মুদ্রণ

দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র চলছে

বিডিনিউজডেস্ক.কম | তারিখঃ ০৪.১০.২০১৫

বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেছেন, সম্প্রতি দুই যুদ্ধাপরাধীর বিচারের রায়কে কেন্দ্র করে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র চলছে।

“সাধারণ মানুষের জীবনকে নির্বিঘ্ন করা সকল রাজনৈতিক দলেরই দায়িত্ব। এটি কেবল সরকারের একার দায়িত্ব নয়। এবছরের শুরুতে দেশে সহিংসতা সৃষ্টির মাধ্যমে যে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিলো, সরকার অত্যন্ত দৃঢ় হাতে তা দমন করেছে। দুই বিদেশী নাগরিক হত্যা তারই ধারাবাহিকতা। সম্প্রতি যুদ্ধাপরাধীর বিচারের রায়কে কেন্দ্র করেই দেশে পুনরায় অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র হচ্ছে,”।
মন্ত্রী রাজধানীর সিরডাপ সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত মহাত্মা গান্ধীর জন্মজয়ন্তী অনুষ্ঠানে একথা বলেন।
মহাত্মা গান্ধীর ১৪৬তম জন্মজয়ন্তী ও আন্তর্জাতিক অহিংসা দিবস উপলক্ষে গান্ধী আশ্রম ট্রাস্ট “গান্ধী দর্শনের নিরীখে মানবাধিকার” শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন আইন ও শালিস কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক এ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন বাংলাদেশে ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের এ্যামবাসাডর পিয়েরে মায়াদোন, ভারতীয় হাইকমিশনের প্রতিনিধি নিনাদ এস দেশপান্ডে, সাংবাদিক সৈয়দ আবুল মকসুদ এবং গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টের সম্পাদক ঝর্ণাধারা রায় চৌধুরী।
রাশেদ খান মেনন সম্প্রতি দেশে সংঘটিত দুই বিদেশী নাগরিক হত্যাকান্ডের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশকে অন্য দেশের জন্য অনিরাপদ করে তুলতেই এই সহিংসতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। এটি অনাকাংখিত ও দুঃখজনক। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমাদের সবাইকে সচেতনভাবে কাজ করতে হবে।
মহাত্মা গান্ধীর অহিংসা নীতিকে একটি সার্বজনীন মানবাধিকার ধারণা হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর সকল মানবাধিকার চার্টারে যেসব কথা বলা হয়েছে, তা মহাত্মা গান্ধী অনেক আগেই বলে গিয়েছেন। বাংলাদেশের সংবিধানেও তাঁর অহিংসা নীতিরই প্রতিফলন ঘটেছে।
পিয়েরো মায়োদন সম্প্রতি দুই বিদেশী নাগরিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে সহিংসতা বন্ধ করতে হলে রাজনীতিবিদ, অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, সুশীল সমাজসহ সকল নাগরিককে সহিংসতার বিরুদ্ধে কাজ করতে হবে।
এ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, মহাত্মা গান্ধী সারা জীবনে মানবাধিকারের বিপক্ষে একটি কাজও করেননি। তিনি সারাজীবন অহিংসার বাণী প্রচার করেছেন। নিজের জীবনেও তিনি অহিংসার চর্চা করেছেন। সমাজে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে নিজেদের জীবনাচারণেও মানবিক হতে হবে। রাষ্ট্রে সহিংসতা বন্ধে রাজনীতিবিদদের এগিয়ে আসতে হবে।