Print
বিভাগঃ জাতীয়

বের হলো যাত্রাবাড়ির জোড়া খুনের রহস্য

বিডিনিউজডেস্ক.কম

তারিখঃ
২৬.০৩.২০১৫

রাজধানীর উত্তর যাত্রাবাড়ীর কলাপট্টি এলাকার নিজ বাসায় পুলিশের সাবেক কর্মকর্তার স্ত্রী রওশন আরা ও তার গৃহকর্মীর মেয়ে কল্পনা আক্তারকে হত্যা করে টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করার জন্যই ।

আর এ হত্যাকাণ্ডের জড়িত সন্দেহে আটক সাঈদ হাওলাদার (১৮) রওশন আরার বাসার গৃহকর্মী লাকি আক্তারের ছেলে। গতকাল বুধবার দিবাগত রাত পর্যন্ত সাঈদকে জিজ্ঞাসাবাদ করে হত্যাকাণ্ডের পুরো রহস্য উন্মোচনের চেষ্টা করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। তাতে এতোখানি তথ্য উদ্ধার করতে পেরেছেন তারা।

ভাই বাদি মোজাম্মেল হক বলেন ‘বাসায় অপরিচিত কোনো লোক প্রবেশের সুযোগ নেই। দুপুরে লাকি আক্তার দাঁতের ডাক্তারের কাছে যায়। এরপর পরিচিত কেউ এসেছিল বলেই শিশু কল্পনা কলাপসিবল গেটের তালা খুলে দিয়েছিল। হত্যার পর খুনিরা তালার সঙ্গে চাবি রেখেই চেলে যায়।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাসায় লুট করার জন্য গিয়ে রওশন আরাকে হত্যা করে সাঈদ ও তার সহযোগী। কিন্তু ঘটনা দেখে চিৎকার করায় ছোট বোনকেও রেহাই দেয়নি তারা।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর জানান, সাঈদকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদে এ হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। টাকা ও স্বার্ণালঙ্কার লুট করার জন্যই রওশন আরাকে হত্যা করা হয়। ঘটনা দেখে ফেলায় শিশু কল্পনাকেও হত্যা করা হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের ওয়ারী বিভাগের উপ-কমিশনার মোস্তাক আহমেদ বলেন, ‘সাঈদকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আমরা হত্যার রহস্য উদঘাটনের কাছাকাছি পৌঁছে গেছি। খুব শিগগিরই এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানানো হবে।’

যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অবনি শঙ্কর কর বলেন, ‘চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডটি তদন্তে পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ ও র‌্যাবের একাধিক টিম কাজ করছে। খুব শিগগিরই মোটিভ বেরিয়ে আসবে।’

সাঈদকে আটকের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটি আমার জানা নেই। অন্যকোনো টিম হয়তো তাকে ধরে থাকতে পারে।’

পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনির একটি সিএনজি গ্যারেজ থেকে সাঈদ হাওয়ালাদারকে (১৮) আটক করে পুলিশ। পরে রাতেই তাকে যাত্রাবাড়ী থানায় হস্তান্তর করা হয়। সাঈদ নিহত রওশন আরার বাসার গৃহকর্মী লাকি আক্তারের ছেলে। সাঈদের বাবার নাম হারুন-অর রশিদ।

সূত্রে জানা যায়, সাঈদের কাছ থেকে বেশকিছু টাকা স্বর্ণালঙ্কারসহ কিছু আলামতও উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার সাঈদকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে ডিবি পুলিশ। পরে দুপুর ও বিকেলে কলাপট্টি এলাকায় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়।

গোয়েন্দা সূত্রে জানায়, লাকি আক্তারের কাছে যাওয়ার নামে রওশন আরার বাসায় মাঝে মধ্যেই যেতো সাঈদ। সে মাদকাসক্ত ও বখাটেদের সঙ্গে চলাফেরা করতো। সম্প্রতি সে রওশনা আরার কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করে। ওই টাকা না পেয়ে সে রওশন আরাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। সাঈদ জানতো, ওই বাসায় নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার আছে।

রওশন আরা ভাই বাদী মোজাম্মেল হোসেন বলেন,’

মোজাম্মেল আরো বলেন, ‘বাসা থেকে একটি মোবাইল ফোন, একটি ল্যাপটপ, সামান্য কিছু টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার খোয়া গেছে। প্রায় ১০ ভরি স্বর্ণ লুকানো ছিল। সেটি খুঁজে পায়নি খুনিরা।’

রওশন আরার স্বামী সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল কুদ্দুস চাকরি থেকে অবসর নেয়ার পর ১৯৯৬ সালে মারা যান। এরপর তার তিন ছেলে, দুই মেয়ে দেশের বাইরে (যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা) চলে যান। পরে গৃহকর্মী লাকি আক্তার ও তার শিশু কন্যা কল্পনা রওশন আরার সঙ্গে ওই বাসায়ই থাকতেন। এক মাস আগে লাকির খালাতো বোন গার্মেন্টকর্মী চম্পাও তাদের সঙ্গে থাকতে শুরু করেন। হত্যাকাণ্ডের পর মঙ্গলবার রাতে লাকি ও চম্পাকে জিজ্ঞাবাদের জন্য পুলিশ আটক করে। তাদের দেয়া তথ্যের সূত্র ধরেই সন্দেহভাজন সাঈদকে আটক করে পুলিশ।

এদিকে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়না তদন্ত শেষে শিশু কল্পনাকে জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হয়। আর রওশন আরার মরদেহ সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের হিমাগারে রাখা হয়েছে। ছেলে-মেয়েরা দেশে ফিরলেই দাফনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।