Saturday 25th of March 2017

সদ্য প্রাপ্তঃ

***আইপিএলকে বাতিল করে দিল বিসিসিআই!***

Bangladesh Manobadhikar Foundation

Khan Air Travels

৭২ মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের বিল বন্ধ, বিদ্যালয়ে এখনও পৌঁছেনি সব বই

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | তারিখঃ ০৯.০১.২০১৭

নতুন বছরের পহেলা তারিখ ঘটা করে হয়েছে বই উৎসব।

কিছু কিছু জায়গায় নতুন চকচকে বই পৌঁছে গেছে বলে প্রাণোচ্ছলতাও দেখা যায় উৎসবে।তবে উৎসবের এক সপ্তাহ পেরুলেও এখনও বিদেশে ছাপানো প্রাথমিক স্তরের ৪৭ লাখ বই এখনও বিদ্যালয়ে পৌঁছেনি। ভারতের শীর্ষাসাই বিজনেস নামের একটি প্রতিষ্ঠান মুম্বাই ও পুনেতে ৪৭ লাখ বই ছাপার কাজ করে, যা প্রাথমিকের মোট বইয়ের প্রায় ৪ শতাংশ। দরপত্র অনুযায়ী ডিসেম্বরের মধ্যে এসব বই পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু সময়মতো এই সব বই বিদ্যালয়ে পৌঁছায়নি। এনসিটিবির চেয়ারম্যান নারায়ণ চন্দ্র সাহা বলেছেন, চট্টগ্রাম বন্দরে থাকা পাঠ্যবইগুলো খালাস হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে স্কুলে পৌঁছে যাবে। তবে এনসিটিবির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এসব বই কোথায় আছে, তা এখন পর্যন্ত স্পষ্ট নয়। প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে বিতরণের জন্য মোট ৩৬ কোটি ২১ লাখ ৮২ হাজার ২৪৫টি বই ছাপানোর কথা। এর মধ্যে মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যবই ছাপিয়েছেন দেশীয় মুদ্রাকররা। আর প্রাথমিক স্তরের ১১ কোটি ৫৫ লাখ ২৬ হাজার ৯৫২টি বই ছাপানো হয়েছে আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে, দেশে-বিদেশে। দেশের পাশাপাশি এবার ভারত ও চীনে প্রাথমিক স্তরের বই ছাপানো হয়েছে।

এ ছাড়া দেশি মুদ্রাকরদের অনেকেও সময়মতো বই সরবরাহ করতে পারেননি, এ জন্য ৭২টি মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের বিল আটকে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নিম্নমানের কাগজ সরবরাহ করায় বিল আটকে দেওয়া হয়েছে চারটি কাগজকলের। এ ছাড়া দরপত্র অনুযায়ী সময়মতো বই ছাপিয়ে না দেওয়ার কারণে ৭২টি মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানের ৩৬ কোটি ১৪ লাখ টাকার বিল আটকে দেওয়া হয়েছে। দেশীয় এসব মুদ্রাকর মাধ্যমিক স্তরের বই ছাপিয়ে দিয়েছেন। এসবের পাশাপাশি পাঠ্যবইয়ে ভুলভ্রান্তি ও অসংগতি নিয়ে সমালোচিত হচ্ছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। প্রতিষ্ঠানটি জোড়াতালি দিয়ে সব পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে।

এদিকে দেশি প্রতিষ্ঠান সরকার প্রিন্টার্স সময়মতো বই দিতে পারেনি। গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি ৯ লাখ বই দিতে পারেনি। নামে-বেনামে ওই প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ বই ছাপার কাজ নিয়েছে। ১ জানুয়ারি পর্যন্ত এসব প্রতিষ্ঠান ৪০ লাখ বই দিতে পারেনি। এনসিটিবি সূত্র জানায়, বিভিন্ন জেলার আপৎকালীন মজুদ থেকে বই পাঠিয়ে দেশের কিছু এলাকায় পাঠ্যপুস্তক উৎসব করা হয়েছে। বিশেষ করে নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও চট্টগ্রামের কয়েকটি এলাকায় প্রাথমিক স্তরের শিশুরা সব বই পায়নি। বই ছাপার জন্য তারা বিভিন্ন পেপার মিল থেকে কাগজ কেনে। কিন্তু এবার ম্যাপ, আল নুর, হাক্কানি ও গাজীপুর পেপার মিল নামে চারটি প্রতিষ্ঠানের কাগজ ছিল নিম্নমানের। কাগজের উজ্জ্বলতা (ব্রাইটনেস) কম ছিল। আকারে ছিল ছোট এবং পুরুত্ব কম ছিল। এ কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩৬ কোটি টাকার বিল আটকে দেওয়া হয়েছে।