Tuesday 25th of April 2017

সদ্য প্রাপ্তঃ

*** বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত * রাজধানীতে কালবৈশাখীর ছোবল * আজ পবিত্র শবে মেরাজ * ৪ বছর পরও রানা প্লাজায় আর্তনাদ * রাজধানীতে যুবককে পিটিয়ে হত্যা * ঢাবিতে ফের সংঘর্ষে ছাত্রলীগ * যুবদল-ছাত্রদলের কমিটি গঠনের নির্দেশ খালেদার **

Bangladesh Manobadhikar Foundation

Khan Air Travels

ফায়ার ব্রিগেডের ওপর নির্ভরতা কমাতে পৃথক হাইড্রেন্ট স্থাপণ জরুরি:ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ

জাতীয় ডেস্ক | তারিখঃ ০৯.০১.২০১৭

আমাদের শপিং মল অথবা বাসা বাড়িতে অগ্নিনির্বাপণের সুব্যবস্থা নেই।

প্রতিটি দোকান অথবা বাসা বাড়িতে ফায়ার ফাইটিং বা অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা আছে কি না তা যাচাই করেই ট্রেড লাইসেন্স অথবা রাজউকের অনুমতি দেওয়া উচিত। গতকাল গুলশান ডিসিসি মার্কেটের দোকানগুলোতে আগুন বৃদ্ধি পাওয়ার একটি কারণ হচ্ছে সেখানে প্রচুর পরিমাণ কসমেটিকস পণ্য ছিল, যা আগুন আরও উসকে দেয়। এ জন্য শপিং সেন্টারগুলোতেও দুর্ঘটনা রোধের জন্য সব ধরনের প্রতিরোধ ব্যবস্থা আছে কি না তা সংশ্লিষ্টদের তদারক করতে হবে। বড় শপিং সেন্টারগুলোতে হাইড্রেন্টের (আগুন নেভাতে ব্যবহূত পানির কল) ব্যবস্থা করতে হবে।আর বাসা বাড়ির সামনে হাইড্রেন্টের ব্যাবস্থা করতে হবে যাতে করে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা আসার আগে ধ্রুত আগুন নেভানোর কাজ শুরু করতে পারে।আর সামগ্রিকভাবে ঢাকা শহরের জন্য ওয়াটার হাইড্রেন্টের সমন্বিত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে হবে, যাতে করে যে কোনো স্থান থেকে ফায়ার ব্রিগেড পানি ব্যবহার করতে পারে।

গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নগর বিশেষজ্ঞ ও স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আগুন নেভানোর জন্য শপিং সেন্টারগুলোতে স্বয়ংসম্পূর্ণ ‘ফায়ার ফাইটিং’ বা অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা থাকার কথা। কিন্তু ডিসিসি মার্কেটের দোকানগুলোতে এমন কোনো ব্যবস্থা ছিল না। প্রথমত শপিং মলগুলোতে পানির সুব্যবস্থা থাকা উচিত। অথচ গুলশানের মার্কেটে আগুন নেভানোর জন্য হাতিরঝিল থেকে পানি আনতে হয়েছে। কিন্তু শুধু ফায়ার ফাইটিংয়ের ব্যবস্থা থাকাই যথেষ্ট নয়, আগুন নিয়ন্ত্রণের জন্য পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থাও করতে হবে। এ দুটো বিষয় নিশ্চিত করার পর যে বিষয়টি বেশি গুরুত্বপূর্ণ তা হলো প্রতিনিয়ত এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। এ জন্য ড্রিল করতে হয়। আগুন লাগলে করণীয় কী হবে মাসে অন্তত একবার সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ দেওয়া উচিত। এরই মধ্যে গার্মেন্টের শ্রমিকরা বিষয়টি আয়ত্তে এনেছেন। এর ফলে আগের চেয়ে আগুন লাগার দুর্ঘটনায় গার্মেন্টে শ্রমিক মৃত্যুর হার কমে এসেছে। কিন্তু গুলশানের মার্কেটে আগুন নিয়ন্ত্রণের কোনো ব্যবস্থাই ছিল না। এখানে মার্কেটের দোকানগুলো স্বতঃস্ফূর্তভাবে গড়ে উঠেছে। যে যার খেয়াল খুশিমতো বৈদ্যুতিক তার লাগিয়েছে। এই স্থপতি বলেন, ভাবলে অবাক হই, কোটি কোটি টাকার মালামাল যে দোকানগুলোতে আছে, সেখানে ফিটনেস সার্টিফিকেট ছাড়াই বছরের পর বছর ব্যবসা করছে। এটি সত্যি উদ্বেগজনক।

এই দোকানগুলোতে এমন সব পণ্য ছিল (পারফিউম, এয়ারকন্ডিশন মেশিন, ফার্নিচার ও এর ব্যবহূত সামগ্রী এবং মশার স্প্রে), যা কিনা আগুন আরও উসকে দেয়। এমনকি এগুলোতে আগুন লাগলে তা প্রচণ্ড বেগে বিস্ফোরিত হয়। আগুনে সৃষ্ট দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য দোকানগুলোতে কোনো ব্যবস্থাই ছিল না। এমনকি দোকানগুলোতে সঠিক ফায়ার ফাইটিং করার ব্যবস্থা ছিল কি না তা তদারকির জন্যও কোনো ব্যবস্থা ছিল না। গার্মেন্ট খাতে যেমন তালিকা ধরে দুর্ঘটনা রোধে কারখানাগুলো সব ব্যবস্থা নিয়েছে কি না তা নিশ্চিত করা হচ্ছে, একইভাবে শপিং সেন্টারগুলোতেও দুর্ঘটনা রোধের জন্য সব প্রতিরোধ ব্যবস্থা আছে কি না তা তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।

এই নগর বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘গুলশান শপিং মলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আমরা আরেকটি জিনিস দেখতে পেরেছি, সেটি হচ্ছে এখানে পানির ব্যবস্থা ছিল না। ফায়ার ব্রিগেড কর্তৃপক্ষ গাড়িতে করে পানি এনে আগুন নেভাতে পারবে এমনটি মনে করার কোনো কারণ নেই। তারা হয়তো অল্প সময়ের জন্য আগুনের মাত্রা কমাতে পারবেন কিন্তু আগুন নেভাতে পারবেন না। এ জন্য শপিং সেন্টারগুলোতে পানির ব্যবস্থা করতে হবে। বিশেষ করে এখন যে বহুতল ভবন তৈরি করা হচ্ছে, সেখানে ইমারত নির্মাণ বিধিমালার মাধ্যমে ফায়ার ফাইটিংয়ের সব ব্যবস্থা থাকা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। বড় ভবনগুলোতে গিয়ে দেখা যায় যে প্রবেশমুখে হাইড্রেন্টের ব্যবস্থা থাকে। এর ফলে আগুন লাগলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাদের পাইপ ব্যবহার করে এ জায়গা থেকে পানি পাবে। আমাদের শপিং সেন্টারগুলোতে এ ব্যবস্থা চালু করতে হবে। আর সামগ্রিকভাবে সিটি করপোরেশন বা রাজউকের মাধ্যমে ঢাকার চারপাশের নদী থেকে পানি হাইড্রেন্টের মাধ্যমে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করতে হবে। এ ব্যবস্থা ভারতের কলকাতায় আছে। ঢাকা যেহেতু একটি জনবসতিপূর্ণ শহর, এখানে যদি রাস্তার অলিগলিতে পানির ব্যবস্থা করা যায় তাহলে অটোপাম্পের সাহায্যে ফায়ার ব্রিগেড ও এলাকার মানুষ আগুন নেভাতে পারবেন। ’

তবে ডিসিসি মার্কেটের অগ্নিকাণ্ডের পর আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষের কোনো কাজে কোনো দুর্বলতা ছিল বলে মোবাশ্বের হোসেন মনে করেন না। তিনি বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্বে অবহেলার চেয়ে আমি মনে করি, তারা যাতে সঠিকভাবে নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে পারেন সে জন্য সরকার, এ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সেবা সংস্থা বা শহরবাসী তাদের সহযোগিতা করতে পারেননি। সমাধান হিসেবে এ জন্য ঢাকার মেয়রদের বাণিজ্যিক দোকানের লাইসেন্স প্রদানের আগে অগ্নিনির্বাপণে সেই ব্যবসায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন কি না তা নিশ্চিত হয়ে তবেই লাইসেন্স দিতে হবে। ’ মোবাশ্বের হোসেন বলেন, ‘আমাদের বুঝতে হবে যে, আগে দোকান ছিল একটি-দুটি। একটিতে আগুন লাগলে শুধু সেই দোকানেরই ক্ষতি হতো। কিন্তু এখন দোকান বলে কিছু নেই। শপিং সেন্টারের মধ্যেই এখন সব দোকান। সামগ্রিকভাবে একটি বিক্রয়কেন্দ্র হওয়ার কারণে দুর্ঘটনা রোধেও এর প্রস্তুতি ভিন্ন রকম হওয়ার কথা। আবার অনেক সময় সব প্রতিরোধ ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও আগুন নেভানো কঠিন হয়ে পড়ে। আগুন ও ভূমিকম্প হচ্ছে এমন দুটি বিষয়, যা মানুষের সিদ্ধান্ত নেওয়ার মানসিক শক্তিকে ব্যাহত করে। এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার শক্তি বাড়ানোর জন্য প্রতিনিয়ত প্রশিক্ষণ নিতে হবে। আর এটি যদি করা না যায় তবে সব ধরনের ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও আগুন নেভানো যাবে না।

তিনি বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিসের একটি ফিলোসফি হচ্ছে আগুন লাগার প্রথম পাঁচ মিনিট বিপজ্জনক সময়। ছোট একটি আগুনের ঘটনা যদি প্রথম পাঁচ মিনিটেই নেভানো সম্ভব হয়, তবে সেটি তেমন কোনো দুর্ঘটনা বলে বিবেচিত হয় না। আর এই পাঁচ মিনিটে স্থানীয়দেরই আগুন নেভানোর কাজটি করতে হবে। এ জন্য ফায়ার ব্রিগেডের ওপর নির্ভর করে থাকলে হবে না। স্থানীয়দেরই আগুন নেভাতে বা কমাতে তৎপর হতে হবে। এ জন্য প্রয়োজন প্রশিক্ষণের পাশাপাশি পৃথক হাইড্রেন্ট স্থাপণ। কিন্তু এগুলো আমাদের এখানে নেই। এগুলোর ব্যবস্থা যদি আমরা নিশ্চিত করতে না পারি, তবে আমাদের এখানে দুর্ঘটনা ঘটতেই থাকবে।