আজ শুক্রবার, ২৬ মে, ২০১৭

সদ্য প্রাপ্তঃ

*** যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে সফরের আমন্ত্রণ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর * সাত দফা দাবিতে উত্তরবঙ্গে পণ্যবাহী যানবাহনের ধর্মঘট আরও ২৪ ঘণ্টা বাড়ছে * যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলায় বাস্তুহারা লীগের এক নেতাকে কুপিয়ে হত্যা, একজন আটক * সিনেটের ৩৫ জন শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা * সুন্দরবনে মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে বাঘের থাবায় মৌয়ালের মৃত্যু * সৌদি আরবে শেখ হাসিনা ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে শুভেচ্ছা বিনিময়

Bangladesh Manobadhikar Foundation

Khan Air Travels

সুন্দর পৃথিবীর নিষ্ঠুর এই ভূখন্ডে রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার

শেখ কামাল হোসাইন, || বিশেষ প্রতিবেদক

বিডিনিউজডেস্ক

০৬.১২.২০১৬

মানবাধিকার!শব্দটি বিভাজন করলে আমরা দুইটি শব্দ পাই।

একটি মানব, অন্যটি অধিকার। তাহলে মানবাধিকার হচ্ছে মানুষের অধিকার। তাই মানবাধিকার বলতে মানুষের মৌলিক অধিকার এবং স্বাধীনতা সহ মানুষের সকল ন্যায়সঙ্গতঅধিকারকে বুঝায়। মানুষের জীবন ধারণ ও বেঁচে থাকার অধিকার এবং মতামত প্রকাশের অধিকার,অন্ন বস্ত্র ও শিক্ষা গ্রহণের অধিকার,ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের অংশগ্রহণের অধিকার, সামাজিক,সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিকঅধিকারই হচ্ছে এক কথায় মানবাধিকার।আর এই মানবাধিকারের প্রধান বিষয়গুলো হলো জীবনধারণের অধিকার, সম্পদের অধিকার, মানমর্যাদা ও ইজ্জত রক্ষার অধিকার, ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার,ব্যক্তিগত ও পারিবারিক গোপনীয়তার অধিকার, বিবেক ও বিশ্বাসের স্বাধীনতা, আর্থিক নিরাপত্তা লাভের অধিকার, বসবাস, যাতায়াত ও স্থানান্তরের অধিকার, আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার, চলাফেরার স্বাধীনতার অধিকার, পারিশ্রমিক লাভের অধিকার, পেশা বা বৃত্তির-স্বাধীনতার অধিকার, চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক স্বাধীনতার অধিকার, নারীর অধিকার, সংখ্যালঘুদের অধিকার, আইনের দৃষ্টিতে সমতা ও শ্রমিকের অধিকারইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। তাহলে মানবাধিকার হলো মানুষ হিসেবে তার মৌলিক সামগ্রিক ন্যায়সঙ্গত সকল অধিকার গুলোকে বুঝায়।

মানবাধিকার সব জায়গায় এবং সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। এ অধিকার একই সাথে সহজাত ও আইনগত অধিকার। ব্যক্তি হিসেবে প্রতিটি মানুষ তার মানব অস্তিত্বের ভিত্তিতে নিশ্চিতভাবে মানবাধিকার পাওয়ার যোগ্য। সর্বশেষ ও সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল হজরত মুহাম্মদ সা: ছিলেন মানবাধিকার।মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর গণহত্যা ও গণধর্ষণ থেকে রেহাই পেতে পলায়নরত রোহিঙ্গাবাহী নৌকায় গুলি চালিয়েছে দেশটির সীমান্তরক্ষী পুলিশ (বিজিপি)।গুলিতে তিনটি নৌকাডুবির ঘটনায় চার শিশুসহ অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া ৩১ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

 

রোববার দিনগত রাতে রাখাইনের মংডুর উত্তরাঞ্চলে নাফ নদীতে এই ঘটনা ঘটে।সোমবার মিয়ানমার সময় সকাল ৭টার দিকে নাফ নদীর তীরে দুটি শিশু এবং একজন নারীর মরদেহ পড়েছিল।এরমধ্যে একটি শিশু মাটিতে এমনভাবে পড়েছিল যার সঙ্গে গত বছরের ২ সেপ্টেম্বরে সিরিয়ার শরণার্থী শিশু আইলান কুর্দির মরদেহের সাদৃশ্য পাওয়া গেছে।মালয়েশিয়াভিত্তিক রোহিঙ্গা ভিশন টিভির মাধ্যমে এই ছবিটি প্রচার হয়েছে যা এরইমধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে। শিশু হত্যার এই বিভৎস চিত্র দেখে অনেকেই মিয়ানমারের হাত থেকে রোহিঙ্গা শিশুদের উদ্ধারে দেশটিতে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপেরও দাবি জানিয়েছেন।

দেশের বিভিন্ন টিভি চ্যানেলগুলো জানিয়েছে, ডুবে যাওয়া নৌকাগুলোর আরোহীদের বেশির ভাগই উত্তর মংডুর রাইমাবিল গ্রাম থেকে পালিয়ে এসেছিলেন।গত ৯ অক্টোবর বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী রাখাইন প্রদেশের মংডু এবং পার্শ্ববর্তী রাতেডং শহরের তিনটি চৌকিতে অজ্ঞাত পরিচয়ধারীদের হামলায় ১৩ জন সীমান্তরক্ষী নিহত হয়।এ ঘটনার জন্য রোহিঙ্গা মুসলমানদের অভিযুক্ত করে তাদের গ্রামগুলোতে অভিযান শুরু করে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী।জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে, অভিযানের নাম করে মিয়ামার সেনাবাহিনী, বিজিপি ও পুলিশের নেতৃত্বে রোহিঙ্গাদের ওপর ব্যাপক নির্যাতন চালানা হচ্ছে। তারা নারীদের ধর্ষণ, হত্যা এবং বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিচ্ছে।এ অভিযানে এখন পর্যন্ত ২৫০জন রোহিঙ্গা নিহত, সহস্রাধিক গ্রেফতার এবং বহু নারী ও কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। অন্যদিকে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে ১০ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে।জাতিসংঘ রাখাইনে রোহিঙ্গাদের উপর পরিচালিত নির্যাতনকে 'জাতিগত নিধন' বলে উল্লেখ করেছে।