Print
বিভাগঃ জাতীয়

প্রথমবারের মতো ‘সেরা সাঁতারুর খোঁজে বাংলাদেশ’ ১৯ মে শুরু হচ্ছে

জাতীয় ডেস্ক | তারিখঃ ১৪.০৫.২০১৬

বাংলাদেশ সুইমিং ফেডারেশন ও নৌবাহিনীর যৌথ উদ্যোগে দেশে প্রথমবারের মত শুরু হচ্ছে সাঁতারু অন্বেষণ প্রতিযোগিতা ‘সেরা সাঁতারুর খোঁজে বাংলাদেশ’।

জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপি আগামী ১৯ মে সকাল ১১ টায় মিরপুর সৈয়দ নজরুল ইসলাম জাতীয় সুইমিং কমপ্লেক্সে এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করবেন। এই প্রতিযোগিতার প্রথম পর্বের ঢাকা জেলার বাছাই ১৯ মে মিরপুরস্থ সৈয়দ নজরুল ইসলাম জাতীয় সুইমিং কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত হবে। আজ শনিবার জাতীয় সুইমিং কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় সুইমিং ফেডারেশনের সভাপতি এবং নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ একথা জানিয়েছেন। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে,এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে দেশের ৬৪টি জেলার ৪৮৯টি উপজেলা হতে বাছাইকৃত সেরা সাঁতারুদের ঢাকায় এনে দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। সারাদেশের প্রায় ২৫ হাজার সাঁতারু এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবে। প্রতিযোগিতাটি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের জন্য ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ সুইমিং ফেডারেশন এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে বিভিন্ন কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিযোগিতার প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে ঢাকা নৌ অঞ্চলের প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ কমডোর সৈয়দ মকছুমুল হাকিম এবং সহকারী সমন্বয়কারী হিমেবে সুইমিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ রফিজ উদ্দিন রফিজ দায়িত্ব পালন করবেন। আইএসপিআর আরও জানিয়েছে, এই প্রতিযোগিতায় বয়সভিত্তিক ৪টি গ্রুপ থাকবে।

এতে ১১-১২ বছর, ১৩-১৫ বছর, ১৫-১৭ বছর এবং ১৮ থেকে তদুর্ধ বয়সী নারী-পুরুষ সাঁতারু অংশগ্রহণ করতে পারবেন। প্রতিযোগিতার প্রথম পর্যায়ের বাছাই পর্ব আগামী ১৯ মে থেকে শুরু হয়ে ২ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। এই পর্বে প্রতিটি উপজেলা হতে ৪৮ জন সাঁতারু বাছাই করে জেলা পর্যায়ে আনা হবে। পরবর্তীতে জেলা পর্যায়ে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে প্রতিটি জেলা হতে ১০ থেকে ২০ জন সাঁতারু নির্বাচন করা হবে। এভাবে ৬৪ টি জেলা হতে মোট ১০০০ জন প্রতিভা সম্পন্ন সাঁতারু বাছাই করে ঢাকায় আনা হবে। প্রথম পর্বে জেলা প্রতি ২০ জন সেরা সাঁতারুকে মেডেল, সার্টিফিকেট ও নগদ অর্থ পুরস্কার দেওয়া হবে। প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় পর্বে ১০০০ জনের মধ্যে পুনরায় প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ১৬০ জনকে নির্বাচিত করে বিদেশী প্রশিক্ষকের মাধ্যমে ৩ মাসব্যাপী নিবিড় প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। ২য় পর্বে সেরা ১৬০ জনের প্রত্যেককে মেডেল, সার্টিফিকেট ও নগদ অর্থ প্রদান করা হবে। আইএসপিআর জানায়, প্রশিক্ষণ শেষে চূড়ান্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ১৬০ জন হতে সেরা ৬০ জন সাঁতারু নির্বাচন করা হবে। এই সেরা ৬০ জন সাঁতারুর প্রত্যেককে মেডেল, সার্টিফিকেট ও নগদ অর্থ পুরস্কার দেওয়া হবে। তাছাড়া এদের মধ্যে ৪টি ইভেন্টের সেরা ৪ জন নারী এবং ৪ জন পুরুষ সাঁতারুকে ৫ লক্ষ করে টাকা প্রদান করা হবে। এভাবে তিনটি পর্বে সর্বমোট ৬৫ লক্ষ টাকার পুরস্কারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সেরা ৬০ জন সাঁতারু বাংলাদেশ সুইমিং ফেডারেশনে যোগ দিবেন এবং তাদেরকে বিশ¡ মানের সাঁতারু হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে দীর্ঘ মেয়াদি প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।

তাছাড়া তাদের লেখাপড়ার ব্যবস্থাসহ যাবতীয় ব্যয়ভার সুইমিং ফেডারেশনের পক্ষ থেকে বহন করা হবে। প্রতিযোগিতার বিস্তারিত তথ্য ও সময়সূচী এর ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। এছাড়া একটি কল সেন্টারও (০৯৬৭৮-৮০০৭০০) খোলা হয়েছে যেখানে সকাল ৯টা হতে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ফোন করে প্রতিযোগীরা সব ধরণের তথ্য জানতে পারবে। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে অনলাইনে অথবা কল সেন্টারের মাধ্যমে প্রতিযোগিতার আগের দিন পর্যন্ত রেজিস্ট্রেশন করা যাবে। এছাড়া প্রতিযোগিতার দিনে অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হয়েও রেজিস্ট্রেশন করা যাবে। ৪টি বয়স বিভাগে (১১-১২, ১৩-১৫, ১৫-১৭ এবং ১৮ বছর ও তদুর্ধ) শারীরিক ভাবে সুস্থ সকল নারী-পুরুষ এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবে। প্রতিযোগিতার দিন প্রার্থীদেরকে সাঁতার উপযোগী পোশাক, জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধন বা চেয়ারম্যান সনদপত্র এর প্রতিলিপি এবং অনলাইন বা কল সেন্টারে রেজিস্ট্রেশনকৃত নাম্বার/কাগজ সাথে আনতে হবে।