Print

বিডিনিউজডেস্ক.কম
সম্পাদক
হরতাল-অবরোধ, নাশকতা, পেট্রোল বোমার আগুন এইসব কিছুকে উপেক্ষা করে প্রয়োজনের তাগিদে জীবনকে বাজি রেখে মানুষ বাইরে বেরিয়ে এসেছে।

দুই মাসের ও বেশি সময় ধরে পেট্রোল বোমার আগুনে মানুষ পুড়ছে, পন্যবাহী যানবাহনে আগুন দিচ্ছে, এসএসসি পরীক্ষাগুলো হচ্ছে ছুটির দিনে, প্রান্তিক কৃষকের দুরাবস্তা, মোটকথা সকল স্তরে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।এতকিছু সত্বেও দুই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দল অনড় তাদের স্বীয় অবস্থানে। দেশের ধ্বংসাত্বক অবস্থার দিকে কার কোন সুনজর নেই বললেই চলে।

গত মঙ্গলবার বিএনপি চেয়ারপারসনের সংবাদ সম্মেলন থেকে এটাই স্পষ্ট যে তারা দেশের বর্তমান অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে নারাজ।তাদের যে প্রত্যাশা সেখান থেকে প্রাপ্তি পর্যন্ত তারা তাদের কর্মসূচী চালিয়ে যাবেন। অন্যদিকে দেশি-বিদেশি চাপ থাকা সত্বেও প্রধানমন্ত্রী বিএনপির সঙ্গে সংলাপ- সমঝোতার প্রস্তাব নাকোচ করে দিয়েছেন। সরকারী দল বিরোধী দলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেছেন অন্যদিকে বিরোধী দলও দাবী করেছেন যে,ক্ষমতাসীন দলের পদত্যাগ করে নির্বাচন দিতে হবে। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচারক ডঃ ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দুই নেত্রীর অনড় অবস্থানে আমরা সাধারন জনগন আতঙ্কিত। কেউ কাউকে ছাড় দিচ্ছে না। বিএনপি চেয়ারপারসনের সংবাদ সম্মেলন নিয়ে সকলেই আশান্বিত ছিল কিন্তু আশাহত হয়েছে। সরকারের উপর দায় চাপানো হয়েছে। আবার সরকার পক্ষও চলমান সংকট নিরসনে তেমন উদ্দ্যেগ নিচ্ছেন না। সকলের কথায় যৌক্তিকতা আছে বলে মনে করেন দেশের জনগন। কিন্তু এর কি কোন সমাধান কোনদিনই হবে না? এই দোটানায় শেষ হয়ে যাচ্ছে দেশ, দেশের অর্থনীতি।

সবাইকে গনতান্ত্রিক মনোবৃত্তি নিয়ে সমাধানে এগোতে হবে।রাজনৈতিক অস্থিরতায় চলতি অর্থবছরে বাকি সাড়ে তিন মাস পার করা সম্ভব হলেও নতুন অর্থবছরের ব্যয় নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন সরকার। বাজেট ঘাটতি অস্বাভাবিক হারে বাড়বে।এভাবে চলতে থাকলে নিস্তেজ হয়ে পড়বে দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো। যার ফল ভোগ করতে হবে অসহায় জনগনকে। যে যত হার্ডলাইনে যান না কেন ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে সকলেই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর হাতে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার নির্দেশ দেয়া সত্বেও কোন সমাধান হচ্ছে না। সাধারন জনগন মনে করে সংলাপ আলোচনা ছাড়া সমাধান সম্ভব নয়। এখনই সমস্যার সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। অতএব সরকার পরিস্থিতির ভয়াবহতা অনুধাবন করবেন বলে আমরা আশা করি।