আজ শুক্রবার, ২৬ মে, ২০১৭

সদ্য প্রাপ্তঃ

*** যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে সফরের আমন্ত্রণ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর * সাত দফা দাবিতে উত্তরবঙ্গে পণ্যবাহী যানবাহনের ধর্মঘট আরও ২৪ ঘণ্টা বাড়ছে * যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলায় বাস্তুহারা লীগের এক নেতাকে কুপিয়ে হত্যা, একজন আটক * সিনেটের ৩৫ জন শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা * সুন্দরবনে মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে বাঘের থাবায় মৌয়ালের মৃত্যু * সৌদি আরবে শেখ হাসিনা ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে শুভেচ্ছা বিনিময়

Bangladesh Manobadhikar Foundation

Khan Air Travels

আইএস (IS) আসলে কী ?

তাওহীদ খান || নির্বাহী সম্পাদক

বিডিনিউজডেস্ক.কম

বর্তমান সময়ে বিশ্ব মানবতার জন্য খুবই গরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য জানিয়েছেন আমাদের এক ভাই। কথাগুলো শুনে খুবই গরুত্বপূর্ণ মনে হলো; তাই তথ্যগুলি আপনাদের জ্ঞ্যাতার্থে লিখছি।

এই মর্মে বলে রাখছি, কথাগুলো, নিজ দায়িত্বে সঠিক নাকি ভুল যাচাই করবেন। ভালো লাগলে অন্যদেরকে বিষয়টি জানাবেন। নিম্নে তথ্যগুলি দেয়া হলোঃ 

আইএস (IS) হচ্ছে একটি আন্তর্জাতিক চক্রান্ত বাস্তবায়নকারী সংগঠন। তারা ধর্মীয় লেভাজে তাদের উদ্দেশ্য হাছিলকারী সন্ত্রাসী সিন্ডিকেট। আর মুসলিমদের ধর্মীয় অনুভূতিকে পুঁজি করে তারা অপকর্ম চালাচ্ছে, বলা যায় এটি একটি কৌশুলী বিশেষ এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী জালিম ব্র্যান্ডেড সংগঠন।

আইএস (IS) ইসলামকে বিশ্বের কাছে সন্ত্রাসবাদী ধর্ম হিসেবে উপস্থাপণ করে মুসলমানদের সকল কিছু ভোগ-দখল ও মুসলিম রাজত্ব ও সভ্যতাকে ধ্বংস করে, শয়তানের রাজত্ব কায়েম করতে চায়। এই উদ্দেশ্যে তারা মুসলমানদেরকে বিভক্ত করতে চাচ্ছে, ভুল ধর্ম জ্ঞান দিয়ে প্রকৃত মুসলমানদের ইসলাম ধর্ম থেকে পথভ্রষ্ট করতে চাচ্ছে। তাদের আগ্রাসন ও মানবতা বিরোধী কাজকর্ম দেখে স্পষ্টভাবে মনে হচ্ছে - শেষ যামানার দাজ্জাল এর আত্মপ্রকাশ খুবই সন্নিকটে। কিন্তু আমার দৃড় বিশ্বাস, এরই মধ্য দিয়ে একাত্রিত হবে সকল সত্যিকারের মুসলিমরা এবং এই প্রকৃত শান্তির ধর্ম ইসলাম এর জয় হবে।

নিম্নে আইএস (IS) এর সকঅনৈতিক ও অপকর্মের কথা বলা হলো, যা অবশ্যই ইসলাম বিরোধী -

আইএস (IS) চায় আপনি জানেন যে তারা অনেক 'বড়' এবং 'বিস্তৃত'। IS চায় যে আপনি জানেন যে তারা আপনার খাটের নিচেও আছে। তাই এতদিন তারা কি করেছে? দুনিয়ার যেখানে যাই হোক, বোমা ফুটুক, পটকা ফুটুক আর কারো মুখের করা আওয়াজে মানুষ মারা যাক - সব কিছুর অভি্যোগ তারা নিজ দায়িত্বে নিজেদের উপর নিয়েছে। যাতে মনে হয় তারা আন্তজাতিকভাবে বিস্তৃত।

দুনিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে অনলাইনে ব্রেইনওয়াশ করে তারা, ইন্টারনেট এজেন্ট দিয়ে দিন রাত কথা বলে অথবা আজগুবি ভিডিও দেখিয়ে, কখন মিডেল ইষ্ট এর মুসলিম মেয়ে সেজে, কখনও কোন যুদ্ধে আক্রান্ত দেশের নাগরিক হিসেবে। এভাবেই শুরুটা হয় বন্ধুত্বের মধ্য দিয়ে। এইভাবে আস্তে আস্তে সমবেদনা অর্জন করে, তারপর ধর্মের নামে 'বানোয়াট' জিহাদি ব্যাখ্যা দিতে শুরু করে। এরপর তারা পরিচয় করিয়ে দেয় তাদের আরও 'অসহায় জিহাদি' বন্ধুদের। হঠাৎ এই সব ছেলেপেলের মনে হওয়া শুরু করে তারা অনেক 'বড়' কিছু হতে যাচ্ছে তারা। তারপর তাদেরকে এমন রূপ দেয় যেন তারা ওই দেশের কান্ট্রি ম্যানেজার। নেট থেকে নামানো লোগো কাপড়ে প্রিন্ট করে সেটাকে নিজের পরিচয় হিসেবে গ্রহণ করে এবংসম্মান করে। তারপর এই পতাকা সহ বিভিন্ন ছবি তুলে ছড়িয়ে দেয়। ছবিগুলো ছড়িয়ে দিলেই জনগণ ভয় পেলো 'বাবারে IS, আর আপনাদের ভয় জোগান দিলো তাদের আরও সাহস। খেয়াল করে দেখবেন তাদের যেকোনো হুমকি ভিডিওতে বার বার স্মরণ করিয়ে দেয় তারা কি কি ভয়াবহ কাজ পূর্বে করেছে। তারা আপনাকে ভয় দেখিয়ে আপনাকে দুর্বল করতে চায়। যখন আপনি যথেষ্ট ভয় পেয়ে গিয়েছেন তখন শুরু করে তাদের বক্তব্য। এভাবে তৈরী হয় IS এর হুমকি ভিডিও। আপনার মনের ভয় তাদের এই ব্যবসার 'মূলধন'।

খেয়াল করলে দেখবেন IS এর প্রকাশিত Holey Artisan Bakery, Gulshan এর হামলাকারি হিসেবে প্রকাশিত সবাই একই বন্দুক নিয়েই পোজ দিয়েছে, হয়তবা একই পাঞ্জাবিও বার বার পড়েছে। তাই কারো ফিটিং হয়েছে আর কারো ঢিলা। ছবি তো আগেই তুলেছিল তাই না? কেন? তারা চেয়েছিল আপনাকে ভয় দেখাতে। ৩ জন বাংলায় কথা বলা মানুষ বাংলাদেশকে হুমকি দিলো আর আমরা ভয় পেয়ে গেলাম ! আমাদের সংখ্যা কতো? কতো কোটি? এমনকি আমাদের নায়ক অনন্ত জ্বলিল ভাই এর যত ফ্যান আছে, তত ফ্যান বা সদস্য সংখ্যা তো IS এর নেই। তাহলে ভয় কেন? আপনাকে অথবা আরও দুইজনকে দাড় করায় ভিডিও করে ছেড়ে দিলেও তাই মনে হবে। ভালো করে খেয়াল করলে বুঝবেন, এইসব ভিডিও কোন হুমকি না, ওইটা অনেকটা ওদের দল বড় করার নিমন্ত্রণ, ব্রেইন ওয়াশের এর আরেকটি পন্থা। এই ভাবেই তারা ব্রেইন ওয়াশ করে।

আইএস (IS) এর সাথে ইসলামের কোন সম্পর্ক নাই। ইসলাম বলেনাই নিরীহ মানুষকে মারতে। ইসলামে হাজার বছর আগের যুদ্ধের সময়কার ঘটনার বিবরণ আছে। ফায়দাবাজরা ওইসবের 'অপব্যাখ্যা' তৈরি করে ব্রেইন ওয়াশ করছে। ইসলাম বলে নাই কারো উপর নিজ ধর্ম চাপিয়ে দিতে। আমরা চাই পথভ্রষ্ট কথিত 'মুসলিম' দের মনে করিয়ে দিতে - হযরত মুহাম্মাদ (সঃ) এর পথে কাটা বিছিয়ে রাখতেন অন্য ধর্মের এক বয়স্ক মহিলা। তাকে নবিজী কিছুই বলেননি বরং তার অসুস্থতার সময় তার খোঁজ নিয়েছেন (সুবহানাল্লাহ)।

ইসলাম কোন ত্রাস সৃষ্টির ধর্ম না, ইসলাম মানে শান্তি। কিন্তু আইএস (IS) এর কাজ ত্রাস সৃষ্টি করা, নিজেদের মধ্যে গেঞ্জাম লাগিয়ে তৃতীয় পক্ষের ফায়দা হাসিলে সাহায্য করা। এটা কেউ বুঝে আবার কেউ না বুঝে করে। যেমন, রমযান মাসে ৪ টি মুসলিম শহরে আক্রমণ।

এই মুহূর্তে, আমাদের সকলের ঐক্যবদ্ধ হয়ে বলিষ্ঠ হাতে এই পথভ্রষ্ট জঙ্গিদেরকে মোকাবেলা করতে হবে। সচেতনাতামূলক পদক্ষেপ নিতে হবে; যাতে আর কোন নবীন পথভ্রষ্ট না হয়। আল্লাহর কাছে আমরা প্রার্থনা করি যে, মুসলমানদের যেন হেদায়েত দান করেন ও সঠিক পথের পথিক হবার সৌভাগ্য দান করেন। আমীন !