Saturday 3rd of December 2016

সদ্য প্রাপ্তঃ

***প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার পর উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় ট্যাংক-লরি-ট্রাক-কাভার্ডভ্যান মালিকদের ডাকা ধর্মঘট স্থগিত***

Bangladesh Manobadhikar Foundation

Khan Air Travels

UCB Debit Credit Card

বজ্রপাতে একদিনেই ঝরে গেল ৪০ প্রাণ

জাতীয় ডেস্ক | তারিখঃ ১৩.০৫.২০১৬

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃহস্পতিবার বজ্রপাতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং নারী-শিশুসহ ৪০ জন মারা গেছেন।

আহত হয়েছেন আরও অনেকে। একদিনে বজ্রপাতে এত মৃত্যুর ঘটনা সাম্প্রতিককালের ইতিহাসে নেই।রাজধানীতে বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকার ডেমরা কোনাপাড়া কাঠেরপুল এলাকার কনকর্ড বালুর মাঠে ফুটবল খেলছিলেন একদল যুবক। হঠাৎ কালবৈশাখী ও বৃষ্টি শুরু হলে বজ্রপাত হয়। এতে জ্ঞান হারান তিন খেলোয়াড়। দ্রুত তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর আহসান লিংকন (২১) ও শাহেদুল ইসলাম শাহেদ (২১) নামে দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। তারা দুজনই বন্ধু। আহত অপর খেলোয়াড় কলেজছাত্র রাইয়ান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

লিংকনের বাবার নাম নিজাম উদ্দিন। গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায়। ৫২/এ, দক্ষিণ কাজলায় তাদের বাসা। লিংকন কারওয়ান বাজারের আহছান উল্লাহ পলিটেকনিক্যাল ইন্সটিটিউটে কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগে পড়তেন। শাহেদ লিংকনের বন্ধু। তিনি মহাখালী পলিট্যাকনিক্যাল ইন্সটিটিউটে কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের ছাত্র। তার বাবার নাম বাদল মোল্লা। শাহেদের গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায়। ঘটনাস্থলের কাছেই তার বাসা।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান যুগান্তরকে জানান, প্রতি বছর মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত সময়ে বজ্রপাতসহ কালবৈশাখী ঝড় হয়। এটা পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে নয়, স্বাভাবিক ঘটনা। তবে অসচেতনতার কারণেই মারা যাচ্ছে মানুষ। ঝড়-বৃষ্টির সময় সতর্কভাবে চলাচল করলে অনেক মৃত্যু এড়ানো সম্ভব।

ঢাকার বাইরে : বিস্তারিত যুগান্তর ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে-
পাবনা : এ জেলায় দু’স্কুল ছাত্রছাত্রীসহ ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আমিনপুর থানায় পৃথক স্থানে বজ্রপাতে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হল আহম্মদপুর ইউনিয়নের দক্ষিণচর গ্রামের শহীদ সর্দার (৫৮), সোনাতলা গ্রামের হীরা (১৩), বাঘলপুর গ্রামের ময়েন সরদার (৬৫) এবং তার নাতনি শিখা খাতুন (১৩)। হীরা বোয়ালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণীর ছাত্র ছিল এবং শিখা বাঘলপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী ছিল। এছাড়া ফরিদপুর উপজেলার ডেমরা গ্রামের মোশারফ হোসেন (৩৮) ও আজরত আলী (৪৫)। চাটমোহর উপজেলার পাশ্বডাঙ্গা ইউনিয়নের বাউদকান্দি গ্রামের মল্লিকপাড়ার ইমান প্রামাণিকের ছেলে ফজলুর রহমান (৪০) ও মৃত মহির খানের ছেলে ছকির উদ্দিন (৭০)।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া : এ জেলায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে সরাইলে জাহানারা বেগম (৪৮) ও শামছুল ইসলাম (৪০) নামে দু’জন মারা গেছেন। জাহানার দুপুর ১২টার দিকে নিজ বাড়ির উঠোনে কাজ করার সময় ও ইছাপুর গ্রামের জোনাব আলীর ছেলে শামছুল ইসলাম জমিতে ধান কাটার সময় বজ্রাঘাতের শিকার হন। এছাড়া বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় বজ্রপাতে শফিকুল ইসলাম (২৮) ও কবির হোসেন (৪০) মারা গেছেন। শফিকুল সোনারামপুর ইউনিয়নের চরশিবপুর গ্রামে জমিতে ধান কাটার সময় ও কানাইনগর গ্রামে নদীতে গোসল করে বাড়ি ফেরার পথে সুলতান মিয়ার ছেলে কবির হোসেন বজ্রপাতের শিকার হন।

হবিগঞ্জ : এ জেলায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। তিনি হলেন বানিয়াচংয়ের প্রতাপপুর গ্রামের তাজুল মিয়ার ছেলে হাবিব মিয়া (৩০)। বৃহস্পতিবার হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে তিনি মারা যান।

মৌলভীবাজার : এ জেলায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। তিনি হলেন কমলগঞ্জ উপজেলায় রহিমপুর ইউনিয়নের বড়চেগ গ্রামের গৃহবধূ কল্পনা বেগম (৩০)। বৃহস্পতিবার বিকাল সোয়া ৪টায় বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়।

কিশোরগঞ্জ : এ জেলায় ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে বাজিতপুরের পিরিজপুর ইউনিয়নের কৈকুরি গ্রামের রেজিয়া আক্তার (৫৫) ও দিলালপুর ইউনিয়নের বড় ঘাগটিয়া গ্রামের স্বপন মিয়া (১৮)। হোসেনপুরে শুভ (১৮) নামে কলেজছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। শুভ পৌর এলাকার ঢেকিয়া গ্রামের রহমত আলীর ছেলে। এছাড়া তাড়াইল উপজেলার জাওয়ার ইউনিয়নের ইশাবশর গ্রামের মমতা বেগম (৪৪) বজ্রপাতের শিকার হয়ে মারা যান।

নাটোর : এ জেলায় দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। লালপুরে বৃহস্পতিবার বিকালে বজ্রপাতে বান্টু আলীর স্ত্রী সাহারা বানু ও রঘুনাথপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে মোবারক আলী নিহত হয়েছে। একই সময়ে উপজেলার মোহরকয়া গ্রামে আবদুস সালামের স্ত্রী পাপিয়া খাতুন ও কাজীপাড়ার মোহাম্মদ আলীর ছেলে সাজেদুল ইসলাম আহত হয়েছে।

রাজশাহী : এ জেলায় ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে মোহনপুরে নিহতরা হলেন- আতা নারায়ণপুর গ্রামের শামসুদ্দিনের ছেলে আবদুর রাজ্জাক, হাততৈড় গ্রামের আবদুর রহমানের ছেলে আবদুল আজিজ ও ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের সত্যচন্দ্র। এছাড়া গোদাগাড়ীর গুসিরা গ্রামের লায়লা বেগম (৪০) ও দুর্গাপুরের পালশা গ্রামের খামারুপাড়া এলাকার মর্জিনা বেগম (৪৪) বজ াঘাতে মারা গেছেন।

নীলফামারী : এ জেলায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। তিনি হলেন, সৈয়দপুর উপজেলার কিশোরীগঞ্জের মাগুরা ইউনিয়নের ফুলের ঘাট গ্রামের কৃষক আলম হোসেনের স্ত্রী লালবিবি (৩৫)।

নরসিংদী : এ জেলায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন রায়পুরা উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের ফকিরেরচর গ্রামের জোছনা বেগম (৩৮), সদর উপজেলার মহিসাষুরা গ্রামের কৃষক আবদুল করিম (৫০) ও নজরপুরের চরাঞ্চলে ফুলি বেগম (৩২) নামে এক গৃহবধূ। আহতরা হলেন তায়েব আলী ও মেহর বেগম।

গাজীপুর : এ জেলায় দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। কাপাসিয়ায় বজ্রপাতে এক কৃষি শ্রমিক ও গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার সাতানা গ্রামের সানাউল্লাহ বেপারির ছেলে মো. সাত্তার আলী (২৬) ও কাপাসিয়ার খিরাটি গ্রামের কাজল মিয়ার স্ত্রী রুবিনা (৪০)।

সিরাজগঞ্জ : এ জেলায় ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে রায়গঞ্জের চকনুুর গ্রামে নূপুর নামে এক শিশু, বৈকুণ্ঠপুর গ্রামে আবদুল মোতালেব (৪২) এবং সদর উপজেলার বেজগাতী এলাকার মাদ্রাসা শিক্ষক আনোয়ার হোসেনের (৪৬) মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া উল্লাপাড়া উপজেলার বাঙাগালা ইউনিয়নের সিমলা গ্রামের আবদুল লতিফ (৩০) ও বেতুয়া গ্রামের শাহীনুর (২৮) মাঠে কাজ করতে গিয়ে বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

নেত্রকোনা : নেত্রকোনায় দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পূর্বধলা উপজেলায় বৃহস্পতিবার দুপুরে বজ্রপাতে রুবেল মিয়া (২৫) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি উপজেলার বিশকাকুনী ইউনিয়নের ধোবারুহী গ্রামের আ. বারেকের ছেলে। এছাড়া কেন্দুয়া উপজেলায় বজ্রপাতে রইছ উদ্দিন (৫০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলার আশুজিয়া ইউনিয়নের ভগবতীপুর গ্রামের পানিডুবি বিলের খালপাড় নামক স্থানে কৃষি জমিতে তিনি বজ্রপাতের শিকার হন। নিহত রইছ উদ্দিন ভগবতীপুর গ্রামের মৃত শামছ উদ্দিনের ছেলে।