আজ শুক্রবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৭

সদ্য প্রাপ্তঃ

*** ময়মনসিংহে সুটকেসের ভেতর যুবকের লাশ * ঢাবি অধিভুক্ত ৭ কলেজের মাস্টার্স পরীক্ষা স্থগিত * দিনাজপুরে বজ্রপাতে নিহত ৬ * দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়ছে 'সুপার ম্যালেরিয়া' * রিয়ালের পথের ইতি টানতে চান বেনজেমা * মধ্যবাড্ডায় অগ্নিকাণ্ডে মায়ের মৃত্যু, ২ সন্তান দগ্ধ * পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই: বাড়ছে ক্ষোভ, ঝিমিয়ে পড়া

Bangladesh Manobadhikar Foundation

Khan Air Travels

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | তারিখঃ ১০.০৯.২০১৭

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) বিভিন্ন স্থান থেকে ময়লা-আবর্জনা নিয়ে ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরস্থ রেললাইনের দুই পাশে ফেলায় তা আবর্জনার স্তুপে রূপ নিয়েছে।

নিয়মিত ময়লা অপসারণ না করায় দুর্গন্ধে একদিকে ঘটছে পরিবেশ দূষণ, অন্যদিকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় ও কেবি কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের। তবে এ ব্যপারে প্রশাসনের কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের থাকার জন্য রয়েছে ১৩টি হল, শিক্ষকদের জন্য রয়েছে কোয়ার্টার। এসবের পাশাপাশি গড়ে উঠেছে অসংখ্য খাবার হোটেল ও স্টেশনারি দোকান। প্রতিনিয়ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কোয়ার্টার, আবাসিক হলসহ বিভিন্ন স্থানে ময়লা আবর্জনা জমা হচ্ছে। সে সব ময়লা নিয়ে ফেলা হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্য দিয়ে চলে যাওয়া রেললাইনের দুই পাশে। এছাড়া, বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা বৃষ্টির পানির সঙ্গে ধুয়ে বাকৃবির পাশ দিয়ে বহমান ব্রহ্মপুত্রে নদে গিয়ে পড়ছে। এতে দূষিত হচ্ছে নদীর পানি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইয়াসিন মোড়ের দোকানদার ও সেখানকার বাসিন্দারা বলেন, প্রতিদিন সকালে বিভিন্ন ট্রাক ও ভ্যানে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানের ময়লাগুলো কোনো ব্যবস্থাপনা ছাড়াই এই রেললাইনের আশেপাশে ফেলা হচ্ছে। সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে সেগুলো পঁচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। হোটেলের আবর্জনা ফেলার বিষয়ে জব্বার মোড়ের এক হোটেল মালিক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ময়লা ফেলার ডাস্টবিন করে দেয়ার কথা থাকলেও এখনো নির্দিষ্ট জায়গা দেয়া হয়নি। তাই আমরা আমাদের সব আবর্জনা হোটেলের পেছনের ডোবায় ফেলে দেই।

এছাড়া, প্রায় প্রতিটি হলের আবর্জনা হলগুলোর সামনে বা পেছনে ফেলা হয়। কয়েকটি হলের জন্য ডাস্টবিন থাকলেও সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না। ফলে দুর্গন্ধে সেগুলোর সামনে দিয়ে চলাফেরা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এসব বর্জ্য সঠিক উপায়ে ব্যবস্থাপনা না করায় ক্যাম্পাসের পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি মশা-মাছির উপদ্রবও লক্ষণীয় মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, চিকনগুনিয়ার মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু ময়লা অপসারণে প্রশাসনের তেমন কোন পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না বলে জানান শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলথ কেয়ারের চিফ মেডিকেল অফিসার ডা. ফয়েজ আহমদ বলেন, হোটেলগুলোর পাশেই আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। এতে সহজেই রোগ-জীবাণু ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে বায়ুবাহিত ও পানিবাহিত রোগ যেমন ডায়রিয়া, আমাশয়ের প্রকোপ বেড়ে যেতে পারে। এছাড়া, আবর্জনা পরিবেশের জন্যও যথেষ্ট ক্ষতিকর।

স্বাস্থ্য প্রতিষেধক শাখার নির্বাহী মেডিকেল অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, জব্বারের মোড় থেকে প্রতি তিন দিন পর পর আমরা ময়লা অপসারণ করার চেষ্টা করছি। কিন্তু  দোকানদাররা অতিরিক্ত ময়লা ফেলায় আমরা একেবারে পরিষ্কার করতে পারছি না। এছাড়া, অন্যান্য হল ও কোয়র্টার থেকে ময়লা আবর্জনা নিয়ে ইয়াসিনের মোড়ে নিয়ে ফেলা হয়। সেখানে একটি বড় ডাস্টবিন করার অনুমোদন হয়েছে। তখন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করার চেষ্টা করা হবে।