Print
বিভাগঃ জাতীয়

‘খুব শিগগিরই অপরাধীদের সামনে আনা হবে’

জাতীয় ডেস্ক | তারিখঃ ১৪.০৫.২০১৬

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রফেসর ড. এএফএম রেজাউল করিম সিদ্দিকীর হত্যাকাণ্ডে জড়িত অপরাধীদের খুব শিগগিরই সামনে আনা হবে বলে

জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। 

শনিবার (১৪ মে) দুপুরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ ও দোষীদের শাস্তি দাবিতে আয়োজিত শিক্ষক-ছাত্র-সুধী সমাবেশে তিনি এ তথ্য জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সমাবেশে বলেন, আমরা খুব কাছাকাছি এসেছি। আমরা আপনাদের এই বলে আশ্বস্ত করতে চাই, খুব শিগগিরই হত্যাকারীদের আপনাদের সামনে হাজির করবো এবং বিচারেরর কাঠগড়ায় দাঁড় করবো।

আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, একাত্তরের পরাজিত সৈনিক বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন নামে এ দেশে আবির্ভূত হচ্ছে এবং প্রচেষ্টা নিচ্ছে এ সমস্ত হত্যকাণ্ডের। বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে দেশি ও বিদেশি চক্রান্তের অংশ হিসেবে এসব হত্যাকাণ্ড ঘটানো হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের নির্দেশনা দিচ্ছেন। এ হত্যাকাণ্ডকে অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। আমরা খুব শিগগিরই অপরাধীদের খুঁজে বের করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। আমরা জোর গলায় বলছি , রহস্য উন্মোচনের অনেক কাছাকাছি এসেছি। তবে তদন্তের স্বার্থে এখন কিছু বলবো না।

তিনি আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা রাজশাহীতে পুলিশের দৃশ্যমান টহল বাড়ানো হবে। যাতে আপনারা নিরাপদ বোধ করতে পারেন। তিনি হত্যাকাণ্ডে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আন্দোলন প্রত্যাহার করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান।

সমাবেশে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দেশের শিক্ষা পরিবার অত্যন্ত মর্মাহত। একজন স্বার্থক শিক্ষকের এরকম হত্যাকাণ্ড মানা যায় না। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে হলে আগে শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। আমরা এই হত্যকাণ্ডের তদন্তের দ্রুত সমাপ্তি চাই। আমরা চাই অপরাধীদের দ্রুত বিচার করা হোক। 

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, পুরো দেশের শিক্ষা পরিবার এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে ঐক্যবদ্ধ। এ ধরনের হত্যকাণ্ড প্রতিরোধে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এর আগেও তিনজন শিক্ষক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। পুলিশের কার্যক্রম একজন অপরাধীকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দেওয়া পর্যন্ত। তারপর যারা দায়িত্ব পালন করেন, আপনাদের দাবি যেন তাদের কাছেও পৌঁছে আপনারা সেই উদ্যোগ নিবেন।

তিনি বলেন, আপনাদের ভীত হওয়া চলবে না। আপনারা ভীত হলে তারা সুযোগ পাবে, তারা বিজয়ী হবে। তারা ভীতি তৈরি করার জন্যই এসব হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে। সব হত্যাকাণ্ডের বিচার  না হওয়া পর্যন্ত আমরা ক্ষ্যান্ত হবো না।

সমাবেশে পুলিশের মহাপরিদর্শক একেএম শহীদুল হক বলেন, আমরা তদন্তে স্বার্থে অনেক কিছু বলতে পারি না। পুলিশ নিরব নেই, তারা কাজ করে যাচ্ছে। পুলিশের প্রতি আপনাদের আস্থা রাখতে হবে। আমাদের তদন্তে যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। আপনারা শিগগিরই তা দেখতে পাবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর মুহম্মদ মিজানউদ্দিন বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাস একটু ভিন্নভাবে উপলব্ধি করা দরকার। দীর্ঘকাল ধরে এ বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে চক্রান্ত হয়ে আসছে। বিশ্ববিদ্যালয়কে ধ্বংস করার সব ধরনের কর্মপ্রয়াস নেওয়া হয়েছে। এই কর্মপ্রয়াসের সঙ্গে বাইরের শক্তি-ভেতরের শক্তিও জড়িত রয়েছে।

এসময় মন্ত্রীদের উদ্দেশে উপাচার্য বলেন, দীর্ঘমেয়াদী ও স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে বাঁচানোর চেষ্টা করুন। এরই একটি অনুষঙ্গ হচ্ছে এই হত্যকাণ্ডের বিচার।

বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি প্রফেসর ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সুরাহা না দেখা পর্যন্ত ঘর ফিরে যাবো না। যতক্ষণ না হত্যকারীদের বিচার হয় ততক্ষণ আন্দোলন চলবে।

রাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর শহীদুল্লাহ বলেন, আমরা সত্যিকার অর্থে আশ্বস্ত হতে চাই। উপস্থিত মন্ত্রীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করতে চাই, আপনারা যে আশ্বাস দিলেন তা দ্রুত কার্যকর করা হবে। আমরা ইতোমধ্যে ক্লাসে ফিরেছি, সেইসঙ্গে আন্দোলনও চালিয়ে যাচ্ছি।

প্রফেসর রেজাউল করিম সিদ্দিকীর মেয়ে রিজওয়ানা হাসিন শতভি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেও পিতৃহারা, তাই আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি বিচার পাবো। আমি চাই, সব অপরাধীদের সত্যিকার অর্থে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক।

রাবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর শাহ আজমের সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য প্রফেসর চৌধুরী সারওয়ার জাহান, শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর মাকসুদ কামাল, রাবির ইংরেজি বিভাগের সভাপতি ড. মাসউদ আখতার। 

সমাবেশে রাবি শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে প্রফেসর রেজাউল করিম সিদ্দিকীর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানানো হয়।

সমাবেশের শুরুতে প্রফেসর রেজাউল করিম সিদ্দিকীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহস্রাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং রাজশাহীর সর্বস্তরের নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশ শেষে তিনমন্ত্রী ও পুলিশের মহাপরিদর্শক নগরীর শালবাগান এলাকায় প্রফেসর রেজাউল করিম সিদ্দিকীর বাসায় গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান ও বিচারের আশ্বাস দেন।