আজ মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৭

সদ্য প্রাপ্তঃ

*** ময়মনসিংহে সুটকেসের ভেতর যুবকের লাশ * ঢাবি অধিভুক্ত ৭ কলেজের মাস্টার্স পরীক্ষা স্থগিত * দিনাজপুরে বজ্রপাতে নিহত ৬ * দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়ছে 'সুপার ম্যালেরিয়া' * রিয়ালের পথের ইতি টানতে চান বেনজেমা * মধ্যবাড্ডায় অগ্নিকাণ্ডে মায়ের মৃত্যু, ২ সন্তান দগ্ধ * পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই: বাড়ছে ক্ষোভ, ঝিমিয়ে পড়া

Bangladesh Manobadhikar Foundation

Khan Air Travels

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | তারিখঃ ০৯.১১.২০১৭

খাবারের স্বাদ বৃদ্ধি করে লেবু। লেবুর সুঘ্রাণ আপনাকে সতেজতা দেয়। সুস্থতার জন্য অনেকেই সকালে লেবু পানি পান করে থাকেন।

কিন্তু বেশিরভাগ মানুষই লেবুর রস চিপে বের করার পর লেবুর খোসাটা ফেলে দেন। এই ভুলটাই আমরা করে থাকি। কারণ লেবুর খোসার আছে কিছু চমৎকার উপকারিতা এবং লেবুর রসের চেয়ে ৫-১০ গুণ বেশি ভিটামিন আছে লেবুর খোসায়।  লেবুর খোসা ক্যালসিয়াম ও পটাসিয়ামের মত খনিজ উপাদান, ফাইবার ও ভিটামিনে সমৃদ্ধ। এছাড়াও এতে স্বাস্থ্যকর কিছু এনজাইমও থাকে। এর জাদুকরী গুণের কথা জানলে আর আপনি একে ফেলে দিতে পারবেন না। চলুন তাহলে জেনে নিই লেবুর খোসার জাদুকরী সেই গুনাগুণের বিষয়ে।  

১। ক্যান্সার প্রতিরোধ করে

অবাক হচ্ছেন? হ্যাঁ ক্যান্সার প্রতিরোধ ও চিকিৎসার ঔষধে ব্যবহার করা হয় লেবুর খোসা। এতে সাল্ভেস্টর কিউ ৪০ এবং লিমোনেন থাকে যা ক্যান্সার কোষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে সাহায্য করে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, চায়ের সাথে লেবুর খোসা গ্রহণ করলে ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি প্রতিহত করা যায়। শরীরে এসিডের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে ক্যান্সার কোষ দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে। কিন্তু লেবুর খোসা ক্ষারীয় প্রকৃতির বলে শরীরে pH এর ভারসাম্য রক্ষা করে।

২। হাড়ের জন্য উপকারী

লেবুর খোসায় উচ্চমাত্রার ভিটামিন সি এবং ক্যালসিয়াম থাকে। তাই এটি হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটাতে সাহায্য করে। এছাড়াও লেবুর খোসা হাড় সংক্রান্ত অন্যান্য রোগ যেমন- ইনফ্লামেটরি পলিআরথ্রাইটিস, অষ্টিওপোরোসিস এবং রিওমাটয়েড আরথ্রাইটিসের মত রোগ প্রতিরোধেও সাহায্য করে।

৩। মুখের স্বাস্থ্য সুরক্ষায়

ভিটামিন সি এর ঘাটতির ফলে দাঁত সংক্রান্ত সমস্যা যেমন – স্কার্ভি, জিঞ্জিভিট এবং দাঁতের মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়ার মত রোগ হয়ে থাকে।  লেবুর খোসা সাইট্রিক এসিডে সমৃদ্ধ বলে ভিটামিন সি এর ঘাতটি পূরণে সাহায্য করে এবং দাঁতের সাধারণ সমস্যাগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে সাহায্য করে।

৪। ওজন কমতে সাহায্য করে

লেবুর খোসা গ্রহণ করা ওজন কমতে সাহায্য করে।  কারণ লেবুর খোসায় পেকটিন নামক উপাদান থাকে। পেকটিন ওজন কমানোর গতি বৃদ্ধির জন্য দায়ী বলে লেবুর খোসা খেলে ওজন কমে।

৫। স্ট্রেস কমায়

লেবুর খোসায় উচ্চমাত্রার সাইট্রাস বায়ো ফ্ল্যাভনয়েড থাকে, যা শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস  কমাতে সাহায্য করে।

৬। কোলেস্টেরল কমায়

লেবুর খোসায় পলিফেনল ফ্ল্যাভনয়েড থাকে। এটি আমাদের শরীরের কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য জরুরী। লেবুর খোসায় যে পটাসিয়াম থাকে তা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এটি স্ট্রোক এবং হৃদরোগ প্রতিরোধেও সাহায্য করে।  

৭। ত্বকের সমস্যার সমাধানে

ব্রণ, বলিরেখা, ড্রাক স্পট এবং পিগমেন্টেশনের মত ত্বকের সমস্যা প্রতিরোধে এবং এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে সাহায্য করে লেবুর খোসা। এছাড়াও লেবুর খোসায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা ত্বককে ডিটক্সিফাই হতেও সাহায্য করে।

৮। ইমিউনিটি এবং পরিপাকে সাহায্য করে

স্বাস্থ্যকর পরিপাককে উৎসাহিত করে ডায়াটারি ফাইবার মলের পরিমাণ বৃদ্ধি করার মাধ্যমে, যা লেবুর খোসায় পাওয়া যায়। ভিটামিন সি সংক্রমণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে সাহায্য করে।

৯। রক্তনালীকে শক্তিশালী করে

লেবুর খোসায় ভিটামিন পি থাকে যা অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ প্রতিরোধ করে এবং উচ্চ রক্তচাপের নিরাময়ের জন্যও উপকারী।

এই গুণগুলো জানার পরে আর কী ফেলে দিতে পারবেন লেবুর খোসা? নিশ্চয়ই না।