Tuesday 6th of December 2016

সদ্য প্রাপ্তঃ

***ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের ছয়বারের মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতা মারা গেছেন বলে খবর স্থানীয় টিভির, হাসপাতালের অস্বীকার * আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার ড. তুরিন আফরোজের বাবা তসলিমউদ্দিন আহমেদ (৭২) ল্যাবএইড হাসাপাতালে লাইফ সাপোর্টে***

Bangladesh Manobadhikar Foundation

Khan Air Travels

UCB Debit Credit Card

সুপ্রিম কোর্টে লিগ্যাল এইড মামলায় ওকালতনামার ফি মওকুফ

জাতীয় ডেস্ক | তারিখঃ ১৫.০৫.২০১৬

সুপ্রিম কোর্টে লিগ্যাল এইড কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত মামলাসমূহে ওকালতনামার ফি মওকুফের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি (সুপ্রিমকোর্ট বার) কর্তৃক এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। সুপ্রিমকোর্ট বার-এর এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী লিগ্যাল এইড কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত মামলায় ওকালতনামায় লিগ্যাল এইড অফিসের একজন অথরাইজড কর্মকর্তার সীল ও স্বাক্ষর এবং সুপ্রিমকোর্ট বার-এর ‘ওকালতনামা ফি মওকুফ সীল’-থাকতে হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (প্রশাসন ও বিচার) মো: আজিজুল হক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়। যা সুপ্রিমকোর্টের ওয়েবসাইটেও রয়েছে। অসমর্থ বিচারপ্রার্থীগণ সুপ্রিমকোর্টে বিনা খরচে আইনী সুবিধা পাচ্ছেন। এলক্ষ্যে গত বছর ৮ সেপ্টেম্বর প্রধান বিচারপতি সুপ্রিমকোর্টে লিগ্যাল এইড স্থাপন করেছেন। এ লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে উচ্চ আদালতে দেওয়ানি ও ফৌজদারি আপিল, রিভিশন, জেল আপিল, লিভ-টু-আপিল ও রিট মামলায়ও সরকারি খরচে আইনী সেবা দেয়া হচ্ছে। সুপ্রিমকোর্টের লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম। সুপ্রিমকোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটির সদস্য সচিব সহকারী এটর্নি জেনারেল টাইটাস হিল্লোল রেমা জানান, বিচারিক (নিম্ন) আদালতের কোনো রায় বা আদেশে সংক্ষুব্ধ কোনো ব্যক্তি যদি সুপ্রিমকোর্টে মামলা পরিচালনা করতে আগ্রহী হন, আর সেক্ষেত্রে যদি ওই ব্যক্তির বার্ষিক গড় আয় দেড় লক্ষ টাকার নিচে হয়, তাহলে তিনি সুপ্রিমকোর্ট লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে উচ্চ আদালতে আইনী সেবা নিতে পারছেন। অসমর্থ বিচারার্থীদের আইনি সেবা দিতে সুপ্রিমকোর্টের ৮৩ জন আইনজীবী নিযুক্ত রয়েছেন।

সুপ্রিমকোর্টের রেজিষ্ট্রার জেনারেল সৈয়দ আমিনুল ইসলাম জানান, সুপ্রিমকোর্টে লিগ্যাল এইড অফিস স্থাপনের পর ২০১৫ সালের মার্চ মাস থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ২১০টি মামলা লিগ্যাল এইডের জন্য আবেদন করে। এর মধ্যে ১৭১ মামলা লিগ্যাল এইডের আওতায় আসে। এর মধ্যে ৭৪টি মামলা চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হয়ে গেছে ও ৯৭টি মামলা এখনো চলমান রয়েছে। দেশে বিচার ব্যবস্থায় অতীতে আইনগত সহায়তার কোনো ব্যবস্থা ছিল না। মানুষের সব মৌলিক অধিকারের পাশাপাশি বিচার পাওয়ার অধিকারও প্রতিষ্ঠিত করতে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করে। গত ২৮ এপ্রিল দেশে চতুর্থবারের মতো ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস’ পালিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে ‘জাতীয় আইনগত সুবিধা প্রদান দিবসের’ অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী লিগ্যাল এইড কল সেন্টার জাতীয় হেল্পলাইনের উদ্বোধন করেন। এ হেল্পলাইনে ১৬৪৩০ নম্বরে ফোন করে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদানকারী সংস্থার মাধ্যমে বিনামূল্যে আইনী সহায়তা পাবেন দেশের স্বল্প আয়ের ও অসহায় বিচারপ্রার্থী নাগরিকরা।

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল, সহায় সম্বলহীন, অসমর্থ বিচারপ্রার্থী জনগণকে সরকারি খরচে আইনী সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে ‘আইনগত সহায়তা প্রদান আইন-২০০০’ প্রণয়ন করে। ২০০০ সালে তৎকালীন শাসন আমলে আইনটি প্রণয়ন করে আওয়ামী লীগ। তারপরের সরকারগুলো আইনটি কার্যকরে উল্লেখযোগ্য কোন পদক্ষেপ নেয়নি। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর আওয়ামী লীগ দরিদ্র ও অসচ্ছল জনগণের বিচারপ্রাপ্তি নিশ্চিতে আইনটি কার্যকরে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং তা অব্যাহত রয়েছে। ২০০০ সালে প্রণীত আইনটি অনুযায়ী ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা’ গঠন করা হয়। রাজধানীর ১৪৫, নিউ বেইলী রোডে এ সংস্থার প্রধান কার্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। এর ব্যাপ্তি সুপ্রিমকোর্ট, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত নেয়া হয়। জেলা কমিটি গঠন, প্রতিটি জেলা জজ আদালতে এর কার্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। এতে দরিদ্র-অসচ্ছল ও অসহায় জনগণ বিচারপ্রাপ্তিতে সুবিধা পাচ্ছে। নানা প্রচার, প্রচরণা, সেমিনার ও কর্মশালা আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ সেবা বিষয়ে জনসচেতনতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার নিজস্ব ওয়েবসাইট রয়েছে। এ ওয়েবসাইটে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান বিষয়ে বিস্তারিত সকল তথ্য জানা যায়।