Print

শরণার্থীদের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে ভাবছে লেবানন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | তারিখঃ ১৬.০৫.২০১৬

সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধের পর প্রতিবেশী দেশগুলোতে শরণার্থী ছড়িয়ে পড়েছে।

প্রায় ১৫ লাখ শরণার্থী রয়েছে লেবাননে। তাদের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে এখন নতুন করে ভাবছে লেবানন। শরণার্থীদের কেবল মুখের খাবার নয়, মনের খোরাকও দিতে চায় দেশটি।লেবাননের রাজধানী বৈরুতের আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্যবিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক ও শিক্ষক রিমা আফিফি শরণার্থী শিশুদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে চান। তিনি বলেন, দেশটিতে এখন প্রতি চারজনে একজন শরণার্থী। তাই তাদের বোঝা মনে না করে সম্পদে পরিণত করার দায়িত্ব লেবাননেরই।এই চিন্তা থেকেই লেবাননের আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয় শিশুদের শিক্ষার জন্য বিশেষ বৃত্তির ব্যবস্থা করেছে। দুই শিফটের স্কুল চালু করেছে। সেখানে উচ্চশিক্ষার জন্য বৃত্তি দেওয়া হচ্ছে। আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে।তবে শুরুর কাজটি ছিল খুবই কঠিন। কেবল সিরীয় শরণার্থী নয়, আফ্রিকা ও সাহারা অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য শিক্ষার ব্যবস্থা করছে আমেরিকান ইউনিভার্সিটি।

প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয় মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে ১৮ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য বৃত্তি চালু করেছে। আফিফি বৃত্তি পরিচালনাকারী প্রকল্পের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।আফিফি বলেন, এখানে বিভিন্ন মানুষ সমাজের বিভিন্ন স্তর থেকে এসেছে। তারা নিজেদের মধ্যে নানা বিষয়ে আলোচনা করে। এতে পরস্পরের মধ্যে ভাব বিনিময় হয়। শরণার্থী মানেই বোঝা নয়। তাদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে সম্পদে পরিণত করা যায়। নিজ দেশে ফেরার পরও শরণার্থীরা সে শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে ভালো জীবন যাপন করতে পারে।মাস্টারকার্ড ফাউন্ডেশন নামে আন্তর্জাতিক সংস্থা আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়কে তহবিল বরাদ্দ দিচ্ছে। তাদের সাড়ে তিন কোটি ডলার তহবিল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।ফাউন্ডেশনের সভাপতি রিতা রায় বলেন, শরণার্থী শিশুদের জন্য বেতন, বিনা মূল্যে বই সরবরাহ, আবাসনেরবন্দোবস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিজেদের শিক্ষা কীভাবে কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগ করবে, সে পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে।