Nabodhara Real Estate Ltd.

Khan Air Travels

Premier Bank Ltd

লন্ডন জয় করলেন বাঙালি মুসলিম কন্যা নাদিয়া

বিনোদন ডেস্ক | তারিখঃ ০৯.১০.২০১৫ 

নাদিয়া হোসেন ইংল্যান্ডের লুটন শহরের একটি আলোচিত নাম। ইতিমধ্যেই ব্রিটিশ মুসলিম তরূণীদের রোল মডেলে পরিণত হয়েছেন।বিশেষ করে লুটনের সকলেরই ভালোবাসার পাত্রী তিনি।

তিন সন্তানের জননী, সদালাপী, চৌকস, চিত্তাকর্ষক হাসির অধিকারিণী ও হিজাব পরিহিত নাদিয়া এ সপ্তাহের ‘বিবিসি সেরা ব্রিটিশ বেকার’ পুরষ্কারের জন্য হট ফেভারিট বলে বিবেচিত হচ্ছেন। ফলে যারা নাদিয়াকে চোখের সামনেই স্কুলবালিকা থেকে উদীয়মান টিভি তারকায় পরিণত হতে দেখেছেন তারা গর্বে উচ্ছ্বসিত হয়েছেন। বেডফোর্ডশায়ার শহরে নাদিয়া হোসেনের পরিবারের ৩৯ বছর বয়সী প্রতিবেশী দিপালি প্যাটেল বলেন, ‘স্কুলে যাওয়ার বয়স থেকেই সে কেক তৈরি করতো এবং তার বানানো ‘গাজর কেক’ দারুন সুস্বাদু। সে খুব ভালো মেয়ে। আমরা তাকে নিয়ে গর্বিত।’ নাদিয়া বলেন, আমি প্রথাগত কোনো ব্রিটিশ না হলেও এর মানে এই নয় যে পতাকা, কেক বা চায়ে আমি নেই। আমি অন্য ব্রিটিশদের মতই এবং আমি আশা করি আমি সেটা প্রমাণ করতে পেরেছি।’ বুধবারের চূড়ান্ত পর্বে নাদিয়ার সফলতায় লুটনের তরুণী মুসলিমরা, বালিকারা দারুণ উজ্জীবিত।স্কুল শিক্ষক জন মার্শালের কাছে থেকে প্রথম পাচকগিরি শেখেন নাদিয়া। নাদিয়া জানান, বাংলাদেশের রেস্তোরাঁয় সাধারণত আইসক্রিম পরিবেশন করা হয় না।তারা বাবা যখন লুটনে তার রেস্তোরাঁয় এটি সরবরাহ করতেন তাতে তিনি অবাক হতেন। 

জন মার্শাল নাদিয়াকে তার বাড়িতে ঐতিহ্যবাহী ব্রিটিশ কেক, প্যাস্ট্রি ও পুডিং তৈরির উৎসাহ দেন যদিও নাদিয়াদের বাসায় তখনও কোনো ওভেন ছিল না। পরে তার উৎসাহে নাদিয়া বাড়িতে এসব তৈরি শুরু করলে তার পরিবার খুশি হয়, বিশেষ করে তার ভাই ও বোনেরা। চালনি হাই স্কুলের পড়া শেষ করে নাদিয়া লুটন সিক্সথ ফর্ম কলেজে ভর্তি হন এবং ২০০৩ সালে ইংরেজি, মনোবিজ্ঞান এবং ধর্মীয় শিক্ষায় এ লেভেল অর্জন করেন।
নাদিয়ার ইংরেজি ভাষার শিক্ষক পল ক্রস্টন বলেন, ‘সে তেমন একটা বদলায়নি। আমি স্মরণ করতে পারিযে সে ভীষণরকম ভদ্র, বন্ধুবৎসল এবং অমায়িক। আপনি খাওয়ার জন্য যে ধরনের লোকের ওপর নির্ভর করতে চান সে তেমনই একজন।’ নাদিয়ার কান্না, তার প্রাণ খোলা হাসি, তার কৌতূক, তার একাগ্রচিত্ত্বতা এই প্রতিযোগিতার দশর্কদের দারুণভাবে মুগ্ধ করেছে।