আজ সোমবার, ২৯ মে, ২০১৭

সদ্য প্রাপ্তঃ

*** সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে সরিয়ে নেওয়া হল আলোচিত ভাস্কর্যটি * মধ্যরাতে ভাস্কর্য অপসারণের কাজ চলার মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের সামনে বিক্ষোভ * ‘চাপে পড়ে’ ভাস্কর্যটি সরানোর কথা বললেন ভাস্কর মৃণাল হক; তবে কার চাপ, তা বলেননি তিনি * খুলনা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদককে গুলি চালিয়ে হত্যা, গুলিতে তার সহকারীও নিহত * সরকার বিরোধী নেতা-কর্মীদের হত্যার মিশনে, বললেন খালেদা জিয়া * মাগুরায় জেলা প্রশাসককে ঘুষ দিতে গিয়ে ৫ লাখ টাকাসহ এক ব্যক্তি গ্রেপ্তার

Bangladesh Manobadhikar Foundation

Khan Air Travels

রবিবার সারাদেশে চেইন সুপারমার্কেট বন্ধ

জাতীয় ডেস্ক | তারিখঃ ১৪.০৫.২০১৬

বৈষম্যমূলক নীতিমালা ও হয়রানির প্রতিবাদে রবিবার (১৫ মে) সারাদেশে চেইন সুপারমার্কেট বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে ‘বাংলাদেশ সুপারমার্কেট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন’।

শনিবার সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মো. জাকির হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের সুপারমার্কেটগুলো খাদ্য ও পণ্যের আধুনিকতম সংরক্ষণ ও বিপণনের জন্য কাজ করে আসছে। কিন্তু আমরা দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, নীতিমালায় বৈষম্য ও অব্যাহত হয়রানির প্রতিবাদে রবিবার সারাদেশে আগোরা, মীনা বাজার, স্বপ্ন, প্রিন্স বাজার, ক্যারি ফ্যামিলি, শপ অ্যান্ড সেফ, আলমাস, আমানাসহ সব ধরনের সুপারমার্কেট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে ‘বাংলাদেশ সুপারমার্কেট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন’।
মো. জাকির হোসেন স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এই বিকাশমান খাতের সঙ্গে  হাজার-হাজার কর্মী, কৃষক ও উৎপাদনকারীর ভাগ্য জড়িয়ে রয়েছে। অথচ সুপারমার্কেট খাত একদিকে বৈষম্যমূলক নীতিমালার শিকার, অন্যদিকে ওই নীতির প্রয়োগকালেও আমরা অনর্থক হয়রানির শিকার হচ্ছি।  

বাংলাদেশে নিরাপদ খাদ্যের নিমিত্তে সরবরাহ পদ্ধতির সংস্কারে সুপারমার্কেট খাতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে উল্লেখ করে, সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সুপারমার্কেট খাত এদেশে কোল্ড চেইন থেকে শুরু করে খাদ্য সরবরাহ ও সংরক্ষণের আরও অনেক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির প্রবর্তক। সুপারমার্কেট থেকেই এদেশে নিরাপদ খাদ্যের বিস্তার ঘটেছে।

সুপারমার্কেট যেখানে নিরাপদ খাদ্যের ব্যাপারে দৃশ্যমান ভূমিকা রাখছে, তখন সেখানে কেবল ভ্রাম্যমাণ আাদালত নয়, পুলিশ-র‌্যাব ও মিডিয়া নিয়েও বারবার অভিযান চালানো হচ্ছে। অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে খাদ্য পরীক্ষার ফলে তাদের জরিমানাও করা হচ্ছে।  দেখে-শুনে মনে হয়, এ ধরনের অভিযানে সুপারমার্কেটগুলোকেই টার্গেট করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ক্রেতাদের কাছে ভুল বার্তা দেওয়া হচ্ছে।  যেন এই দোকানগুলোর উদ্দেশ্যই হচ্ছে, পচা বা ভেজাল পণ্য বিক্রি করা। যে সব কোম্পানি প্রচুর টাকা বিনিয়োগ করে, তাদের অবকাঠামো ও ব্র্যান্ড তৈরি করেছে, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে এমন কোনও কাজ করবে না, যার ফলে তারা ক্রেতাদের আস্থা হারাবে।  

এরপরও সুপারমার্কেটে একেক সময় একেকটি কর্তৃপক্ষ মিডিয়াসহ বিশাল বহর নিয়ে অভিযানে আসে। অবস্থা দৃষ্টে মনে হয়, খাদ্যের গুণগত মানের চেয়ে মিডিয়ায় প্রচারণাই তাদের প্রধান উদ্দেশ্য। না যে সুপারমার্কেটকে তারা নিরাপদ খাদ্য আন্দোলনে অনায়াসেই সঙ্গী হিসেবে পেতে পারেন, তাদের এভাবে অনর্থক প্রতিপক্ষ বানানো খুবই দুঃখজনক বলেও সংবাদ বিজ্ঞাপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।  

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, উৎপাদন ও সরবরাহের ক্ষেত্রে ভেজাল নিরোধে কার্যকর কোনও পদক্ষেপ না নিয়ে কেবল সুপারমার্কেট বা নামিদামি দোকানে হানা দিয়ে খাদ্যের শুদ্ধতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এ ধরনের প্রচারমুখী তৎপরতার মধ্য দিয়ে প্রকৃত অপরাধীদের ছাড় দেওয়া হচ্ছে। জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। একইসঙ্গে একটি বিকাশমান খাতকে হয়রানি করা হচ্ছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের পাশাপাশি বৈষম্যমূলক ভ্যাট ও ট্যাক্স-ডিউটি কাঠামোর কারণেও সুপারমার্কেটগুলো এখন রীতিমতো জর্জর।  এককালের অনেক জনপ্রিয় দোকান বন্ধ হয়ে গেছে। গত ১৫ বছরে নিকটবর্তী দেশ ভারত ও শ্রীলঙ্কায় সুপার মার্কেটের সংখ্যা যথাক্রমে ১০০ ও ২০০ থেকে বেড়ে যথাক্রমে ৩০০০ ও ১০০০ অতিক্রম করেছে।  বাংলাদেশে একই সময়ে যত নতুন দোকান খোলা হয়েছে, ঠিক ততগুলো বন্ধও হয়েছে। সরকারের সর্বোচ্চ-নীতিনির্ধারকেরা যখন দেশে বিনিয়োগ বাড়াতে চেষ্টা করছেন, তখন ওই নীতি প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের একাংশের কারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় খাতে বিনিয়োগ বিঘ্নিত হচ্ছে।

রবিবার সুপারমার্কেট বন্ধ রাখার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল কিন্তু আইনের অপপ্রয়োগ থেকে আমরা মুক্তি চাই। আমাদের কর্মীদের জন্যে আমরা কাজের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন পরিবেশ চাই। বিনিয়োগের যথাযথ মূল্যায়ন ও মর্যাদা চাই। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে আমরা আমাদের সমস্যা নিরসনের জন্যে আবেদন জানাচ্ছি। আমরা আশা করি, দোকান বন্ধের মতো অভূতপূর্ব ঘটনার মধ্য দিয়ে আমরা শীর্ষ নীতিনির্ধারক ও ক্রেতা সাধারণের সামনে আমাদের সংকটের গভীরতা তুলে ধরতে পারব।সব মহলের সহযোগিতায় এদেশে ব্যাপক কর্মসংস্থানসহ নিরাপদ খাদ্যের জন্যে উপযোগী একটি অত্যাধুনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।  সেই উদ্দেশ্য সফল করার জন্য আমরা সব নীতি প্রণয়ন ও প্রয়োগকারী সংস্থার সুদৃষ্টি চাই।