ার্কে ওঁৎ পেতে আছে।

তারা যে কোনো সময় আবারও আক্রমণ করতে পারে। এর মধ্যে কোনো রাষ্ট্রের নিয়োগকারী একটি গ্রুপও রয়েছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরির পর ঘটনা তদন্তে নিয়োগ করা যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক দুটি সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের রিপোর্টের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স শুক্রবার এ খবর দিয়েছে।সুইফটের সঙ্গে সংযুক্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের নেটওয়ার্কে ঢুকে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক, নিউইয়র্কে রাখা রিজার্ভের হিসাব থেকে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরির পর বিশ্বব্যাংকের সাবেক আইটি বিশেষজ্ঞ রাকেশ আস্তানার প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ড ইনফরমেটিক্সকে এ বিষয়ে ফরেনসিক তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে এর সঙ্গে যুক্ত হয় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান 'ফায়ার আই'।এ দুটি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে এ ঘটনা তদন্তের পাশপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা সুরক্ষার কাজও করছে। সুইফটও এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে সহায়তা করছে। ঘটনার পর থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক গত তিন মাসে বিভিন্ন সময়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে বলে দাবি করেছে।রয়টার্স জানিয়েছে, বিশেষজ্ঞ দুটি ফার্মের একটি রিপোর্টের কিছু তথ্য তাদের কাছে রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নেটওয়ার্ক এখনও পুরোপুরি নিরাপদ নয়। অতিরিক্ত ঝুঁকির বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও এর পর্ষদ সদস্যদের অনুধাবন করা উচিত। তিনটি হ্যাকার গ্রুপ বাংলাদেশ ব্যাংকের নেটওয়ার্কে ঢুকে আছে। এর মধ্যে একটি কোনো রাষ্ট্রের নিয়োগ করা হ্যাকার গ্রুপ। এ ধরনের গ্রুপ ধ্বংসাত্মক নয়। তারা শুধু তথ্য চুরি করে।রয়টার্সের সূত্র পুরো রিপোর্টের তথ্য দিতে চাননি। কেননা পুরো তথ্য জানাজানি হলে অপরাধীদের ধরতে আন্তর্জাতিক চেষ্টা ব্যাহত হবে। একই সঙ্গে চুরির অর্থ উদ্ধার বাধাগ্রস্ত হবে।রয়টার্সের প্রতিবেদনে ফরেনসিক রিপোর্ট উদ্বৃত করে আরও জানানো হয়, গ্রুপ জিরো নামে হ্যাকার গ্রুপ রিজার্ভের অর্থ চুরির সঙ্গে জড়িত এবং এখনও তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের নেটওয়ার্কে ঢুকে আছে। গ্রুপটি চলমান তদন্ত তদারকি করতে পারে এবং ক্ষতি করতে পারে। তবে তারা তহবিল স্থানান্তর করতে সমর্থ হবে বলে মনে হয় না।আরও দুটি গ্রুপ বাংলাদেশ ব্যাংকের নেটওয়ার্কে আছে। তারা দুটি পৃথক রাষ্ট্রের হ্যাকার গ্রুপ। গত বুধবার তদন্তকারীদের সূত্রের উদ্বৃতি দিয়ে ব্লমবার্গের এক খবের বলা হয়, এ দুটি গ্রুপ পাকিস্তান ও উত্তর কোরিয়ার।