Nabodhara Real Estate Ltd.

Khan Air Travels

Premier Bank Ltd

বিডিনিউজডেস্ক.কম | তারিখঃ ১৮.০১.২০১৮

সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও টেকসই উন্নয়ন কৌশল অর্জনের জন্য সম্পদের ঘাটতি, বেসরকারি খাতের সহযোগিতা বৃদ্ধি, বৈষম্য নিরসন ও অতি

দারিদ্র্য দূরীকরণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে জোর দিতে হবে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি), গুণগত মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিতকরণ, রফতানি বৈচিত্র্যের ওপর। গতকাল রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরাম ২০১৮-এর প্রথম প্যানেল সেশনে বক্তারা এসব কথা বলেন।

‘ইমপ্লিমেনটেশন অব দ্য সেভেন্থ ফাইভ ইয়ার প্ল্যান অ্যান্ড দি এসডিজি: চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড ওয়ে ফরোয়ার্ড’ শীর্ষক প্রথম সেশনে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এতে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান, ব্র্যাকের চেয়ারম্যান স্যার ফজলে হাসান আবেদ, এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট উইনসাই জ্যাং, বিশ্বব্যাংকের পরিচালক চিমিয়াও ফান, জাতিসংঘের রেসিডেন্ট কো-অর্ডিনেটর মিয়া সেপ্পো, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত রেঞ্জে তিরিংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী।

এ সেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (জ্যেষ্ঠ সচিব) ড. শামসুল আলম। তিনি বলেন, গড় আয়ু বৃদ্ধি, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুর মৃত্যু হ্রাস, নারীর ক্ষমতায়ন, টিকাদানসহ বিভিন্ন সামাজিক সূচকে বাংলাদেশ অসাধারণ উন্নতি করেছে। ২০১৬ সালে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির হার সাত শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। তবে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও টেকসই উন্নয়ন কৌশল অর্জনের ক্ষেত্রে সম্পদের সুষম বণ্টন, জনসংখ্যার অধিক চাপ, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তন, গুণগত শিক্ষার অভাবসহ নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য সম্পদের সুষম বণ্টন, সুশাসনের উন্নয়ন ও সব দলের মধ্যে সহযোগিতার বিকল্প নেই।

এ সেশনে অর্থমন্ত্রী বলেন, এসডিজি অর্জনের ক্ষেত্রে অর্থ সংকট একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। পিপিপি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের সহযোগিতা সম্পদের ঘাটতি দূর করতে সহায়তা করতে পারে। বিদেশী সাহায্যের ওপর বাংলাদেশের নির্ভরশীলতা এখন অনেক কম, জিডিপির মাত্র এক দশমিক তিন শতাংশ। তবে কম হলেও এটি গুরুত্বপূর্ণ।

স্যার ফজলে হাসান আবেদ বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি স্থায়ী অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা এবং সরকার, সুশীল সমাজের সংগঠন ও বেসরকারি খাতের মধ্যকার অর্থপূর্ণ সহযোগিতার মাধ্যমে আমরা দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারি। এছাড়া সরকারকে অতি দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্ব দিতে হবে। এখনো দেশের দুই কোটি মানুষ অতি দারিদ্র্য। পাশাপাশি দেশের জনগণকে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা দিতে হবে ও গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

দিনের দ্বিতীয় কর্মঅধিবেশনটি ছিল বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণসংক্রান্ত। এ অধিবেশনে বক্তারা বাংলাদেশে বিদেশী বিনিয়োগ আসার ক্ষেত্রে প্রধান প্রতিবন্ধকতাগুলো তুলে ধরেন। ‘ক্রিয়েটিং অ্যানাবলিং এনভায়রনমেন্ট ফর এফডিআই অ্যান্ড প্রাইভেট সেক্টর এনগেজমেন্ট’ শীর্ষক সেশনটিতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিআইডিএ) নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী আমিনুল ইসলাম। সেশনটি পরিচালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী।

কর্মঅধিবেশনে আলোচকদের মধ্যে ছিলেন জাইকার সাউথ এশিয়া ডিপার্টমেন্ট ডিরেক্টর জেনারেল কেইচিরো নাকাজাওয়া, আইএফসির সিনিয়র ইকোনমিস্ট অ্যান্ড প্রোগ্রাম ম্যানেজার ড. এম মাশরুর রিয়াজ, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, ফিন্যান্স ডিভিশনের সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব ড. মোহাম্মদ তারেক, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব শহিদুল হক ও মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি নিহাদ কবির।

মূল প্রবন্ধে বিআইডিএর নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী আমিনুল ইসলাম বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে গৃহীত পদক্ষেপ উপস্থাপন করেন। বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরের বিষয়েও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, আমাদের অনেক ঘাটতি রয়ে গেছে। এসব ঘাটতি দূর করে টেকসই উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যেতে পারব বলে আশা করি। তবে পোশাক খাতের বাইরে শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতেও আমাদের বিদেশী বিনিয়োগ প্রয়োজন।

ড. এম মাশরুর রিয়াজ বলেন, বাংলাদেশ সরকার বিনিয়োগ আকর্ষণে ও ব্যবসার পরিবেশ সহজীকরণে অনেক উদ্যোগ নিয়েছে। এগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। ড. ফজলে কবির বলেন, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে আমরা বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি। তিনি গ্লোবাল সাপ্লাই চেইনে বাংলাদেশকে সম্পৃক্ত হওয়ার তাগিদ দেন। ড. মোহাম্মদ তারেক বলেন, বিদেশী বিনিয়োগ বাংলাদেশের জন্য একমাত্র সমাধান নয়। একটি দীর্ঘমেয়াদি ভিশনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তিনি কার্যকর বিদেশী বিনিয়োগ প্রকল্প গ্রহণের বিষয়ে তাগিদ দেন।

নিহাদ কবির বলেন, বাংলাদেশে কাগজে-কলমে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের জন্য অনেক সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। কিন্তু আমি যখন বাস্তবে এসব সুবিধা নিতে যাই, তখন প্রতিবন্ধকতার শিকার হই। আমরা বাংলাদেশীরা অন্তত সমস্যাগুলো অনুধাবন করতে পারি। কিন্তু যারা বিদেশী, তারা একবার ধাক্কা খেলে আর ফেরেন না। কারণ অন্য অনেক দেশ রয়েছে, যারা তাদের চাইছে। ড. গওহর রিজভী বলেন, বাংলাদেশের মৌলিক নীতিমালা মানসম্পন্ন। কিন্তু বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে ধারণাগত সমস্যা রয়ে গেছে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকলেও অন্য অনেক দেশ বাংলাদেশের চেয়ে বেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করছে। এসব সমস্যা দূর করতে হবে।

‘বিল্ডিং রেজিলেন্স ইন এগ্রিকালচার অ্যান্ড এক্সট্রিম ক্লাইমেট কন্ডিশন’ শীর্ষক একটি সেশনে সভাপতিত্ব করেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। তিনি বলেন, কৃষক ও সরকারের নিজস্ব উদ্ভাবনে দেশের কৃষি এগিয়ে যাচ্ছে, কৃষক নিজেরাই জাত উদ্ভাবন করছে। আমরা নিজস্ব উদ্ভাবনী শক্তিতে এগিয়ে যাচ্ছি। তবে গবেষণার বিভিন্ন ধাপে উন্নয়ন সহযোগীরা সহায়তা করবে বলে আশা করছি।

মূল প্রবন্ধে কৃষি মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মোহাম্মদ মঈনউদ্দিন আব্দুল্লাহ বলেন, কৃষি খাতের সঙ্গে দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ জড়িত। জিডিপিতে কৃষির অবদান ১৪ দশমিক ৭৯ শতাংশ। নীতিগত চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব রোধের করণীয় সম্পর্কে এখনো আমাদের তেমন জ্ঞান নেই। বিসিএএসের নির্বাহী পরিচালক ড. এ আতিক রহমান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন আমাদের ঘিরে রেখেছে। এ সেশনে আরো বক্তব্য রাখেন সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত এইচই রেনি হোলেসটিন, এফএওর অ্যাক্টিং কান্ট্রি ডিরেক্টর ডেভিড ডোলান, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুল্লাহ আল মহসিন চৌধুরী।

‘অ্যাড্রেসিং ইনইকুয়ালিটি অ্যান্ড হেলথ ফর অল’ শীর্ষক সেশনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত বলেন, দেশে এখন অসংক্রামক ব্যাধি বাড়ছে। এটি অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সবার জন্য সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণের জন্য কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সভাপতিত্বে এ সেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. সিরাজুল হক খান। সেশনটিতে আরো বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মেডিকেল শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব ফয়েজ আহমেদ, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের কান্ট্রি ডিরেক্টর জ্যানেট দুরনো ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ এডউইন সালভাদর।