Tuesday 6th of December 2016

সদ্য প্রাপ্তঃ

***ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের ছয়বারের মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতা মারা গেছেন বলে খবর স্থানীয় টিভির, হাসপাতালের অস্বীকার * আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার ড. তুরিন আফরোজের বাবা তসলিমউদ্দিন আহমেদ (৭২) ল্যাবএইড হাসাপাতালে লাইফ সাপোর্টে***

Bangladesh Manobadhikar Foundation

Khan Air Travels

UCB Debit Credit Card

‘পাকিস্তান এখনো ঘুমিয়ে আছে’

জাতীয় ডেস্ক | তারিখঃ ১৪.০৫.২০১৬

যুদ্ধাপরাধীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর নিয়ে যে চুক্তি লঙ্ঘনের কথা বলছে, সে চুক্তির শর্ত পাকিস্তানই ভঙ্গ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। 

তার মতে, ওই চুক্তির (ত্রিদেশীয় চুক্তি-১৯৭৪) কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কারণ, এ চুক্তি পাকিস্তান নিজেই পালন করেনি। বিষয়টি নিয়ে ‘জাতিসংঘে যাবে’ বলে পাকিস্তান যে ঘোষণা দিয়েছে, সে বিষয়ে ‘পাকিস্তান এখনো ঘুমিয়ে আছে’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শনিবার (১৪ মে) রাজধানীর বিলিয়া মিলনায়তনে আইন ও বিচার বিভাগের বাজেট সংক্রান্ত আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা সারতাজ আজিজ শুক্রবার (১৩ মে) সেদেশের পার্লামেন্টে বলেন, বিষয়টি জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল ও অন্যান্য দেশের কাছে তুলে ধরবে পাকিস্তান। এভাবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের ১৯৭৪ সালের ত্রিপক্ষীয় চুক্তির লঙ্ঘন দাবি করে এ বিষয়ে দৃষ্টি দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান সারতাজ আজিজ।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘পাকিস্তান এখনো ঘুমিয়ে আছে। পাকিস্তান এখনো ঘুম থেকে ওঠে নাই। তার কারণ হচ্ছে- ৪৪ বছর হয়েছে আমরা স্বাধীন হয়েছি। আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে পাকিস্তানের কথা বলাটা উচিত না। তাদের মুখ বন্ধ রাখাটা শ্রেয়। তারা যদি সেই ম্যাচিউরিটি না দেখাতে পারে, তাহলে পরে বিশ্ব তাদেরকে নিন্দা করবে। এটাই আমার বিশ্বাস’।
 
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘ত্রিদেশীয় চুক্তির কোথাও লেখা নাই যে, আমাদের দেশের যারা মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন, তাদের বিচার করা যাবে না। এটা আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়’।

ত্রিদেশীয় চুক্তির কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে বলে মন্তব্য করে আনিসুল হক বলেন, ‘চুক্তিতে ছিল, আটকেপড়া পাকিস্তানিদের ফিরিয়ে নেবে পাকিস্তান। কিন্তু এখনও ফিরিয়ে নেয়নি। ফলে ওই চুক্তি নিজেরাই লঙ্ঘন করেছে তারা। কোনো চুক্তি যদি পালন না করা হয়, তবে তা বাতিল হয়ে যায়’।  

তিনি বলেন,  ‘যারা বলছে, এই চুক্তিতে সকলকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছিলো, সে ক্ষেত্রে আমি তাদেরকে চুক্তিটা পড়তে বলবো। এ চুক্তির মধ্যে যারা আমাদের দেশের ভেতরে অপরাধ করেছেন, তাদেরকে কোনো ক্ষমা বা তাদেরকে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখার জন্য কোনো কথা লেখা আছে বলে আমার পড়া হয় নাই। সেটার মধ্যে এদের বিষয়ে কোনো কথা নেই’।
 
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আরেকটা বিষয় তারা যেটা লঙ্ঘন করেছে, স্টান্ডার্ড পাকিস্তানি (আটকেপড়া পাকিস্তানি) যারা, তাদেরকে ফেরত নেওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু তারা ফেরত নেয় নাই। আইনে বলে, কেউ যদি চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে, তবে সে চুক্তি বাতিল হয়ে যায়। সে ক্ষেত্রেও এ চুক্তিটি আর গ্রহণযোগ্য না’।
 
পাকিস্তান বিষয়টি নিয়ে জাতিসংঘে গেলে আমাদের অবস্থান কী হবে এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘আমাদের অবস্থান এখন যা আছে তাই থাকবে। এটা আমাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। অভ্যন্তরীণ আইনে সারা বিশ্বে স্বীকৃত আইনে বিচার করছি। দণ্ডও কার্যকর করছি’।
 
 ‘বাজেটারি অ্যালোকেশন ফর ল’ জাস্টিস অ্যান্ড পার্লামেন্টারি অ্যফেয়ার্স’ শীর্ষক আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম। আলোচনায় অংশ নেন সাবেক অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এম কে রহমান, ড. শাহদীন মালিক, ড. তুরিন আফরোজ প্রমুখ।
 
আলোচনা অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ল’ অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স (বিলিয়া)