Tuesday 6th of December 2016

সদ্য প্রাপ্তঃ

***ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের ছয়বারের মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতা মারা গেছেন বলে খবর স্থানীয় টিভির, হাসপাতালের অস্বীকার * আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার ড. তুরিন আফরোজের বাবা তসলিমউদ্দিন আহমেদ (৭২) ল্যাবএইড হাসাপাতালে লাইফ সাপোর্টে***

Bangladesh Manobadhikar Foundation

Khan Air Travels

UCB Debit Credit Card

ঢাকায় পাঁচ মেট্রোরেল রুট

জাতীয় ডেস্ক | তারিখঃ ১৪.০৫.২০১৬

রাজধানীর যানজট নিরসনে কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনার (এসটিপি) অংশ হিসেবে পাঁচটি রুটে নির্মাণ করা হচ্ছে মেট্রোরেল।

এর মধ্যে রাজধানীর উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট-এমআরটি-৬ আগামী জুনে উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের উত্তরা তৃতীয় পর্যায়ের দিয়াবাড়ী বাজার এলাকায় মেট্রোরেল ডিপোর উন্নয়নকাজ পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষে মেট্রোরেল রুট-৬-এর ডিপো উন্নয়নের কাজ শুরু হয়েছে। আগামী মাসেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বপ্নের এ প্রকল্পের নির্মাণকাজের সূচনা করবেন। এ ছাড়া রাজধানীতে পর্যায়ক্রমে আরও চারটি মেট্রোরেল রুট বাস্তবায়ন করা হবে। এর মধ্যে দুটির সমীক্ষাসহ প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। চারটি মেট্রোরেল রুটের মধ্যে গাজীপুর থেকে বিমানবন্দর দিয়ে কমলাপুর হয়ে কেরানীগঞ্জের ঝিলমিল পর্যন্ত এমআরটি-১ নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি আশুলিয়া-সাভার-গাবতলী-ঢাবি-নগর ভবন-কমলাপুর পর্যন্ত এমআরটি-২, কমলাপুর থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত এমআরটি-৪ এবং গাবতলী-মিরপুর-গুলশান-ভাটারা পর্যন্ত এমআরটি-৫ নামে একটি রিং মেট্রোরেল নির্মাণ করা হবে।

সূত্র জানায়, এমআরটি-৬-এর মেট্রোরেলের ডিপো নির্মাণের জন্য ২৭ মার্চ একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। রাজধানীর উত্তরা তৃতীয় পর্বে মেট্রোরেলের ডিপো নির্মাণের কাজ দেওয়া হয়েছে জাপানের টোকিও কনস্ট্রাকশন লিমিটেডকে। গতকাল ডিপো এলাকা পরিদর্শনকালে ওবায়দুল কাদের বলেন, মেট্রোরেলের ডিপো এলাকার ভূমি উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় স্থাপনা নির্মাণে ব্যয় হবে ৫৬৭ কোটি টাকা। মন্ত্রী বলেন, অর্থায়নকারী সংস্থা জাইকার সম্মতিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়নকাল এগিয়ে আনা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, ২০১৯ সালে মেট্রোরেল রুট-৬-এর বাণিজ্যিক পরিচালনা সম্ভব হবে। ওবায়দুল কাদের বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি ভবন, টিএসসি, জাতীয় জাদুঘরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার পাশ দিয়ে রুট নির্মাণে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির শব্দ নিরোধক যন্ত্র স্থাপন করা হবে। প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পে জাইকা দিচ্ছে প্রায় সাড়ে ১৬ হাজার কোটি টাকা। উত্তরা থেকে মতিঝিল শাপলা চত্বর পর্যন্ত মেট্রো-৬ রুটে স্টেশন থাকবে ১৬টি। নির্মাণ শেষ হলে এ রুটে প্রতি ঘণ্টায় উভয় দিকে প্রায় ৬০ হাজার যাত্রী পরিবহন করা যাবে। জানা গেছে, আগামী ২০ বছরে বাস্তবায়নযোগ্য সংশোধিত কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনায় (আরএসটিপি) পাঁচটি মেট্রোরেল নির্মাণে ১ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আরএসটিপিতে তিনটি মেট্রোরেল রুট দ্রুত নির্মাণের সুপারিশ রয়েছে।

মেট্রোরেলের পাঁচটি রুটের মধ্যে বর্তমানে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ২১ কিলোমিটার রুটটি জুন থেকেই গতি পাবে। এমআরটি-১ গাজীপুর থেকে বিমানবন্দর সড়ক দিয়ে বিদ্যমান রেলপথ ধরে কমলাপুর হয়ে কেরানীগঞ্জের ঝিলমিল পর্যন্ত যাবে। এ ক্ষেত্রে প্রথম পর্যায়ে গাজীপুর-বিমানবন্দর অংশ ২০২৫ সালে ও দ্বিতীয় পর্যায়ে বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর হয়ে ঝিলমিল পর্যন্ত ২০৩৫ সালে নির্মাণ করা হবে। প্রথম পর্যায়ের দৈর্ঘ্য হবে ২৬ দশমিক ৬ কিলোমিটার, আর দ্বিতীয় পর্যায়ের দৈর্ঘ্য ৫২ কিলোমিটার। এমআরটি-২-এর সম্ভাব্য রুট ধরা হয়েছে আশুলিয়া থেকে শুরু করে সাভার, গাবতলী হয়ে মিরপুর রোড দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, নগর ভবনের সামনে দিয়ে কমলাপুর পর্যন্ত। এ মেট্রোরেলের দৈর্ঘ্য হবে ৪০ কিলোমিটার ও ব্যয় ৩৭৫ কোটি ডলার। এমআরটি-৪ নির্মাণ করা হবে কমলাপুর থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত। উড়ালপথে ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ মেট্রোরেলটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭৪ কোটি ডলার। এমআরটি-৫ হবে অনেকটা রিং মেট্রোরেল।

এটি নির্মাণ করা হবে ভুলতা থেকে বাড্ডা, মিরপুর সড়ক, মিরপুর-১০, গাবতলী বাস টার্মিনাল, ধানমন্ডি, বসুন্ধরা সিটি (পান্থপথ) হয়ে হাতিরঝিল লিঙ্ক রোড পর্যন্ত। এটি মূলত এমআরটি-১, ২, ৪ ও ৬-কে সংযুক্ত করবে। ৩৫ কিলোমিটার এ মেট্রোরেলটির জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪২৮ কোটি ডলার।পাঁচটি মেট্রোরেল প্রকল্পের মধ্যে এমআরটি-৬-এর অংশ উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ২১ কিলোমিটার নির্মাণকাজ চলছে। এমআরটি-১-এর বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত অংশেরও অর্থায়ন করবে জাইকা। ইতিমধ্যে এ অংশের প্রাক-সম্ভাব্যতা যাচাই সম্পন্ন হয়েছে। ২৮ অক্টোবর প্রকল্পটির প্রাক-সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদন সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে জমা দেয় জাইকা। এতে বলা হয়েছে, মেট্রোরেল নির্মাণ সম্পন্ন হলে কমলাপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত যাতায়াতে লাগবে ২৩ মিনিট। এ রুটের মেট্রোরেলের দৈর্ঘ্য হবে ১২ দশমিক ৬ কিলোমিটার। পুরো পথে স্টপেজ থাকবে ১১টি। ২০২৫ সালের মধ্যে এটি নির্মাণ শেষ করার কথা বলা হয়েছে। পূর্বাচলকে মেট্রোরেল সুবিধার আওতায় আনতে পরবর্তীতে একে বারিধারা থেকে পূর্বাচলে সম্প্রসারণের সুপারিশও করা হয়েছে। এ ছাড়া এমআরটি-৫ গাবতলী-মিরপুর-গুলশান-ভাটারা মেট্রোরেল রুট নির্মাণেও সম্ভাব্যতা যাচাই করেছে জাইকা। ১৬ সেপ্টেম্বর এমআরটি-৫-এর প্রাক-সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদন জমা দেয় জাইকা। এতে বলা হয়, মেট্রোরেলটি আংশিক উড়ালপথে ও আংশিক মাটির নিচে নির্মাণ করতে হবে। ২০৩৫ সালে মেট্রোরেলটি চালুর লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এ রুটে স্টেশন থাকবে ১০টি। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, এমআরটি-৬-এর কাজ সামনের মাসেই শুরু হচ্ছে। অন্য দুটি মেট্রোরেল রুট নির্মাণে প্রাক-সম্ভাব্যতা যাচাই করেছে জাইকা। সংশোধিত এসটিপি পাস হওয়ার পরই এগুলোর কাজ শুরু করা হবে।