আজ শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৭

সদ্য প্রাপ্তঃ

*** ময়মনসিংহে সুটকেসের ভেতর যুবকের লাশ * ঢাবি অধিভুক্ত ৭ কলেজের মাস্টার্স পরীক্ষা স্থগিত * দিনাজপুরে বজ্রপাতে নিহত ৬ * দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়ছে 'সুপার ম্যালেরিয়া' * রিয়ালের পথের ইতি টানতে চান বেনজেমা * মধ্যবাড্ডায় অগ্নিকাণ্ডে মায়ের মৃত্যু, ২ সন্তান দগ্ধ * পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই: বাড়ছে ক্ষোভ, ঝিমিয়ে পড়া

Bangladesh Manobadhikar Foundation

Khan Air Travels

জাতীয় ডেস্ক | তারিখঃ ১৪.১১.২০১৭ 

সদ্য পদত্যাগ করা প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো: আব্দুল হামিদ।

সংবাদ মাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন। তথ্যটি নিশ্চিত করে জয়নাল আবেদীন সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র আজ আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।’

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ২১ জন বিচারক প্রধান বিচারপতির পদে অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন, তাদের মধ্যে বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাই প্রথম পদত্যাগ করলেন। দায়িত্বে থাকা অবস্থায় বাংলাদেশে আর কোনো প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে প্রকাশ্যে এত আলোচনা-সমালোচনাও হয়নি।

গত ১১ নভেম্বর প্রধান বিচারপতি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন। কানাডা যাওয়ার পথে সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশের হাইকমিশনে শুক্রবার তিনি রাষ্ট্রপতি বরাবর পদত্যাগপত্রটি জমা দিয়েছেন। প্রধান বিচারপতির ছুটির মেয়াদের শেষ দিন ছিল ১০ নভেম্বর। তিনি গত ১৩ অক্টোবর রাতে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন। অস্ট্রেলিয়ায় তিনি বড় মেয়ে সূচনা সিনহার বাসায় ওঠেন।

এর আগে গত ২ অক্টোবর এক মাস ছুটির কথা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বরাবর চিঠি পাঠান প্রধান বিচারপতি। এর মেয়াদ ছিল ১ নভেম্বর পর্যন্ত। ছুটিতে থাকা অবস্থায় প্রধান বিচারপতির ১৩ অক্টোবর বা কাছাকাছি সময়ে বিদেশে যাওয়ার এবং ১০ নভেম্বর পর্যন্ত বিদেশে থাকার ইচ্ছা পোষণের বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করতে ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন থেকে আইন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়। গত ১০ অক্টোবর বিদেশ যাওয়ার বিষয়ে পাঠানো ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে আইন মন্ত্রণালয় ১২ অক্টোবর প্রজ্ঞাপন জারি করে।

প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার এক মাসেরও বেশি সময়ের জন্য নেয়া ছুটির শেষদিনটি ছিল শুক্রবার। ফলে তিনি দেশে ফিরে কাজে যোগ দেবেন নাকি ছুটি আরো বাড়াবেন সে নিয়ে আলোচনার মাঝেই শনিবার জানা গেল রাষ্ট্রপতি বরাবরে পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছেন তিনি

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং সরকারের কাছ থেকে তীব্র চাপের মুখে বিচারপতি এস কে সিনহা দেশ ছেড়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।

মূলত বিচারপতি সিনহা ও সরকারের সম্পর্কের টানাপড়েন শুরু হয় সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে। অসদাচরণ ও অযোগ্যতার কারণে সর্বোচ্চ আদালতের বিচারকদের বরখাস্ত করার ক্ষমতা জাতীয় সংসদের হাতে দেওয়ার বিষয়ে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল সংক্রান্ত হাই কোর্টের রায় বহাল রেখে আপিল বিভাগ রায় দেয় জুলাই মাসে। পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয় গত পয়লা আগস্ট ।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বাংলাদেশের রাজনীতি ও সংসদ সদস্যদের নিয়ে প্রধান বিচারপতির করা মন্তব্যকে ঘিরে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেন সরকারের মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতারা এবং তারা প্রধান বিচারপতির পদত্যাগের দাবি তোলেন।

এদিকে প্রধান বিচারপতির পদত্যাগের খবরে বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপির পক্ষ থেকে যে প্রতিক্রিয়া দেয়া হয়েছে তাতে একে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর আঘাত হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। বিএনপি নেতারা বলছেন সরকার বাধ্য করেছেন প্রধান বিচারপতিকে তার পদ থেকে সরে যেতে।