Print

বিডিনিউজডেস্ক.কম
সম্পাদক
শিশুদের আর যেন কেউ পুড়িয়ে না মারে, গত ১৭ মার্চ গোপালগজ্ঞের টুঙ্গিপাড়ায় জাতীয় শিশু দিবসের এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন।

সেই সূত্র ধরে আমরা ও চাইব যে, আর যেন কোন শিশু অপহরন, খুন না হয়। অবরোধ-হরতালে চলমান রাজনৈতিক সহিংসতা-নাশকতা মোকাবিলায়ই ব্যস্ত থাকছে পুলিশ। তা সত্বেও ব্যস্ততম ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় এবং ঢাকার বাইরে ও শিশু অপহরন, হত্যা, গুলিবর্ষন, টেন্ডার বাজির মত ঘটনা ঘটছে প্রতিদিনই।
সিলেটে ৯ বছরের শিশু আবু সাঈদকে অপহরন ও হত্যার ঘটনায় দেশব্যপী আলোড়নের ঝড় উঠেছে। শুধু সাঈদকে হত্যা করে ও অপহরনকারীদের তৃপ্তি হয়নি, সাঈদের দুই মামাত ভাইকে ও অপহরন করার হুমকি দিচ্ছে ঘাতকরা।গত সোমবার রাতে বনানী এলাকায় চলন্ত বাসে ব্যাগ থেকে এক শিশুর লাশ উদ্বার করা হয়েছে। স্বজনদের ভাষ্যমতে গত ১৫ মার্চ গাজীপুরের জয়দেবপুরের বড়ির সামনে থেকে শহীদুর ইসলাম ইমন নামের ৬ বছরের শিশুটিকে অপহরন করে দর্বৃত্তরা।শিশু সাঈদের মত দু’লাখ টাকা মুক্তিপন দাবি করে দুর্বৃত্তরা কিন্তু টাকা না পেয়ে ইমনকে হত্যা করে লাশ ফেলে রেখে যায় বাসে। দুই মেয়ে আর একমাত্র ছেলে নিয়ে বাবা মায়ের ছোট্ট সুখের সংসার ছিল। মঙ্গলবার মর্গে এসে আদরের ভাইয়ের লাশ দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে দুই বোন। ছোট্ট অবুঝ শিশুটি যদি জানত যে, বাড়ির সামনে খেলতে গেলে মৃত্যু এসে তাকে ডেকে নিয়ে যাবে, তাহলে হয়তবা যেত না।অনেক খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান মিললনা ইমনের, ফিরল লাশ হয়ে। নিরাপরাধ নিষ্পাপ ছোট্ট ছোট্ট শিশুদের মৃত্যু, অপহরন, মুক্তিপন না পেয়ে হত্যা খুবই নিন্দনীয়। তবে দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে পুলিশের কাজে কোন ধরনের প্রভাব পড়েনি এবং তারা অপরাধ নিয়ন্ত্রনে পুলিশ সহ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক আছে বলে মন্তব্য করেছেন। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় অপহরনকারীদের কয়েকজন ধরা পড়েছে এবং তাদের অপরাধের স্বীকারোক্তিও দিয়েছে। আমাদের সকলের সরকারের কাছে আবেদন থাকবে, চক্রান্তকারীদের ধরে উপযুক্ত বিচার করা হোক। আর যেন কোন মা-বাবা তাদের আদরের সন্তানকে না হারায়।