Nabodhara Real Estate Ltd.

Khan Air Travels

Premier Bank Ltd

ইতিকাফকারীর করণীয় ও বর্জনীয়

বিডিনিউজডেস্ক.কম | তারিখঃ ০৬.০৬.২০১৮

রাসুল (সা.) অনেক নফল কাজ কখনো করতেন, কখনো ছেড়ে দিতেন। কিন্তু মদিনায় হিজরত করার পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত কখনো

রমজান মাসের শেষ ১০ দিনের ইতিকাফ ছাড়েননি। (বুখারি : ২০২৬)

ইতিকাফকারীর সবচেয়ে বড় ফায়দা হলো দুটি—এক. গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা। সাধারণত মানুষ অন্য সময় যেসব গুনাহের কাজ করে থাকে, মসজিদে অবস্থানকালে তা করে না। দুই. নেক কাজ করা ছাড়াও নেক কাজের সাওয়াব পাওয়া। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি রমজান মাসের শেষ ১০ দিন ইতিকাফ করবে তাকে দুটি হজ ও দুটি ওমরাহ পালন করার  সাওয়াব দান করা হবে।’ (শুআবুল ঈমান, হাদিস : ৩৬৮০)

অন্য হাদিসে রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একদিন ইতিকাফ করবে। আল্লাহ ওই ব্যক্তি ও জাহান্নামের মাঝে তিন খন্দক দূরত্ব সৃষ্টি করে  দেবেন। যা দৈর্ঘ্যে ও প্রস্থে পূর্ব-পশ্চিম দিগন্ত থেকেও বেশি দূরত্বসম্পন্ন হবে।’ (শুআবুল ঈমান, হাদিস : ৩৬৭৯)

ইতিকাফ যেভাবে শুদ্ধ হবে
ইতিকাফের শর্ত : এক. শরয়ী মসজিদে অবস্থান করা। ইতিকাফের জন্য উত্তম স্থান হল জুমা মসজিদ। অতঃপর মহল্লার যে মসজিদে নামাজির সংখ্যা বেশি হয়। দুই. সুন্নাত ও ওয়াজিব ইতিকাফে রোজা রাখা। তিন. জানাবাত থেকে পাক হওয়া, অর্থাহৃ স্ত্রী সহবাস, স্বপ্নদোষ, মহিলারা মাসিক ও নেফাস বন্ধ হওয়ার পর ওয়াজিব গোসল করে পবিত্র হওয়ার আগে ইতিকাফের জন্য মসজিদে প্রবেশ করা নাজায়েজ। চার. নারীরা মাসিক ও নেফাস থেকে পবিত্র হওয়া। (বাদায়েউস সানায়ে ২/১০৮)

ইতিকাফকারীর করণীয় ও বর্জনীয়
ইতিকাফকারী ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নাতগুলো সঠিকভাবে আদায় করার চেষ্টা করবে এবং বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত ও নফল আমল করার চেষ্টা করবে। রাতে যতক্ষণ পর্যন্ত আগ্রহ থাকবে, ততক্ষণ তেলাওয়াত, জিকির ও নফল নামাজে ব্যস্ত থাকবে। শুয়ে যেতে মনে চাইলে সুন্নত মোতাবেক কিবলামুখী হয়ে শুয়ে যাবে। দোয়া-মুনাজাতসহ জীবনের সব গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে এবং নিজের যাবতীয় নেক উদ্দেশ্য পূরণের জন্য, উম্মতের হেদায়েতের ও সব ধরনের ফিতনা থেকে হেফাজতের জন্য দোয়া করবে। আর কদরের রাত্রিগুলোতে অর্থাহৃ বিজোড় রাত্রিগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সব ধরনের নফল আমল করার চেষ্টা করবে। ইস্তেগফার, দরুদ শরিফ ও সকাল বেলার হাদিসে বর্ণিত দোয়া পাঠ করবে। কাজে-কর্মে, কথা-বার্তায়  ও ওঠা-বসায় অন্যের কষ্টের কারণ যেন না হয়। মসজিদের আদব, পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতার দিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

কিছু কাজ আছে, যা করা সর্বাবস্থায় হারাম তবে ইতিকাফ অবস্থায় করা আরো মারাত্মক। যেমন—পরনিন্দা, চোগলখুরী, মিথ্যা বলা, ঝগড়া করা, কাউকে অন্যায়ভাবে কষ্ট দেওয়া, অন্যের দোষ তালাশ করা, কাউকে অপমানিত করা, অহংকার, হিংসা-বিদ্বেষ ইত্যাদি। এসব কাজ পরিপূর্ণভাবে পরিহার করা জরুরি।

ইতিকাফকারীর জন্য কোনো প্রয়োজন ছাড়া কাউকে ডেকে দ্বিনি কথাবার্তা ছাড়া সাধারণ কথাবার্তা বলাও মাকরুহ। আর আড্ডার মজলিস জমানো নাজায়েজ। ইতিকাফ অবস্থায় অশ্লীল ও অনর্থক বই পুস্তক পড়া অবশ্যই পরিহারযোগ্য। মোবাইলে ইন্টারনেটে গুনাহের উপকরণগুলো ছাড়াও অপ্রয়োজনীয় ও অনর্থক উপকরণ থেকে অবশ্যই বেঁচে থাকবে। ইতিকাফ ইবাদতের জন্য, ইবাদত বিনষ্টের জন্য নয়। মসজিদের ভিতরে বিনিময় নিয়ে কোনো কাজ করা জায়েজ হবে না। এটা দ্বিনি কাজ হোক বা দুনিয়ার কাজ হোক। মালামাল উপস্থিত করে মসজিদে ক্রয়-বিক্রয় ও ব্যবসা করতে পারবে না, হ্যাঁ, প্রয়োজনে মালামাল উপস্থিত না করে ক্রয়-বিক্রয় করতে পারবে।

লেখক : সিইও, সেন্টার ফর ইসলামিক ইকোনমিকস বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা