Nabodhara Real Estate Ltd.

Khan Air Travels

Premier Bank Ltd

যুদ্ধে বেঁচে যাওয়ারা তাদের প্রিয়জনদের স্মৃতি আগলে রেখেছেন বাক্সে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | তারিখঃ ১৫.০৪.২০১৮

আফগানিস্তানে বেশ কয়েকটি যুদ্ধে বেঁচে যাওয়ারা তাদের প্রিয়জনদের স্মৃতি আগলে রেখেছেন বাক্সে।

যুদ্ধে গিয়ে যারা নিহত হয়েছেন, তাদের সম্মানে এসব মেমোরিবক্স। নিজের অংক ও ইংরেজী ক্লাসের জন্য টাকা যোগাতে কাবুল ফার্মেসিতে কাজ করতো ১৭ বছরের ফয়সাল। স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হবার। সেই স্বপ্ন সপ্নই রয়ে গেলো। অন্যান্য দিনের মতো সেদিনও মার কাছে বিদায় নিয়ে ঘড় থেকে বের হয় ফয়সাল। সেটাই ছিল তার শেষ বিদায়। কিছুক্ষণ পরই ওই ফার্মেসির কাছে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত হয় ফয়সাল এবং তার ১৫ বছরের চাচাত ভাই আহমাদুল্লাহসহ পাঁচজন।

ফয়সাল ও আহমাদুল্লাহ উৎসর্গ করে মেমোরি বক্সে চালের একটি ছোট কৌটা রাখবেন আদিলা। ফয়সালের মা আদিলা হামিদি বলেন,"জোরে একটা শব্দ শুনি। এরপর দৌড়ে ফার্মেসির দিকে যাই যেখানে ফয়সাল কাজ করছিলো। আমাকে বলা হয় কোনকিছু না দেখতে। আমি আর আমার ছেলেকে খুঁজে পাই না। বোমার আঘাতে ও ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছিলো।" ফয়সালের বাবা জাইবুল্লাহ আবদালি বলেন, "আমাদের যারাই সহিংসতা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের জড়িত তাদের বিচার ও শাস্তি হওয়া উচিৎ। যেন তারা আফগানিস্তানের পরের প্রজন্মকে ভুক্তভোগী না করতে পারে। "

কাবুলের একটা ঘরে ৩০০টি মেমোরি বক্স আছে। যেগুলোর মধ্যে আফগানিস্তানের যুদ্ধে নিহতদের সাথে জড়িত স্মৃতিগুলো সযত্নে রেখে দিয়েছেন তাদের স্বজনরা। নিহত স্বজনদের পছন্দের জিনিসগুলোই রাখা হয় এসব বাক্সে। প্রতিটা মেমোরি বক্স প্রস্তুত করতে সময় লাগে চারদিন। এরপর নিজেদের ইচ্ছা আর হতাশা নিয়ে বলতে দুটি চিঠি লিখতে দেয়া হয় তাদের। একটা নিহত স্বজনকে, আরেকটা আফগান সম্প্রদায়কে। মেমোরি বক্স প্রকল্প ব্যবস্থাপক সেলিম রাজাবি বলেন, "কষ্ট ও দুঃখ ভাগ করলে হতাহতদের পরিবারের বোঝা কিছুটা কমবে। এভাবে সবাই তাদের কষ্টটা বুঝতে পারবে এবং এই কষ্ট থেকে বের হওয়ার একটা উপায় খুঁজে পাবে। একটা ভাল ভবিষ্যতের দিকে এগুতে পারবে।" এভাবে বেঁচে যাওয়াদের দেখা হচ্ছে অন্য বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের সাথে। একে অন্যের সাথে বলতে পারছে তাদের কষ্ট আর গল্প। গত চল্লিশ বছরের ভয়াবহ সব যুদ্ধে যারা প্রাণ হারিয়েছেন তাদের সম্মাননায় এই প্রকল্পের উদ্যোগ নেয়া হয়।