Nabodhara Real Estate Ltd.

Khan Air Travels

Star Cure

বিডিনিউজডেস্ক.কম| তারিখঃ ০৮.১০.২০১৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্বরে এ গায়েবানা জানাজা হয়। এতে ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুরসহ কয়েক হাজার শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। জানাজায় ইমামতি করেন ডাকসুর সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক আকতার হোসেন।

জানাজার পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন শিক্ষার্থীরা। তারা এ ঘটনায় বুয়েট প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করে হত্যাকারীদের শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানান। আর বিচার কার্যে কোনো অবহেলা লক্ষ্য করা গেলে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা। তারা আববারকে শহীদ হিসেবে অবহিত করেন।

জানাজা শেষে আববারের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়। এরপর শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে স্লোগান দিতে দিতে আবরারের হত্যাকারীদের ফাঁসি দাবি জানান।

উল্লেখ্য, রবিবার (৬ অক্টোবর) দিবাগত মধ্যরাতে বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ওইদিন মধ্যরাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের নিচতলা ও দোতলার মাঝামাঝি সিঁড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।


এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গতকাল সোমবার বুয়েট ছাত্রলীগের ১০ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। ফাহাদ হত্যাকাণ্ডে ১৯ জনকে আসামি করে গতকাল রাতে চকবাজার থানায় মামলা করেছেন তার বাবা বরকতুল্লাহ। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি ও চকবাজার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।


এদিকে ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বুয়েট শাখার ১১ জন নেতাকর্মীকে স্থায়ী বহিষ্কার করেছে ছাত্রলীগ। ফাহাদের সহপাঠীদের অভিযোগ, শিবির সন্দেহে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।


এদিকে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের নির্যাতনে নিহত বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১১টায় কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গা গ্রামের নিজ বাসার সামনে আবরারের তৃতীয় জানাজা শেষে স্থানীয় রায়ডাঙ্গা কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।


সকাল সাড়ে ৬টার দিকে আল-ইকরা জামে মসজিদের সামনে আবরার ফাহাদের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। শত শত মানুষ এ জানাজায় অংশ নেয়। পরে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মরদেহ নেয়া হয় তার গ্রামের বাড়ি কুমারখালী উপজেলার রায়ডাঙ্গা গ্রামে।


সকাল ৯টার দিকে আবরারের মরদেহ তার নিজ গ্রাম কুমারখালী উপজেলার রায়ডাঙ্গা গ্রামে পৌঁছায়। সেখানে সকাল ১০টায় তার তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষ হওয়া মাত্রই বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী রাস্তায় নেমে হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিক্ষোভ করে। তারা আবরার হত্যাকারীদের গ্রেফতারসহ ফাঁসির দাবি জানায়।