Nabodhara Real Estate Ltd.

Khan Air Travels

Premier Bank Ltd

বিএনপি কেন্দ্রীয় নেতাদের দখলে একাধিক পদ

বিডিনিউজডেস্ক.কম | তারিখঃ ১৮.১০.২০১৫

দলে প্রভাবশালী নেতাদের একাধিক পদ-পদবী দখলে রাখার অচলায়তন ভাঙতে পারছে না বিএনপি।

বছরের পর বছর ধরে চলছে। এলোমেলো দশায় কেন্দ্র থেকে মাঠ। কেন্দ্রের নেতা মানেই তার দখলে একাধিক দলীয় পদ। তিনি জেলা কমিটির নেতা আবার কেন্দ্রেরও। বহুকাল অধিকাংশ নেতাই আঁকড়ে রেখেছেন দুই এর অধিক বিভিন্ন স্তরের পদ। একাধিক পদ ছেড়ে দেয়ার ব্যাপারে বিএনপি হাইকমান্ডের নির্দেশ মানেন না দলের কোন নেতা। তারা বিভিন্ন অজুহাতে পদ দখল করে আছেন। বিভিন্ন কমিটিতে পদ পেতে যারা নিত্য লবিং-তদবিরে ব্যস্ত তাদের অভিযোগ, পদবিন্যাসে বৈষম্যের কারণে তাদের ‘অর্থ’ দিয়েও পদ কিনতে হয়।’ ‘পকেট কমিটি’তে ঢুকতে হয়। এক নেতা একাধিক পদ দখলে না রাখলে যোগ্যরাই ঠাঁই পেতেন ভালো পদে। তখন তদবিরে টাকাও ঢালতে হতো না। দৌড়ঝাঁপও করতে হতো না। বছরের পর বছর ধরে পদবঞ্চিত হয়ে থাকতে হতো না  মাঠ পর্যায়ের অনেক ত্যাগী যোগ্য নেতাকর্মীদের।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার সঙ্গে সঙ্গে জেলা কমিটির শীর্ষ পদও দখল করে আছেন অনেক নেতা। মূলত: নির্বাচনী এলাকায় নিজের প্রভাব ধরে রাখতেই তারা এসব পদ আঁকড়ে আছেন।
বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে তারা বলেছেন, একজন একাধিক পদে আছেন, তারা পদ ছাড়ছেন না। একাধিক পদ ধরে রাখার জন্য নেতারা মাঠ পর্যায়ে গ্রুপিং তৈরি করেন। এতে সংঘাত লেগেই আছে। সৃষ্টি হচ্ছে না নতুন নেতার।
ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দলসহ অন্য অঙ্গ সংগঠনগুলোতে এখন নেতৃত্বের জট সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে দলের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ফলে নতুনরা জায়গা করতে পারছে না দলের কোনো কমিটিতে। এর ফলে তৃণমূলের অনেক দক্ষ নেতা লোকচক্ষুর আড়ালেই ঝরে পড়ছেন। হাইকমান্ড একাধিক পদ ছাড়ার নির্দেশ দিলেও কিছুদিন পর হাইকমান্ড তা ভুলে যায়।
দলের একজন নেতা জানান, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ‘এক নেতা-এক পদ’ নীতিতে বিশ্বাস করতেন। তার সময়ে কোন নেতাকে একাধিক পদে থাকতে দেয়া হয়নি। বিএনপির গঠনতন্ত্রে এক নেতার একাধিক পদে থাকার বিধান নেই। গঠনতন্ত্র ১১ অনুচ্ছেদ এ উল্লেখ আছে: ‘একই ব্যক্তি দলের একাধিক স্তরে সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হতে নিরুত্সাহিত করা।’
বিএনপি দফতরের তালিকা অনুযায়ী, বর্তমানে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের অধীনেই আছে ৫টি পদ। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের ‘ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব’। দলের মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন মারা যাওয়ার পর থেকে আছেন এই দায়িত্বে। পদাধিকার বলে তিনি স্থায়ী কমিটির সদস্য। ৯ বছর ধরে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতিও তিনি। মির্জা ফখরুল নিজ জেলা ঠাকুরগাঁও বিএনপির সভাপতির দায়িত্বেও আছেন প্রায় একযুগ ধরে। দলের গঠনতন্ত্রে ‘ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব’ নামে কোনো পদ নেই। তাই তাকে বেগম খালেদা জিয়া দেশে ফিরে কাউন্সিল অথবা বিশেষ ক্ষমতাবলে ভারমুক্ত করবেন বলে জানা গেছে।
অন্য সিনিয়র নেতাদের মধ্যে স্থায়ী কমিটির প্রভাবশালী সদস্য মির্জা আব্বাস আছেন দুই শীর্ষ পদে। ‘স্থায়ী কমিটির সদস্য’ এবং ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক।
মজিবর রহমান সরোয়ারের দখলে আছে তিন পদ। তিনি দলের সাংগঠনিক সম্পাদক, শ্রমিক দলের উপদেষ্টা, বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি।
শামসুজ্জামান দুদু আছেন তিন পদে। সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু তিন পদে। কেন্দ্রীয় কমিটির গ্রাম সরকার-বিষয়ক সম্পাদক। লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সভাপতি।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর দুই পদ। চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আর চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি। ফজলুল হক মিলন দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আবার গাজীপুর জেলা বিএনপিরও সভাপতি।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান একই সঙ্গে ঢাকা জেলা বিএনপিরও সাধারণ সম্পাদক। ঢাকা জেলা বিএনপির বর্তমান সভাপতি আবদুল মান্নান একই সঙ্গে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা। ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা। সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি। চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি।
রাবেয়া চৌধুরী দলের কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান। একই সঙ্গে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি। বিএনপির প্রশিক্ষণ-বিষয়ক সম্পাদক কবির মুরাদ মাগুরা জেলা বিএনপির সভাপতি। একই সঙ্গে তিনি জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি। সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী কেন্দ্রীয় বিএনপির ত্রাণ ও পুনর্বাসন-বিষয়ক সম্পাদক। তিনি আবার কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সভাপতি।
ফরিদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাদা মিয়া বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-শিল্পবিষয়ক সম্পাদক। গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক-বিষয়ক সম্পাদক অন্যদিকে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সভাপতি। যুগ্ম মহাসচিব মো. শাহজাহান নোয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি। যুগ্ম মহাসচিব মিজানুর রহমান মিনু রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি। যুগ্ম মহাসচিব সালাউদ্দিন আহমেদ কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি। রাজশাহী জেলা বিএনপির সভাপতি নাদিম মোস্তফা কেন্দ্রীয় কমিটির বিশেষ সম্পাদক পদে রয়েছেন।
দলের ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী একই সঙ্গে পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি। খায়রুল কবির খোকন কেন্দ্রীয় কমিটির শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক অন্যদিকে নরসিংদী জেলা বিএনপির সভাপতি। আবুল খায়ের ভূঁইয়া কেন্দ্রীয় কমিটির সমাজ কল্যাণ-বিষয়ক সম্পাদক একই সঙ্গে লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি এবং ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য।
রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক ও নাটোর জেলা বিএনপির সভাপতি। স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেল কেন্দ্রীয় কমিটির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক। আবার ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব। দলের সহ-আইন বিষয়ক সমপাদক অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি।
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল অব. মাহবুবুর রহমান ইত্তেফাককে এ প্রসঙ্গে বলেন, একজনের একাধিক পদে থাকা ঠিক না। এতে করে নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি বাধা পাচ্ছে। দলের হাইকমান্ড এব্যাপারে একাধিকবার নির্দেশ দিলেও কাজ হয়নি। তিনি বলেন, নিয়মিত কাউন্সিল হলে এই সমস্যা হতো না। একজন অনেকগুলো পদে থাকবেন আর যারা যোগ্য তারা পদ পাবেন না, এটা হওয়াও ঠিক না।