Nabodhara Real Estate Ltd.

Khan Air Travels

Star Cure

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | তারিখঃ ১০.০৬.২০১৯

ইসরাইলে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ডেভিড ফ্রাইডম্যান বলেছেন, অধিকৃত জর্দান নদীর পশ্চিম তীরের অন্তত কিছু অংশ

দখলে রাখার অধিকার তেলআবিবের রয়েছে। মার্কিন দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ফ্রাইডম্যান বলেন, কিছু সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে পশ্চিম তীরের কিছু অংশ দখলে রাখার অধিকার আছে ইসরাইলের। সাক্ষাতকারটি শনিবার নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত হয়েছে।

২০১৬ সালে ইসরাইলের অবৈধ বসতিস্থাপনের বিরুদ্ধে জাতিসংঘকে নিন্দা প্রস্তাব পাসের সুযোগ দিয়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসন সুষ্পষ্টভাবে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ফ্রাইডম্যান সাক্ষাতকারে বলেন, জাতিসংঘের প্রস্তাবে ফিলিস্তিনিদের অধিকারের প্রতি অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এর আগে একই ধরণের বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি ক্ষমতায় আসার পর সরাসরি ফিলিস্তিনিদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন এবং জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন।

এর আগে ওবামা স্বীকার করেছিলেন, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলের দখলদারিত্ব এবং সেখানে বসতিস্থাপন প্রক্রিয়া মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার পথে প্রধান বাধা। ফ্রাইডম্যান এমন সময় এসব মন্তব্য করলেন যখন চলিত মাসের শেষে দিকে ট্রাম্পের ‘ডিল অব দ্যা সেঞ্চুরি’র একটা অংশ বাহরাইনে উন্মুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। ফিলিস্তিনিরা ডিল অব দ্যা সেঞ্চুরির বিরোধিতা করেছে।

এদিকে ফ্রাইডম্যানের এমন মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ সংগঠনগুলো। ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের কর্মকর্তা বাসেম নাঈম বলেছেন, মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের উগ্র নেতৃত্বের ধ্বংসাত্মক চিন্তাধারা ফুটে উঠেছে। মার্কিন রাষ্ট্রদূত উগ্র ইহুদিবাদী নেতাদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে বক্তব্য রেখেছেন এবং তার এ মন্তব্য আরব জাতির প্রতি মার্কিন সরকারের অবজ্ঞা ফুটিয়ে তুলেছে।

ফিলিস্তিনের ইসলামি জিহাদ আন্দোলনের মুখপাত্র দাউদ শিহাব বলেছেন, মার্কিন রাষ্ট্রদূত একজন ইহুদিবাদী বসতি স্থাপনকারীর মতোই কথা বলেছেন যে কথায় বসতি স্থাপনকারী নেতাদের বক্তব্যের প্রতিধ্বনি শোনা যাচ্ছে। ফিলিস্তিনের ফাতাহ আন্দোলন এক বিবৃতিতে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যকে ইহুদিবাদীদের সর্বগ্রাসী ও দখলদার মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরাইল যে ফিলিস্তিনি জাতির অস্তিত্ব ও অধিকার ধ্বংস করার যে অপতৎপরতা চালাচ্ছে মার্কিন রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যের মাধ্যমে সে প্রচেষ্টা এগিয়ে নেয়ার দায়িত্ব পালন করেছেন।

 

সূত্র: পার্সটুডে ও রয়টার্স