Sunday 4th of December 2016

সদ্য প্রাপ্তঃ

***বিমানবাহিনীর ঘাঁটি ‘বঙ্গবন্ধু’কে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা***

Bangladesh Manobadhikar Foundation

Khan Air Travels

UCB Debit Credit Card

বজ্রপাতে বাংলাদেশে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে কেন?

জাতীয় ডেস্ক | তারিখঃ ১৩.০৫.২০১৬

বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর বলছে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটিতে বজ্রপাতে মানুষ মারা যাবার সংখ্যা আগের তুলনায় বেড়েছে।

কর্মকর্তারা বলছেন, এ বছর এখনো পর্যন্ত বজ্রপাতে অন্তত ৮০ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার একদিনেই বজ্রপাতে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বজ্রপাতে ৩৫ জন মারা গেছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। যদিও স্থানীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম বলছে মৃতের সংখ্যা ৪০ জনের বেশি। বজ্রপাতে মানুষ মারা যাবার সংখ্যা যেমন বাড়ছে তেমনি বজ্রপাতের প্রবণতাও বেড়েছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ রুবাইয়াত কবির জানিয়েছেন দেশের কিছু জায়গা বজ্রপাত-প্রবণ। এর মধ্যে উত্তরাঞ্চল এবং উত্তর পশ্চিমাঞ্চল অন্যতম। গ্রীষ্মকালে এ অঞ্চলে তাপমাত্রা বেশি থাকায় এ পরিস্থিতির তৈরি হয় বলে জানালেন মি. কবির। তিনি বলেন যেসব এলাকায় গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে সেসব এলাকায় যে মেঘের সৃষ্টি হয়, সেখান থেকেই বজ্রপাতের সম্ভাবনা থাকে। বজ্রপাত বেড়ে যাবার কারণ কী সেটি নিয়ে বাংলাদেশে বিস্তারিত কোন গবেষণা নেই। তবে আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন গবেষক এর নানা কারণ তুলে ধরেন। কোন কোন গবেষক বলেন তাপমাত্রা এক ডিগ্রি বাড়লে বজ্রপাতের সম্ভাবনা ১০ শতাংশ বেড়ে যায়। পৃথিবীর যে কয়েকটি অঞ্চল বজ্রপাত প্রবণ তার মধ্যে দক্ষিণ-এশিয়া অন্যতম। উন্নত দেশগুলোতে বজ্রপাতে মানুষের মৃত্যু কমলেও বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এ সংখ্যা বাড়ছে।

বাংলাদেশে বজ্রপাতে যারা মারা যাচ্ছেন তাদের বেশিরভাগই মাঠে কাজ করেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রিয়াজ আহমেদ বলেন বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা কমিয়ে আনতে সচেতনতা দরকার। তিনি বলেন , 'আশেপাশে যদি কোন উঁচু গাছ থাকে সেখান থেকে দূরে থাকা। টিনের ছাদ এড়িয়ে চলা। উপরে ছাদ আছে এমন জায়গায় চলে আসা।' তিনি বলেন বজ্রপাতের সময় বিদ্যুতের খুঁটি ও টাওয়ার থেকে দূরে থাকতে হবে। তাছাড়া জলাশয় ও পুকুর থেকে দূরে থাকলে ভালো হয় বলে মি. আহমেদ উল্লেখ করেন। বজ্রপাতে মৃত্যুর বিষয়টিকে এখন অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতোই বিবেচনা করছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর। বন্যা এবং সাইক্লোনের মতো দুর্যোগের ক্ষেত্রে কিছু প্রস্তুতি নেবার সুযোগ থাকলেও বজ্রপাতের বিষয়টি ভূমিকম্পের মতোই আকস্মিক।

কিন্তু তারপরেও মেঘের আনাগোনা দেখে বজ্রপাতের সম্ভাবনা সম্পর্কে খানিকটা ধারনা করা যেতে পারে বলে উল্লেখ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রনিক এন্ড ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এইচ এম আসাদুল হক। অধ্যাপক হক বলেন, 'বিশেষ করে যখন দেখা যায় বৃষ্টি হতে যাচ্ছে এবং মেঘ দ্রুত মুভমেন্ট (চলাচল) হচ্ছে তখন ইলেকট্রন সঞ্চিত হয় বেশি। তখনই সাধারণত আমরা বুঝতে পারবো। প্রাথমিক পর্যায়ে ঐ সময়ে বজ্রপাত বেশি হয়।' তিনি বলেন এ সময় খোলা জায়গায় না থেকে যতটা সম্ভব ঘরের ভেতরে থাকা উচিত। বজ্রপাতে মৃত্যুর বিষয়টিকে বাংলাদেশে এতদিন তেমন একটা গুরুত্ব দেয়া হয়নি। কর্মকর্তারা বলছেন বাংলাদেশে বজ্রপাতে মৃতের সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে তাতে বিষয়টিকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।