Print

দারুণ জমজমাট অবৈধ কিডনি ব্যবসা
জাতীয় ডেস্ক | তারিখঃ ১৫.১০.২০১৫

বাংলাদেশে জমে উঠেছে অবৈধ কিডনি ব্যবসা। কালো বাজারে কিডনি বিক্রি করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে মধ্যসত্ত্বভোগী দালাল চক্র।

এমন একটি গ্রামের নাম কালাই। পটুয়াখালীর জেলার কালাই উপজেলায় বেশিরভাগ লোক অবৈধ কিডনি ব্যবসায় জড়িত। দারিদ্র্যতার কারণে এ গ্রামের অধিকাংশ লোক কালোবাজারে নিজের কিডনি বিক্রি করে দেয়। গ্রাম ঘুরলেই মেলে কিডনি বিক্রির দালাল।এই গ্রামে বাস করেন রওশন আরা নামের এক নারী। তিনি অভাবের কারণে নিজের কিডনি বিক্রি করে দেন। কিডনি বিক্রি করতে গিয়ে রওশন আরার অস্ত্রোপচারে জটিলতা দেখা দিয়েছিল। সে ২ বছর আগের ঘটনা। রওশন আরা এখন সুস্থ আছেন।
রওশন আরাকে প্রশ্ন করা হয়, কেন তিনি কিডনি বিক্রি করলেন। উত্তরে রওশন বলেন, তার স্বামী অসুস্থ, মেয়ে লেখাপড়া করে। তাদের দুজনের খরচ চালাতে তিনি শহরের গার্মেন্টেস চাকুরী নেন। কিন্তু তাতে পর্যাপ্ত অর্থ আসে না। স্বামীর চিকিৎসা ব্যয় ও মেয়ের লেখাপড়ার খরচ চালাতে গিয়ে কিডনি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন রওশন আরা। কিডনি বিক্রিতে কোন দালাল সহায়তা করেছে। এ প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করলে তিনি দালালের নাম বলতে চাননি।কালাই থানার পুলিশ প্রধান সিরাজুল ইসলাম বলেন, এই বছর কালাই গ্রামে ৪০ লোক কিডনি বিক্রি করেছে। ২০০৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত এই গ্রামের ২০০ লোক কিডনি বিক্রি করেছে।এই মুহূর্তে এই গ্রামের ১২ জন বাসিন্দা নিখোঁজ রয়েছে। সন্দেহ করা হচ্ছে এরা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে কিডনি বিক্রি করতে ভারত গেছে।অনুসন্ধানে জানা গেছে, জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার ২৩টি গ্রামের ৩৮ জন ঋণগ্রস্ত-অভাবী মানুষ দাদন ও এনজিও’র ঋণের কিস্তির চাপে বিদেশে গিয়ে তাদের দেহের কিডনি বিক্রি করেছেন। তবে কিডনি বিক্রির এ প্রবণতা এখন জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। দেশের আরও অন্তত ৬টি জেলার (ঢাকা, মাগুরা, রাজশাহী, সিলেট, সিরাজগঞ্জ ও বরিশাল) ঋণগ্রস্ত অভাবী মানুষেরা নিজ দেহের মূল্যবান সম্পদ কিডনি বিক্রি করেছেন। এই মুহূর্তে কিডনি বিক্রির উদ্দেশ্যে নারী-পুরুষ মিলে অন্তত ৫০ জন বিদেশে (বিশেষ করে ভারত ও সিঙ্গাপুরে) অবস্থান করছেন।