Print

বিডিনিউজডেস্ক.কম
সম্পাদক
সন্তান হারা মা-বাবার আহাজারি শুধু সিলেটবাসীকে নয়, গোটা দেশের মানুষকে হতবাক করে দিয়েছে। এ কেমন মৃত্যু?

আল্লাহর সৃষ্টি আজরাইলও এসব নরপশুদের ধিক্কার দিচ্ছে। গত শনিবার রাত সাড়ে দশটার দিকে সিলেট নগরীর চতুর্থ শ্রেনীর ছাত্র আবু সাঈদের(৯বছর) বস্তা বন্দি লাশ শহরের ঝেরঝেরি পাড়ায় পুলিশের এক কনষ্টেবলের বাসার চিলেকোঠা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। অভিযোগে জড়িত পুলিশের এক কনষ্টেবল, র‍্যাবের কথিত এক সোর্স, ও ওলামা লীগের এক নেতা। সাঈদ প্রতিবেশী কনষ্টেবল এবাদুরকে মামা বলে ডাকত। পাতান মামার এ কেমন ভয়ংকর চিত্র? মামা নামের এ-সুন্দর ডাককে করলো কলঙ্কিত। এইসব মানুষরুপী পশুরা বনের পশুদের চাইতেও অধম।
শিশু অপহরন ও হত্যাকান্ডে জড়িত একজন পুলিশ সদস্য, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হিসেবে পুলিশের পরিচিতিতে কলঙ্ক লাগিয়েছে।এদের শাস্তি এমনই হওয়া উচিত যে, প্রকাশ্য দিবালোকে জনসমক্ষে ফাঁসির কাষ্টে ঝুলিয়ে ফাঁসি দেয়া। একজন বাবা হয়ে সামান্য অর্থের লোভে একটা নিষ্পাপ শিশুকে হত্যা করা, এমন হীনমন্য কাজ করতে তার বিবেক কী একবার ও বাধা দিল না?
মুক্তিপনের জন্য অপহরনের ঘটনা এর আগেও অনেক ঘটেছে এবং অপরাধীদের উপযুক্ত শাস্তি ও হয়েছে। তারপর ও কেন শিক্ষা হয় না? আদর্শ শিক্ষার অভাব, পারিপার্শিক নানা জটিলতা, মানুষকে দিনদিন আত্মকেন্দ্রিক ও সমাজ বিচ্ছিন্ন করে তুলেছে। আর সেই সঙ্গে কমেছে মানুষের ভালবাসা, মমত্ববোধ। সাঈদ নামের এই নিষ্পাপ শিশু হত্যা তার জ্বলন্ত প্রমান। শিশুটি ওদের পায়ে ধরে জীবন ভিক্ষা চেয়েছিল, কিন্তু ছেলেটির বাবা মুক্তিপন দিতে অস্বীকার করায়, এবং অপরাধীদের চিনে ফেলার অপরাধে নির্মম ভাবে মরতে হলো সাঈদ নামের এই নিষ্পাপ শিশুটিকে। আমরা আশা করবো অচিরেই অপহরনের সঙ্গে জড়িত সকলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক।