আজ রবিবার, ২৫ জুন, ২০১৭

সদ্য প্রাপ্তঃ

*** মেহেরপুর সদর উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে ১১ মামলার এক আসামির মৃত্যু * ক্রেতা সেজে দোকান থেকে মালামাল চুরির অভিযোগে চট্টগ্রামে তিন জন গ্রেপ্তার * দেশের চাহিদার ৯৮ শতাংশ ওষুধ স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হয়: সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী * লন্ডনে হামলাকারী দুইজনের নাম জানিয়েছে পুলিশ * সাবেক প্রধান উপদেষ্টা বিচারপতি লতিফুর রহমান মারা গেছেন

Bangladesh Manobadhikar Foundation

Khan Air Travels

মনে হয়,তাদের কেউ নেই,আল্লাহ ছাড়া,এটাই কি সত্য ৷

শেখ কামাল হোসাইন, || বিশেষ প্রতিবেদক

বিডিনিউজডেস্ক
২৫.১১.২০১৬

জাতীয় দৈনিকগুলোতে ছবিসহ ব্যানার হেডলাইন ছাপা হচ্ছে, ‘ নাফ নদীতে ভাসছে শত শত রোহিঙ্গা’।

এ দুনিয়ায় মনে হয় না এ নিয়ে কারো কোনো মাথা ব্যথা আছে। পশ্চিমা দুনিয়ায় একটি কুকুর ছানা যদি ড্রেনে পড়ে তো উদ্ধারের জন্যে পুলিশ আধুনিক যন্ত্রপাতি নিয়ে হাজির হয়। টেলিভিশনের ক্যামেরা ক্রুরা ঘটনাস্থলে ছবি তোলার জন্যে হুমড়ি খেয়ে পড়ে । রোহিঙ্গাদের মত বনি আদমরা ক্ষুধার্ত, ভীত সন্ত্রস্ত্র হয়ে, জান বাঁচানোর জন্যে নদী ও সাগরে নৌকায় ভাসছে। তারা কি মুসলমান না মানুষ? মুসলিম হোক, হিন্দু হোক, বৌদ্ধ হোক যখন তারা ক্ষুধার্ত ও প্রাণ বাঁচানোর ভয়ে সাগরে ভাসতে থাকে তখন যে কোনো রাষ্ট্র ও মানুষের চেতনা জাগ্রত হওয়ার কথা? রোহিঙ্গাদের ক্ষেত্রে কেন হচ্ছে না? কারণ তারা মুসলমান এই জন্যে কি? মুসলিম রাষ্ট্র বা ইসলাম নিয়ে যে সব দেশ অভিভাবকত্ব ফলাতে চান সেসব রাষ্ট্র কি এই মানবিক ইস্যু নিয়ে কিছু করছে? তারা কি মিয়ানমারে সংখ্যালঘু নয়? নাকি সংখ্যালঘু হলেই চলবে না তাকে অমুসলিম হতে হবে??

পাঠক সবিনয়ে বলছি আপনাদের পূর্ব তিমুরের কথা মনে আছে? আরেকটু মনে করার চেষ্টা করলে হয়ত বসনিয়ার ঘটনা মনে হতে পারে। প্রায় একই সময় পূর্ব তিমুর খ্রিস্টান অধ্যুষিত হওয়ায় দুনিয়ার অনেক রাষ্ট্র এগিয়ে এসেছে এর পাশাপাশি বসনিয়ায় মুসলিম নিধন চলেছে।

 

বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে রোহিঙ্গারা আসতে চাইলেও তাদের ফেরত পাঠানো হয়েছে। ঘনবসতি, সীমিত সম্পদ, স্থান সংকুলানের অভাব, অপরাধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ইত্যাকার কারণ দেখিয়ে বেশ কয়েক লাখ রোহ্ঙ্গিা মুসলমানদের স্থান দিয়ে আর দিতে পারছে না বাংলাদেশ। এ নিয়ে বাংলাদেশ যতটা করেছে এবং বিশ্ববাসীকে বারবার রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে একটা হিস্যা করার জন্যে আবেদনও করেছে তাতে কোনো সাড়া নেই। আর তাই মিয়ানমার সরকার গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করার পরও এখনো পূর্বের মত রোহিঙ্গা মুসলমানদের হত্যাযজ্ঞে মেতে উঠেছে। দেশটির সরকারের তরফ থেকে বলা হচ্ছে রোহিঙ্গারা নিজেরাই নিজেদের ঘটে আগুন দিচ্ছে। নিজেদের ঘরে আগুন দিয়ে সাগরের লোনা জলে ক্ষুধার্ত, পিপাসার্ত রোহিঙ্গারা এই শীতে ভাসছে। এরপরও বিশ্বাস করতে হচ্ছে আধুনিক সভ্য সমাজ মানবাধিকার সচেতন।

একজন ইহুদি নাগরিক বিশ্বের কোথাও অত্যাচারের শিকার হলে ইসরায়েল কিভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়। তাহলে লাখ লাখ রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর দশকের পর দশক ধরে মিয়ানমার সরকারের নির্যাতন, নারী ধর্ষণ আর হত্যাযজ্ঞে মুসলিম বিশ্ব, ওআইসি, হারাম শরীফের অভিভাবকদের নিশ্চুপ করে থাকা কি সাজে!